Ad for sale 990 x 90 Position (1)
Position (1)
বুধবার, ৫ আগস্ট ২০২৬
Ad for sale 870 x 100 Position (2)
Position (2)

পৃথিবীর দিকে ধেয়ে আসা বিধ্বংসী গ্রহাণু পারমাণবিক বোমা দিয়ে ঠেকানোর চিন্তা

প্রযুক্তি ডেস্ক প্রযুক্তি ডেস্ক
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট,২০২৬, ০৬:৩৫ পিএম
পৃথিবীর দিকে ধেয়ে আসা বিধ্বংসী গ্রহাণু পারমাণবিক বোমা দিয়ে ঠেকানোর চিন্তা

এ ইলাস্ট্রেশনে একটি গ্রহাণুকে দেখানো হয়েছে। গ্রহাণুটি পৃথিবীর মতোই সূর্যকে একই কক্ষপথ ধরে প্রদক্ষিণ করে। প্রায় ১ দশমিক ২ কিলোমিটার ব্যাসের এ গ্রহাণু ‘ট্রোজান গ্রহাণু’ নামে পরিচিত ছবি: সংগৃহীত

বিধ্বংসী বলে বিবেচিত বড় গ্রহাণুর সঙ্গে পৃথিবীর ভয়াবহ সংঘর্ষ এড়াতে সবচেয়ে কার্যকর পদ্ধতি আবিষ্কারের দাবি করেছেন চীনের বিজ্ঞানীরা। তাঁরা বলছেন, একটি বড় গ্রহাণুর ভেতর পারমাণবিক বিস্ফোরক পুঁতে বিস্ফোরণ ঘটানোই এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে কার্যকর পদ্ধতি।

গ্রহাণু মানবসভ্যতার জন্য বড় ধরনের হুমকি তৈরি করে। অতীতে এ ধরনের মহাজাগতিক বস্তুর আঘাতে পৃথিবীতে ভয়াবহ পরিবেশগত পরিবর্তন ঘটতে দেখা গেছে। এতে অনেক প্রাণী ও উদ্ভিদ প্রজাতির বিলুপ্তিও ঘটেছে।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা ১০ থেকে কয়েক শ মিটার ব্যাসের এমন বহু গ্রহাণু শনাক্ত করেছেন, যেগুলো পৃথিবীর খুব কাছ দিয়ে উড়ে গেছে।

পৃথিবীর কাছাকাছি অবস্থান করা বিপুলসংখ্যক বড় গ্রহাণু এখনো অনাবিষ্কৃত থেকে গেছে। আর সেই কারণে পৃথিবীর সঙ্গে এগুলোর সংঘর্ষের বিষয়ে খুব বেশি দিন আগে থেকে আভাস পাওয়া যায় না। অনেক সময় মাত্র কয়েক দিন থেকে কয়েক সপ্তাহ আগে সতর্কবার্তা পাওয়া যায়।

বিধ্বংসী গ্রহাণুর গতিপথ পরিবর্তন করার ক্ষেত্রে মার্কিন মহাকাশ সংস্থা নাসার ডার্ট মিশনে পরীক্ষিত পদ্ধতিসহ বিভিন্ন পদ্ধতি আছে। তবে কয়েক শ মিটার ব্যাসের বিশাল গ্রহাণুর ক্ষেত্রে এসব পদ্ধতিতে অল্প সময়ের মধ্যে সেগুলোর গতিপথ কার্যকরভাবে পরিবর্তন করা সম্ভব নয়।

চায়না একাডেমি অব লঞ্চ ভেহিকেল টেকনোলজির বিজ্ঞানীরা বলছেন, কক্ষপথ থেকে বড় গ্রহাণুকে দ্রুত সরিয়ে দেওয়া বা সরাসরি ধ্বংস করার জন্য পারমাণবিক বিস্ফোরণই সবচেয়ে কার্যকর পদ্ধতি।

‘স্পেস: সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি’ সাময়িকীতে প্রকাশিত গবেষণা প্রতিবেদনে এই বিজ্ঞানীরা দাবি করেছেন, চরম পরিস্থিতিতে, বিশেষ করে খুব বড় গ্রহাণু বা খুব অল্প সময়ের সতর্কবার্তা পাওয়া গ্রহাণুর ক্ষেত্রে পারমাণবিক বিস্ফোরণই হতে পারে একমাত্র বাস্তবসম্মত প্রতিরোধের উপায়।

