বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ডেস্ক
বিশ্বখ্যাত মার্কিন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান অ্যাপল উন্মোচন করেছে তাদের বহুল প্রতীক্ষিত নতুন দুই ফ্ল্যাগশিপ স্মার্টফোন—আইফোন ১৮ প্রো এবং আইফোন ১৮ প্রো ম্যাক্স। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত অ্যাপলের বিশেষ ইভেন্ট ‘সারপ্রাইজ অ্যান্ড শাইন’-এ ফোন দুটির বৈপ্লবিক ফিচার ও আনুষ্ঠানিকভাবে বাজারে ছাড়ার ঘোষণা দেওয়া হয়। গত বছরের আইফোন ১৭ প্রো সিরিজের তুলনায় নতুন এই মডেলগুলোতে প্রসেসর, নেটওয়ার্কিং, ব্যাটারি এবং ক্যামেরা প্রযুক্তিতে আনা হয়েছে বড় ধরনের আধুনিকায়ন।
উন্নত পারফরম্যান্স ও শক্তিশালী ব্যাটারি ব্যাকআপ আইফোন ১৮ প্রো সিরিজে ব্যবহার করা হয়েছে অ্যাপলের সর্বশেষ প্রযুক্তির অত্যাধুনিক 'এ২০ প্রো' প্রসেসর। দ্রুতগতির নেটওয়ার্ক সুবিধা নিশ্চিত করতে এতে যুক্ত করা হয়েছে অ্যাপলের নিজস্ব 'সি২' মডেম। নতুন ফোনগুলোর ব্যাটারি লাইফে এসেছে চমকপ্রদ পরিবর্তন। ৬.৩ ইঞ্চি ডিসপ্লের আইফোন ১৮ প্রো-তে একবার পূর্ণ চার্জে সর্বোচ্চ ২৪ ঘণ্টা ব্যাটারি ব্যাকআপের পাশাপাশি টানা ৩৪ ঘণ্টা পর্যন্ত ভিডিও প্লেব্যাক সুবিধা পাওয়া যাবে। অন্যদিকে, ৬.৯ ইঞ্চি ডিসপ্লে সংবলিত আইফোন ১৮ প্রো ম্যাক্সে টানা ৩০ ঘণ্টার ব্যাটারি লাইফ এবং সর্বোচ্চ ৪৩ ঘণ্টা ভিডিও প্লেব্যাকের সুবিধা মিলবে। দুটি মডেলই ২৫৬ গিগাবাইট, ৫১২ গিগাবাইট, ১ টেরাবাইট এবং ২ টেরাবাইট—এই চার ধরনের স্টোরেজ ভ্যারিয়েন্টে পাওয়া যাবে। ফোনগুলো কেনা যাবে কালো, রুপালি, আকাশি নীল এবং আকর্ষণীয় নতুন বারগান্ডি রঙে।
আইফোনের ইতিহাসে প্রথম ফিজিক্যাল অ্যাপারচার ক্যামেরা নতুন সিরিজের অন্যতম মূল আকর্ষণ হলো এর ক্যামেরা প্রযুক্তি। উভয় মডেলেই ৪৮ মেগাপিক্সেলের ‘ফিউশন’ প্রধান ক্যামেরা দেওয়া হয়েছে। আইফোনের ইতিহাসে এই প্রথম ফিজিক্যালি পরিবর্তনযোগ্য অ্যাপারচার যুক্ত করা হয়েছে। এটি ক্যামেরার লেন্সের ভেতর দিয়ে আলো প্রবেশের পরিমাণ ম্যানুয়ালি নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করবে, যা কম আলোতে কিংবা ডেপথ-অফ-ফিল্ডের ক্ষেত্রে ব্যবহারকারীকে পেশাদার ফটোগ্রাফির অভিজ্ঞতা দেবে। ব্যবহারকারী চাইলে এটি ম্যানুয়ালি পরিবর্তন করতে পারবেন, আবার পরিবেশের আলো ও ছবির প্রয়োজন অনুযায়ী ফোনটি স্বয়ংক্রিয়ভাবেও অ্যাপারচার অ্যাডজাস্ট করে নিতে সক্ষম। অত্যন্ত সূক্ষ্ম এই প্রযুক্তি তৈরিতে মানুষের চুলের চেয়েও পাতলা লেজার-কাট যন্ত্রাংশ ব্যবহার করেছে অ্যাপল।
মূল্য, বুকিং ও বাজারে আসার তারিখ যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ২৫৬ গিগাবাইট স্টোরেজের আইফোন ১৮ প্রোর প্রারম্ভিক মূল্য ১,১৯৯ মার্কিন ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১ লাখ ৪৮ হাজার টাকা) এবং আইফোন ১৮ প্রো ম্যাক্সের মূল্য শুরু হচ্ছে ১,২৯৯ ডলার থেকে (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা)।
প্রতিবেশী দেশ ভারতের বাজারে ধর্তব্য মূল্য অনুযায়ী বাংলাদেশি টাকায় মূল্য দাড়ায় আইফোন ১৮ প্রো ২৫৬ জিবি (প্রায় ২ লাখ ১৩ হাজার টাকা), ৫১২ জিবি (প্রায় ২ লাখ ৪৫ হাজার টাকা), ১ টেরাবাইট (প্রায় ৩ লাখ ১০ হাজার টাকা) এবং ২ টেরাবাইট (প্রায় ৪ লাখ ৭ হাজার টাকা)। আইফোন ১৮ প্রো ম্যাক্স ২৫৬ জিবি (প্রায় ২ লাখ ৩৩ হাজার টাকা), ৫১২ জিবি (প্রায় ২ লাখ ৬৫ হাজার টাকা), ১ টেরাবাইট (প্রায় ৩ লাখ ৮৯ হাজার টাকা) এবং ২ টেরাবাইট (প্রায় ৪ লাখ ২৬ হাজার টাকা)।
আগামী ১২ সেপ্টেম্বর থেকে ফোন দুটির প্রি-অর্ডার শুরু হবে এবং অ্যাপল স্টোরসহ বিশ্ববাজারে এগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে বিক্রি শুরু হবে ১৮ সেপ্টেম্বর থেকে। ক্রেতাদের সুবিধার জন্য এককালীন অর্থ পরিশোধের পাশাপাশি সহজ কিস্তিতেও ফোন দুটি কেনার সুযোগ রেখেছে অ্যাপল। আধুনিক চিপসেট, দীর্ঘস্থায়ী ব্যাটারি, বিশাল স্টোরেজ ও বৈপ্লবিক ক্যামেরা ফিচারের সমন্বয়ে আইফোন ১৮ প্রো সিরিজটি বর্তমান প্রিমিয়াম স্মার্টফোনের বাজারে নতুন মানদণ্ড তৈরি করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।