ক্রীড়া ডেস্ক
মরক্কো ফুটবল দল ছবি: আল জাজিরা
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং ভূ-রাজনৈতিক টানাপোড়েনের কারণে ২০২৬ বিশ্বকাপে ইরানের অংশগ্রহণ নিয়ে যে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছিল, তার অবসান ঘটিয়েছেন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। সব জল্পনা-কল্পনা উড়িয়ে দিয়ে তিনি নিশ্চিত করেছেন, নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্রেই মাঠে নামবে ইরান।
সম্প্রতি সিএনবিসি আয়োজিত এক অর্থনৈতিক সম্মেলনে ইনফান্তিনো বলেন, "ইরান অবশ্যই বিশ্বকাপে আসবে। তারা তাদের জনগণের প্রতিনিধিত্ব করে এবং যোগ্যতার মাধ্যমেই তারা জায়গা করে নিয়েছে। খেলোয়াড়রা খেলতে মুখিয়ে আছে।"
তিনি আরও যোগ করেন, "খেলাধুলা রাজনীতির বাইরে থাকা উচিত। যদি অন্য কেউ সেতুবন্ধন তৈরিতে ব্যর্থ হয়, তবে ফিফা সেই দায়িত্ব পালন করবে। আমরা আশা করি ২০২৬ নাগাদ পরিস্থিতি শান্ত হয়ে আসবে।"
ইরানের বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয় গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা চালানোর পর। পাল্টা জবাব হিসেবে ইরান টুর্নামেন্ট বয়কটের হুমকি দেয়। পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি বক্তব্যে। তিনি ইরানি খেলোয়াড়দের নিরাপত্তার অভাবের দিকে ইঙ্গিত করে বলেছিলেন, "নিরাপত্তার খাতিরে তাদের (ইরান দল) নিজেদের দেশে থাকাই উপযুক্ত হবে।"
ট্রাম্পের এই 'পরোক্ষ হুঁশিয়ারির' পর ইরান তাদের ম্যাচগুলো যুক্তরাষ্ট্র থেকে সরিয়ে মেক্সিকোতে নেওয়ার দাবি জানায়। তবে ফিফা শুরু থেকেই ভেন্যু পরিবর্তনের সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়ে আসছে।
গত ৮ এপ্রিল মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে কূটনৈতিক উত্তেজনা এখনো বিরাজমান। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি বন্ধ এবং ইরানি বন্দরে মার্কিন অবরোধ পরিস্থিতিকে ঘোলাটে করে রেখেছে। তবে ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা তাদের আগের অবস্থানেই অনড়।
ইরানের বিশ্বকাপ সূচি
আগামী ১১ জুন থেকে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে যৌথভাবে শুরু হবে ফিফা বিশ্বকাপ। সূচি অনুযায়ী:
১৫ জুন: ক্যালিফোর্নিয়ায় নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ইরানের প্রথম ম্যাচ।
২১ জুন: একই ভেন্যুতে প্রতিপক্ষ শক্তিশালী বেলজিয়াম।
২৬ জুন: সিয়াটলে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে মিসরের মুখোমুখি হবে ইরান।
সব বাধা পেরিয়ে শেষ পর্যন্ত মাঠের ফুটবলই জয়ী হবে—এমনটাই প্রত্যাশা বিশ্ব ফুটবল প্রেমীদের।