তবে এত দিন পর্যন্ত প্রস্তাবিত পদ্ধতিগুলোতে কোথায় এবং কীভাবে গ্রহাণুতে পারমাণবিক বিস্ফোরণ ঘটানো হবে, তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে নির্ধারণ করার কার্যকর ব্যবস্থা ছিল না। সর্বশেষ গবেষণায় পৃথিবীর কাছাকাছি থাকা একটি বড় গ্রহাণুতে পারমাণবিক বিস্ফোরণ ঘটানোর নতুন একটি পদ্ধতির রূপরেখা তুলে ধরা হয়েছে।

এ জন্য গবেষকেরা এমন একটি পরিস্থিতির কম্পিউটার সিমুলেশন করেছেন, যেখানে একটি মহাকাশযান প্রথমে একটি ভেদকারী যন্ত্র ব্যবহার করে গ্রহাণুর গভীরে একটি গর্ত তৈরি করবে। এরপর সেই গর্তের ভেতর একটি পারমাণবিক বিস্ফোরক প্রবেশ করিয়ে বিস্ফোরণ ঘটানো হবে।

গবেষকেরা বিভিন্ন মাত্রার পারমাণবিক বিস্ফোরণ এবং ভিন্ন ভিন্ন গভীরতায় বিস্ফোরক পুঁতে বিস্ফোরণ ঘটালে গ্রহাণুর কী পরিমাণ ক্ষতি হয়, তা মূল্যায়ন করেছেন। এ ছাড়া উৎক্ষেপণ যানের বৈশিষ্ট্য এবং গ্রহাণুর সঙ্গে সংঘর্ষের সময় এর বেগ কত থাকবে, সেসব বিষয়ও বিশ্লেষণ করেছেন তাঁরা।

গবেষকেরা দেখেছেন, হিরোশিমায় নিক্ষেপ করা পারমাণবিক বোমার চেয়ে প্রায় ২০০ গুণ শক্তিসম্পন্ন বিস্ফোরণ প্রায় ১০০ মিটার ব্যাসের একটি গ্রহাণুকে চূর্ণবিচূর্ণ করতে পারে। গবেষণায় আরও দেখা গেছে, গ্রহাণু পৃষ্ঠের প্রায় ৩০ মিটার গভীরে বোমাটি পুঁতে বিস্ফোরণ ঘটালে, তা অগভীর স্থানে বিস্ফোরণ ঘটানোর তুলনায় তিন গুণ বেগে গ্রহাণুর গতিপথ পরিবর্তন করতে পারে।

উদাহরণ হিসেবে গবেষকেরা বলেন, প্রায় ১ কিলোমিটার ব্যাসের একটি গ্রহাণুর ২০ মিটার গভীরে বিস্ফোরণ ঘটানো হলে সেটির পৃথিবী থেকে দূরে সরে যাওয়ার বেগ প্রতি সেকেন্ডে ৩০ সেন্টিমিটারের বেশি বাড়ানো সম্ভব হতে পারে।

বিজ্ঞানীরা বলছেন, পৃথিবীর দিকে ধেয়ে আসা বড় গ্রহাণু মোকাবিলার পরিকল্পনা তৈরিতে এ গবেষণা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বিশেষ করে কোনো গ্রহাণু আঘাত হানার আগে খুব কম সময় হাতে থাকলে, সেটিকে ঠেকানোর সবচেয়ে কার্যকর উপায় হতে পারে পারমাণবিক বিস্ফোরণ।

গবেষণাপত্রে বিজ্ঞানীরা লিখেছেন, পৃথিবীর কাছাকাছি অবস্থানকারী বড় গ্রহাণুর বিরুদ্ধে প্রতিরক্ষাব্যবস্থার প্রকৌশলগত নকশা প্রণয়নে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও দিকনির্দেশনা দিতে পারে এ গবেষণা।

ধ্রুব নিউজের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

💬 Comments

Login | Register
Ad for sale 270 x 225 Position (3)
Position (3)
Ad for sale 990 x 90 Position (4)
Position (4)