রফিক মন্ডল, ঝিনাইদহ
জেলা পরিষদ ডাকবাংলো ছবি: সংগৃহীত
ঝিনাইদহ জেলা পরিষদে সম্প্রতি সম্পন্ন হওয়া বিভিন্ন পদের নিয়োগে ঐতিহ্যগত সামাজিক প্রথা ভেঙে হরিজন সম্প্রদায়ের পরিবর্তে এক মুসলিম যুবককে ‘সুইপার’ পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটির এক কর্মচারীর পরিবারের একাধিক সদস্যসহ বিভিন্ন পদে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের স্বজনদের নিয়োগ পাওয়ার তথ্য সামনে এসেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, জেলা পরিষদে রনজিৎ কুমার নামের এক হরিজন কর্মী দীর্ঘদিন ধরে স্বেচ্ছায় পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে কাজ করলেও ‘সুইপার’ পদে শেখ মোহাম্মদ হাম্মাত নামে এক মুসলিম যুবককে নিয়োগ দেওয়া হয়।
অনুসন্ধানে জানা যায়, জেলা পরিষদের সাঁটলিপিকার শেখ শফি উদ্দীনের পরিবারের বেশ কয়েকজন সদস্য বিভিন্ন পদে নিয়োগ পেয়েছেন। তাঁর নিজের ছেলে শেখ তামিম হাসান ‘কম্পিউটার অপারেটর কাম মুদ্রাক্ষরিক’, ভাতিজা শেখ লোকমান হোসেন আপেল ‘উচ্চমান সহকারী’, আরেক ভাতিজা শেখ কাকন হোসেন ‘পরিচ্ছন্নতাকর্মী’ এবং ভাতিজা শেখ মোহাম্মদ হাম্মাত ‘সুইপার’ পদে নিয়োগ লাভ করেছেন। এর বাইরেও তাঁর ভাগ্নে ও ভাগ্নি-জামাইকে বিভিন্ন ডাকবাংলোর পদে চাকরি দেওয়া হয়েছে।
একইভাবে জেলা পরিষদের হিসাবরক্ষক আলমগীর হোসেনের ভাতিজা রাব্বুল হুসাইন ‘ইলেকট্রিশিয়ান’ পদে, এমএলএসএস তোয়াজ উদ্দীনের ছেলে আব্দুল্লাহ আল মামুন ‘ডুপ্লিকেটিং অপারেটর’ পদে, বর্তমান জেলা পরিষদ প্রশাসকের ভাই আব্দুল লতিফের ছেলে ফয়সাল আহম্মেদ নয়ন ‘অফিস সহায়ক’ পদে এবং আশিকুর রহমান ‘জিপ চালক’ পদে নিয়োগ পেয়েছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে হিসাবরক্ষক আলমগীর হোসেন তাঁর ভাতিজার চাকরি পাওয়ার সত্যতা স্বীকার করলেও বিস্তারিত কথা বলতে অস্বীকৃতি জানিয়ে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। অন্যদিকে, স্বজনদের নিয়োগের বিষয়ে জানতে চাইলে সাঁটলিপিকার শেখ শফি উদ্দীন বিষয়টি নিয়ে জেলা পরিষদ প্রশাসকের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দিয়ে ফোন কেটে দেন।
এদিকে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কোনো অনিয়ম হয়নি দাবি করে জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সেলিম রেজা জানান, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় সম্পূর্ণ বিধিমালা ও সরকারি নীতিমালা অনুসরণ করা হয়েছে। তবে নিয়োগপত্র ইস্যু করার পর একাধিক প্রার্থী একই পরিবারের হওয়ার বিষয়টি তাঁর নজরে এসেছে।
সুইপার পদে হরিজন প্রার্থী নিয়োগ না হওয়ার বিষয়ে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, হরিজন সম্প্রদায়ের এক প্রার্থী আবেদন করলেও এবং তাঁকে ইন্টারভিউয়ের চিঠি দেওয়া হলেও তিনি পরীক্ষায় অনুপস্থিত ছিলেন। ফলে প্রথা অনুযায়ী বিকল্প প্রার্থী হিসেবে অন্য একজনকে বাছাই করতে হয়েছে।