নিজস্ব প্রতিবেদক
জাতীয় আইনগত সহায়তা দিবসে যশোরে বর্ণাঢ্য র্যালি ছবি: ধ্রুব নিউজ
যশোরের সিগ্ধ সকালের আকাশে উড়ল একঝাঁক সাদা পায়রা আর রঙিন ফেস্টুন। সেই রঙিন ছটায় প্রতিফলিত হলো বিচারপ্রার্থী সাধারণ মানুষের এক আকাশ সমান প্রত্যাশা। “সরকারি খরচে বিরোধ শেষ, সবার আগে বাংলাদেশ”—এই প্রত্যয়কে বুকে নিয়ে যশোরে পালিত হলো ‘জাতীয় আইনগত সহায়তা দিবস’।
মঙ্গলবার বর্ণাঢ্য র্যালি ও আলোচনা সভার মাধ্যমে সাধারণ মানুষের বিচার পাওয়ার অধিকারের কথাটিই নতুন করে স্মরণ করে দিলেন সংশ্লিষ্টরা।
দিনের শুরুতেই যশোর জেলা ও দায়রা জজ আদালত প্রাঙ্গণ এক উৎসবমুখর পরিবেশ ধারণ করে। কবুতর ও বেলুন উড়িয়ে দিবসের শুভ সূচনা করেন সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ এবং জেলা লিগ্যাল এইড কমিটির চেয়ারম্যান মাহমুদা খানম। উদ্বোধনের পরপরই শুরু হয় এক বর্ণাঢ্য র্যালি।
শহরের আইনজীবী ভবন মোড় ও দড়াটানার প্রধান সড়কগুলো প্রদক্ষিণ করে র্যালিটি জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে আলোচনা সভায় মিলিত হয়। র্যালি শামিল বিচারক, আইনজীবী আর নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ। প্রত্যেকের কণ্ঠেই ছিল প্রান্তিক মানুষের জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিতের অঙ্গীকার।
নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক ডক্টর আতোয়ার রহমান, স্পেশাল জজ এস এম নূরুল ইসলাম, চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট জাহিদ আহমদ, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ইরুফা সুলতানা, জেলা লিগ্যাল এইড অফিসার ও সিনিয়র সহকারী জজ নিলুফার ইয়াসমিন, সিনিয়র সহকারী জজ নিশাত সুলতানা, আইনজীবী নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও পিপি অ্যাডভোকেট সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু, সাধারণ সম্পাদক এম এ গফুর, সাবেক সভাপতি নজরুল ইসলাম, মোহাম্মদ ইসহক, দেবাশীষ দাস ও কাজী ফরিদুল ইসলাম।
এছাড়া প্রেসক্লাব যশোরের সভাপতি জাহিদ হাসান টুকুন, ব্লাস্ট যশোরের সমন্বয়ক হুমায়ুন কবির, জুলাই বিপ্লবের শহীদ সোহানুর রহমান শিহাবের পিতা হোসেন লালটু এবং বিচারপ্রার্থী সেলিনা আক্তার তুলি কর্মসূচিতে অংশ নেন। পুরো অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সহকারী জজ চয়ন বালা ও বৈশাখী রাণী কর্মকার।
বক্তারা একটি বিশেষ বিষয়ের ওপর জোর দেন—বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি। অর্থাৎ, সব ঝামেলা নিয়ে আদালত পর্যন্ত দৌড়ানোর প্রয়োজন নেই। আলাপ-আলোচনা আর সমঝোতার মাধ্যমে দ্রুত সমাধান সম্ভব হলে ভোগান্তি কমে এবং সামাজিক সম্প্রীতি বজায় থাকে।