প্রযুক্তি ডেস্ক
ছবি: এ আই প্রণীত
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতের শীর্ষ প্রতিষ্ঠান ‘ওপেনএআই’ এবং এর শীর্ষ নির্বাহী স্যাম অল্টম্যান ও গ্রেগ ব্রকম্যানের বিরুদ্ধে করা বহুল আলোচিত আইনি লড়াইয়ে বড় ধাক্কা খেলেন প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ইলন মাস্ক। ক্যালিফোর্নিয়ার ওকল্যান্ডের একটি ফেডারেল আদালত মাস্কের করা এই মামলাটি খারিজ করে দিয়েছেন। আদালতের জুরি বোর্ড এবং ডিস্ট্রিক্ট জজ ইভন গঞ্জালেজ রজার্স একমত হয়েছেন যে, মামলা করার ক্ষেত্রে মাস্ক আইনি সময়সীমা পার করে ফেলেছেন।
নয় সদস্যের জুরি বোর্ড সর্বসম্মতভাবে রায় দেয় যে, ক্যালিফোর্নিয়ার আইন অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময়সীমা (স্ট্যাটিউট অব লিমিটেশনস) শেষ হওয়ার অনেক পরে, ২০২৪ সালে মাস্ক এই মামলাটি দায়ের করেন। ফলে জুরিদের এই সিদ্ধান্তের ওপর ভিত্তি করে বিচারক তাৎক্ষণিকভাবে মামলাটি খারিজের চূড়ান্ত আদেশ দেন। তবে মাস্কের আইনি দল এই রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করার সিদ্ধান্ত জানিয়েছে।
মামলার প্রেক্ষাপট ও মূল অভিযোগ
প্রায় ১১ বছর আগে ইলন মাস্ক, স্যাম অল্টম্যান এবং গ্রেগ ব্রকম্যান মিলে ওপেনএআই প্রতিষ্ঠা করেছিলেন একটি অলাভজনক (নন-প্রফিট) গবেষণা প্রতিষ্ঠান হিসেবে। মাস্কের অভিযোগ ছিল, মাইক্রোসফটের বিপুল অর্থায়নে অল্টম্যান ও ব্রকম্যান ওপেনএআই-কে একটি বাণিজ্যিক ও লাভজনক সংস্থায় রূপান্তর করেছেন, যা তাদের মূল চ্যারিটেবল বা দাতব্য চুক্তির লঙ্ঘন। মামলায় মাস্ক দাবি করেন, ওপেনএআই-তে তার দান করা ৩৮ মিলিয়ন ডলার অপব্যবহার করে সমস্ত প্রযুক্তিগত দক্ষতা একটি লাভজনক সহযোগী (সাবসিডিয়ারি) প্রতিষ্ঠানে স্থানান্তর করা হয়েছে।
তবে ওপেনএআই-এর পক্ষ থেকে আদালতে তথ্য-প্রমাণ দিয়ে দেখানো হয় যে, মাস্ক নিজেই এই লাভজনক সহযোগী প্রতিষ্ঠান গঠনে একমত হয়েছিলেন এবং পরবর্তীতে এর নিয়ন্ত্রণ পাওয়ার চেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে তিনি বিনিয়োগ বন্ধ করে দেন। আদালত পর্যবেক্ষণ করেছে যে, ২০২৩ সালে চ্যাটজিপিটি-র সাফল্য এবং মাইক্রোসফটের ১৩ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের পর মাস্ক ক্ষুব্ধ হন এবং নিজের প্রতিদ্বন্দ্বী এআই প্রতিষ্ঠান ‘এক্সএআই’ চালু করার পর এই মামলাটি করেন। মূলত ব্যবসায়িক প্রতিদ্বন্দ্বিতার কারণে দেরিতে মামলা করায় আদালত এর মূল অভিযোগগুলো বিবেচনা না করেই তা খারিজ করে দেয়।
দুই প্রতিষ্ঠানের বাণিজ্যিক ভবিষ্যৎ
আইনি লড়াইয়ের বাইরেও উভয় প্রতিষ্ঠানই বর্তমানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বাজারে তীব্র প্রতিযোগিতায় লিপ্ত রয়েছে:
ওপেনএআই: সাবস্ক্রিপশন ও বিজ্ঞাপন থেকে ২০২৫ সালে প্রতিষ্ঠানটির বার্ষিক আয় ২০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে। সম্পূর্ণ বাণিজ্যিক রূপান্তরের অংশ হিসেবে তারা এই বছরের মধ্যেই পাবলিক স্টক এক্সচেঞ্জে শেয়ার ছাড়ার (আইপিও) প্রস্তুতি নিচ্ছে।
এক্সএআই: ইলন মাস্কের এই প্রতিষ্ঠানটি বর্তমানে ‘গ্রোক’ চ্যাটবট এবং ব্যবসায়িক এআই টুল বিক্রি করছে। সম্প্রতি মাস্কের রকেট নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ‘স্পেসএক্স’ এই এক্সএআই-কে কিনে নিয়েছে এবং আগামী জুনের মধ্যেই সম্মিলিত প্রতিষ্ঠানটি ‘নাসডাক’ স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত হতে পারে।
আইনি লড়াইয়ের প্রথম পর্বে ওপেনএআই জয়ী হলেও, মাস্কের আপিলের ঘোষণার কারণে এআই খাতের এই দুই পরাশক্তির দ্বন্দ্ব আরও দীর্ঘস্থায়ী রূপ নিতে যাচ্ছে।