ক্রীড়া ডেস্ক
মাইকেল ক্যারিক ছবি: বিবিসি
ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের অন্তর্বর্তীকালীন কোচ হিসেবে মাইকেল ক্যারিক নিজের যোগ্যতা প্রমাণে কোনো কমতি রাখেননি। আগামী মৌসুমে ক্লাবের প্রধান কোচের দায়িত্বে কে থাকবেন, সেই সিদ্ধান্ত নিতে মালিকপক্ষ কিছুটা সময় নিলেও ক্যারিকের পারফরম্যান্স তাঁর দাবিকে জোরালো করছে।
জানুয়ারি মাসে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে ক্যারিকের অধীনে ১৩টি ম্যাচের মধ্যে ৯টিতেই জিতেছে ইউনাইটেড। ৩৯ পয়েন্টের মধ্যে ২৯ পয়েন্ট পকেটে পুরে টেবিলের সপ্তম স্থান থেকে দলকে তিনে তুলে এনেছেন তিনি। গত সোমবার ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে ব্রেন্টফোর্ডকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে ফেরার পথে অনেকটা এগিয়ে গেছে ক্লাবটি। আর মাত্র দুই পয়েন্ট পেলেই ইউরোপের সেরা এই আসরে খেলা নিশ্চিত হবে তাদের।
ব্রেন্টফোর্ডের বিপক্ষে ম্যাচে ইউনাইটেডের আক্রমণাত্মক ফুটবলের যেমন ঝলক দেখা গেছে, তেমনি রক্ষণভাগের দুর্বলতাও ফুটে উঠেছে। তবে দ্বিতীয়ার্ধে কৌশল পরিবর্তন করে রক্ষণভাগে তিনজন খেলোয়াড় খেলানোর যে সিদ্ধান্ত ক্যারিক নিয়েছেন, তা তাঁর দূরদর্শিতারই প্রমাণ দেয়। লিভারপুলের বিপক্ষে আগামী রোববার জয় পেলেই চ্যাম্পিয়ন্স লিগের টিকিট গাণিতিকভাবে নিশ্চিত হয়ে যাবে।
সেরা তিনের ভূমিকা
ম্যাচটিতে ব্রুনো ফার্নান্দেজ, ক্যাসেমিরো এবং উদীয়মান তারকা কোবি মাইনুর পারফরম্যান্স ছিল চোখে পড়ার মতো।
কোবি মাইনুর জাদু:মাত্র ৩ মিনিটের মাথায় ব্রেন্টফোর্ডের তিন ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে গোলের সুযোগ তৈরি করে দেন তিনি। ক্যারিক তাঁর এই অলরাউন্ড নৈপুণ্যের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন।
ক্যাসেমিরোর অভিজ্ঞতা: ম্যাচের ১১ মিনিটে গোল করে দলকে এগিয়ে নেন এই অভিজ্ঞ ফুটবলার। আগামী মাসে তাঁর সম্ভাব্য বিদায়ে মাঝমাঠে যে শূন্যতা তৈরি হবে, তা পূরণ করা ক্লাবের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হবে।
ফার্নান্দেজের নেতৃত্ব: অধিনায়ক ফার্নান্দেজ এই মৌসুমে নিজের ১৯তম গোলে সহায়তা করে রেকর্ডের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গেছেন। তাঁর সৃজনশীলতা ও নেতৃত্ব দলকে আগলে রেখেছে।
ক্লাব কর্তৃপক্ষ নতুন কোচের সন্ধানে থাকলেও ক্যারিক তাঁর দায়িত্ব শতভাগ পালন করেছেন। তিনি নিজেও জানিয়েছেন, চ্যাম্পিয়ন্স লিগ অর্জন করাই শেষ কথা নয়, ক্লাবের আরও অনেক উন্নতির জায়গা আছে। এখন দেখার বিষয়, ক্লাব কর্তৃপক্ষ ঘরের ছেলের হাতেই স্থায়ীভাবে দলের চাবিকাঠি তুলে দেয় কি না।