❒ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬
ধ্রুব ডেস্ক
মিচেল স্যান্টনার ও কোল ম্যাককনকির শেষ চার ওভারের তাণ্ডবে বিধ্বস্ত শ্রীলঙ্কা জেগে উঠতে পারেনি ব্যাটিংয়ে। ছবি: সংগৃহীত
দুশামান্থা চামিরার বল যখন স্কয়ার লেগ দিয়ে গ্যালারিতে আছড়ে ফেললেন কোল ম্যাককনকি, তখনও ধারণা করা যায়নি কী অপেক্ষায়। এক বল পর প্রায় একইরকম আরেকটি ছক্কা। এবার একটু নড়চড়ে বসার পালা। পরের সময়টায় যা হলো, সেটিকে ঝড়, টর্নোডো বা তাণ্ডব, বলা যায় যে কোনো কিছুই। ম্যাককনকি ও মিচেল স্যান্টনার মিলে রানের সুনামি বইয়ে দিলেন প্রেমাদাসায়। তাতেই ভেসে গেল শ্রীলঙ্কার সব আশা।
কলম্বোয় বুধবার শ্রীলঙ্কা-নিউ জিল্যান্ড ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয় স্যান্টনার ও ম্যাককনকির এই জুটি। ৯ ওভার শেষে নিউ জিল্যান্ডের রান ছিল ২ উইকেটে ৭৩। একটু পরই সেই স্কোর হয়ে যায় ৬ উইকেটে ৮৪! কেবল ৮৪ রানেই পতন হয় ৩ উইকেটের।
সেখান থেকেই ম্যাককনকি ও স্যান্টনারের জুটি। সপ্তদশ ওভারে ম্যাককনকি যখন ছক্কা দুটি মারেন, ধারাভাষ্যে ইয়ান স্মিথ বলছিলেন, “১৩০ করতে পারলেও নিউ জিল্যান্ড লড়ার মতো রান পেয়ে যাবে, ১৪০ করতে পারলে তো কথাই নেই।” অথচ সেই দল তুলে ফেলে ১৬৮ রান!
৪৭ বলে ৮৪ রানের জুটি গড়েন এই দুজন। বিশ্বকাপে সপ্তম থেকে নিচের দিকে যে কোনো জুটিতে যা সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড।
এর মধ্যে শেষ ৪ ওভারেই রান আসে ৭০। বিশ্বকাপে এই সময়ে যা নিউ জিল্যান্ডের যা যৌথভাবে সর্বোচ্চ।
শুরুতে সময় নেন দুজনই। ম্যাককনকির রান ছিল ১১ বলে ৩, স্যান্টনারের ১১ বলে ৫। পরে পুষিয়ে দেন দুজনই। ২৬ বলে ৪৭ করা স্যান্টনার আউট হন শেষ বলে। ম্যাককনকি অপরাজিত রয়ে যান ২৩ বলে ৩১ রান করে।
প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামের উইকেট দেখেই এই ম্যাচের একাদশে কোল ম্যাককনকিকে আনা হয় মূলত স্পিনের কথা ভেবে। উইকেট না পেলেও আঁটসাঁট বোলিংয়ে ৩ ওভারে ২০ রান দেন এই অফ স্পিনার। তবে আসল কাজ করে ফেলেন তিনি আগেই ব্যাট হাতে।
ম্যাচের পর অধিনায়ক স্যান্টনার বললেন, বিপর্যয় থেকে নিজেদের ধারণার চেয়েও অনেক বেশি রান পেয়ে যান তারা। এরপর নিজেদের ব্যাটিংয়ের অভিজ্ঞতা থেকে বোলিংয়েও তারা ছিলেন আত্মবিশ্বাসী।
“শ্রীলঙ্কা ওই সময়টায় বল হাতে বেশ ভালো করছিল। আমাদেরকে একদম চেপে ধরেছিল। ৮৪ রানেই তিন ব্যাটারকে হারাই আমরা, যা কখনোই আদর্শ কিছু নয়। তখন আমার মনে হয়েছে, যত গভীরে টেনে নিতে পারি, ততই ভালো। আমি আর কোল ভাবছিলাম, ১৪০ রানের কাছাকাছি যাওয়ার চেষ্টা করতে হবে। সেখান থেকে ১৬০ পেরিয়ে যাওয়া মন্দ নয়!”
“উইকেটটা এমন ছিল যে, কিছুটা সময় কাটাতে পারলে পরে পুষিয়ে দেওয়া যায় এবং আমি ও কোল সেরকমই ভাবছিলাম। শুরুটা অবশ্যই কঠিন ছিল। সেখান থেকে ১৬০ ছাড়াতে পারাটা দারুণ ছিল এবং প্রথম ইনিংস পুরোটা দেখার পর আমরা জানতাম পরের ইনিংসে বল হাতে কী করতে হবে।”
পরের ম্যাচে শুক্রবার ইংল্যান্ডকে হারাতে পারলে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়েই সেমি-ফাইনা পৌঁছে যাবে নিউ জিল্যান্ড। সুযোগ থাকবে এমনকি হেরে গেলেও, যদি পরদিন পাকিস্তানও হেরে যায় বা রান রেট পক্ষে থাকে।
স্যান্টনারের ধারণা, সেমি-ফাইনাল নিশ্চিত করে ফেলা ইংলিশদের সঙ্গে ম্যাচটি হবে তুমুল লড়াইয়ের।
“ওরা (ইংল্যান্ড) অসাধারণ দল। আমরা জানি তা। আমাদেরকে দ্রুত এই ম্যাচ থেকে আবার নতুন করে মাঠে নামতে হবে। দেখব পিচ কেমন। যদি এরকমই পিচ হয়, হয়তো আরেকটি জমজমাট ম্যাচ হবে।”