নিজস্ব প্রতিবেদক
ছবি: ধ্রুব নিউজ
যশোর সদর উপজেলার লেবুতলা ইউনিয়নের বীর নারায়ণপুর গ্রামের দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা সরকারি রাস্তা দখলমুক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। আগামী এক মাসের মধ্যে রাস্তা পরিমাপ করে দখলমুক্ত করার আশ্বাস দিয়েছেন যশোর সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাহির দান আমিন। তাঁর এ আশ্বাসে দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ থেকে মুক্তির আশায় বুক বাঁধছেন বীর নারায়ণপুর ও শর্শনাদাহ, লেবুতলা গ্রামের বাসিন্দারা।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৩টায় সরেজমিনে রাস্তাটি পরিদর্শন করেন সহকারী কমিশনার (ভূমি)। এ সময় তিনি মাঠের মধ্য দিয়ে যাওয়া পুরো রাস্তা ঘুরে দেখেন এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে তাঁদের দুর্ভোগের কথা শোনেন। পাশাপাশি সার্ভেয়ারের মাধ্যমে রাস্তা পরিমাপ করে দ্রুত দখলমুক্ত করার আশ্বাস দেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বীর নারায়ণপুর গ্রামের মাঠের মধ্য দিয়ে যাওয়া সরকারি রাস্তাটি দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে। রাস্তার কিছু অংশ থাকলেও বাকি অংশ দিয়ে চলাচল করা সম্ভব হচ্ছে না। এতে দুই গ্রামের মানুষের যোগাযোগব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি কৃষিপণ্য পরিবহনেও চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে কাদাপানির কারণে কৃষকদের উৎপাদিত সবজি মাথায় করে বহন করতে হয়। এতে কৃষকদের সময় ও শ্রম দুটোই বেশি ব্যয় হচ্ছে।
শর্শনাদাহ গ্রামের বাসিন্দা সাইফুল ইসলাম জানান, “রাস্তার কারণে আমরা দীর্ঘদিন ধরে খুব দুর্ভোগে আছি। বৃষ্টির সময় মাথায় করে সবজি বহন করতে হয়। এদিকে দুই গ্রামের যোগাযোগব্যবস্থাও বন্ধ রয়েছে। আজ স্যার সরেজমিনে রাস্তা দেখতে আসায় আমরা খুব খুশি হয়েছি। এবার মনে আশা জেগেছে, রাস্তাটি হয়তো চালু হবে।”
বীর নারায়ণপুর গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল মান্নান জানান, “এই রাস্তাটি আমাদের এলাকার মানুষের জন্য খুবই প্রয়োজন। দীর্ঘদিন ধরে আমরা রাস্তাটি উদ্ধারের চেষ্টা করে আসছি। সরকারি রাস্তা হলেও গত কয়েক বছর ধরে এর কিছু অংশ বন্ধ রয়েছে। অনেক দিন ধরে চেষ্টা করেও রাস্তাটি পুরোপুরি চালু করা সম্ভব হয়নি। এবার স্যার সরেজমিনে দেখতে আসায় আমরা আশাবাদী হয়েছি। সরকারের কাছে আমাদের দাবি, দ্রুত রাস্তাটি সম্পূর্ণ দখলমুক্ত করে আগের মতো চলাচলের ব্যবস্থা করা হোক।”
যশোর সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাহির দান আমিন বলেন, “বীর নারায়ণপুর গ্রামের মাঠের মধ্য দিয়ে যাওয়া রাস্তাটি সরেজমিনে পরিদর্শন করেছি। রাস্তা বন্ধ থাকায় কৃষকেরা সবজি পরিবহনে চরম দুর্ভোগে রয়েছেন। সর্বোচ্চ এক মাসের মধ্যে সার্ভেয়ারের মাধ্যমে রাস্তাটি পরিমাপ করে দখলমুক্ত করে যাতায়াতের ব্যবস্থা করা হবে। এখানে কোনো স্থাপনা নেই, তাই কাজটি করতে তেমন জটিলতা হওয়ার কথা নয়।
তিনি আরও বলেন, “রাস্তা শ্রেণির জমি ব্যক্তি মালিকানায় রেকর্ড হওয়ার কথা নয়। কীভাবে জমিটি ব্যক্তি মালিকানায় রেকর্ড হয়েছিল, তা আগে আমাদের জানা ছিল না। পরে বিষয়টি জানার পর ২০২৩ সালে রেকর্ড সংশোধন করে জমিটি সরকারের নামে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। এখন রাস্তাটি দখলমুক্ত করে ইউনিয়ন পরিষদ ও উপজেলা কর্তৃপক্ষের কাছে বুঝিয়ে দেওয়াই আমাদের কাজ।”
রাস্তাটি পুনরুদ্ধার করা হলে দুই গ্রামের মানুষের যোগাযোগব্যবস্থা স্বাভাবিক হওয়ার পাশাপাশি কৃষকদের উৎপাদিত সবজি পরিবহন সহজ হবে।
পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন যশোর সদর উপজেলার সার্ভেয়ার সাইফুল ইসলাম, কানুনগো আব্দুর রাজ্জাক, লেবুতলা ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক তারিকুল ইসলাম, ইউনিয়ন প্রশাসনিক কর্মকর্তা ফেরদাউস খান, ইউনিয়নের ভূমি সহকারী কর্মকর্তা সৈয়দা সরোয়ারী খাতুন, গ্রাম পুলিশসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।