❒ কোটচাঁদপুর পৌরসভা
রফিক মন্ডল, কোটচাঁদপুর (ঝিনাইদহ)
দেড়শ বছর আগের প্রথম শ্রেণির পৌর শহরে নেই কোন নাগরিক সুবিধা। পিচ ওঠা রাস্তায় বড় বড় গর্ত, অপ্রতুল ড্রেনে দুর্বল নিষ্কাশন ব্যবস্থা, মশার উপদ্রপ আর নিয়ন্ত্রহীন শব্দ দুষণে বাস করা দায়। ছবি: ধ্রুব নিউজ
১৮৮৩ সালের চাকচিক্যময় একটি শহর আজ গ্রামে রূপ নিয়েছে। প্রায় দেড়শ বছর আগের প্রথম শ্রেণির পৌর শহরে নেই কোন নাগরিক সুবিধা। পিচ ওঠা রাস্তায় বড় বড় গর্ত, অপ্রতুল ড্রেনে দুর্বল নিষ্কাশন ব্যবস্থা, মশার উপদ্রপ আর নিয়ন্ত্রহীন শব্দ দুষণে বাস করা দায়। এভাবে দুর্ভোগ মাড়িয়ে স্মৃতির ঢেকুর তুলে ভালো থাকার চেষ্টা করছে ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর পৌরবাসী। কিন্তু ভালো রাখার দায়িত্ব যাদের তাদের তৎপরতা প্রশ্নবিদ্ধ। এই পৌরসভার আদেও কোন অভিভাবক আছে কি না এই প্রশ্ন উঁকি দিচ্ছে নাগরিক মনে।
১৮৮৩ সালে প্রতিষ্ঠিত প্রথম শ্রেণির এই পৌরসভার বিভিন্ন সড়কের বেহাল দশা জনদুর্ভোগ বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। কোথাও সড়কে বড় গর্ত, কোথাও আবার জমে আছে কাদাপানি। সামান্য অসতর্কতায় মোটরসাইকেল ও রিকশাচালকদের প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার শিকার হতে হচ্ছে। বিশেষ করে সামান্য বৃষ্টিতেই সড়কের গর্তগুলোতে পানি জমে তা আরও বিপজ্জনক হয়ে ওঠে। দ্রুত এসব সড়ক মেরামত ও সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন নগরবাসী।
পাশাপাশি সড়কের পাশের বাড়িঘরের ছাদের পানি সরাসরি রাস্তায় পড়ায় চলাচলে বাড়তি দুর্ভোগ তৈরি হচ্ছে। গুরুত্বপূর্ণ সড়কের পাশে অপরিকল্পিত দোকানপাট স্থাপন এবং অতিরিক্ত যানবাহনের চাপ পথচারীদের নিরাপদ চলাচলে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ড্রেনেজ বিপর্যয় ও মশার উপদ্রব
পৌর এলাকার ড্রেনেজ ব্যবস্থার চরম দুর্বলতার কারণে পানি নিষ্কাশন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। বিভিন্ন স্থানে নোংরা পানি জমে থাকায় এবং আশপাশের পরিবেশ অপরিচ্ছন্ন থাকায় মশার বংশবিস্তারের উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি হয়েছে। মশার উপদ্রবে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন এলাকাবাসী। নিয়মিত ড্রেন পরিষ্কার, ময়লা অপসারণ এবং কার্যকর মশা নিধন কর্মসূচির দাবি জানিয়েছেন তারা।
বেওয়ারিশ কুকুরের দাপট ও আতঙ্ক
শহরের অলিগলি ও প্রধান সড়কে বেওয়ারিশ কুকুরের অবাধ বিচরণ জনমনে আতঙ্ক তৈরি করেছে। স্কুল, মাদ্রাসা ও কলেজগামী শিক্ষার্থীসহ সাধারণ পথচারীদের প্রতিনিয়ত কুকুরের ভয়ে সতর্ক হয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। বিশেষ করে ছোট শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে অভিভাবকরা গভীর দুশ্চিন্তায় রয়েছেন। মানবিক ও আইনসম্মত উপায়ে বেওয়ারিশ কুকুর ব্যবস্থাপনার জোরালো দাবি তুলেছেন স্থানীয়রা।
শব্দদূষণ ও বেপরোয়া মোটরসাইকেল
এসব সমস্যার পাশাপাশি শহরের বিভিন্ন স্থানে প্রচার মাইকের উচ্চ শব্দ এবং উঠতি বয়সী তরুণদের বেপরোয়া গতিতে মোটরসাইকেল চালানোর প্রবণতা বেড়েছে। অতিরিক্ত শব্দে জনজীবন বিপর্যস্ত হওয়ার পাশাপাশি দ্রুতগতির মোটরসাইকেল পথচারীদের জন্য বড় ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করছে। শহরের গুরুত্বপূর্ণ মোড় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসংলগ্ন এলাকায় যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণ এবং ট্রাফিক আইন কঠোরভাবে কার্যকরের দাবি উঠেছে।
এছাড়াও বিভিন্ন সড়কের লাইটপোস্টে পর্যাপ্ত বাতি না থাকায় রাতের বেলায় অন্ধকারেই পথ চলতে হচ্ছে, যা চলাফেরা আরও ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলছে।
নাগরিক প্রশ্ন—দেখভালের দায়িত্বে কে?
একটি প্রথম শ্রেণির পৌর শহরের দায়িত্ব শুধু সড়ক নির্মাণ বা কর আদায়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; নিরাপদ চলাচল, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ, কার্যকর পানি নিষ্কাশন ও নাগরিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও স্থানীয় প্রশাসনের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। অথচ একের পর এক সমস্যায় নগরবাসীর দুর্ভোগ বাড়তে থাকলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে—এসব দেখার দায়িত্ব কার?