নিজস্ব প্রতিবেদক
কক্সবাজার থেকে ফেরা, বাবার কাছে আসা একের পর এক নিঃশব্দ কল, আর ভোরে মহাসড়কের পাশের এক ধানক্ষেতে পড়ে থাকা নিথর দেহ—এর মাঝেই লুকিয়ে আছে ১৫ বছরের কিশোরী তাজমিনের রহস্যজনক মৃত্যুর ক্লু।
কুমিল্লার লালমাই উপজেলার জগতপুর এলাকার ধানক্ষেত থেকে বৃহস্পতিবার সকালে জান্নাতুল তাজমিন নামের এক সপ্তম শ্রেণীর ছাত্রীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহতের বাড়ি যশোর সদর উপজেলার চুড়ামনকাটি ইউনিয়নের ছাতিয়ানতলা গ্রামে। স্থানীয় সাংবাদিক মিজানুর রহমান ফেসবুকে এক পোস্টের মাধ্যমে নিশ্চিত করেছেন যে, উদ্ধারকৃত কিশোরীর স্থায়ী ঠিকানা যশোরের ছাতিয়ানতলা।
ঘটনাস্থলের রহস্যময় সিএনজি:
ঘটনার সকাল। কুমিল্লা-নোয়াখালী আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশে ধানক্ষেতে অচেনা এক কিশোরীর লাশ দেখে আঁতকে ওঠেন স্থানীয়রা। তার কিছুটা দূরেই পরিত্যক্ত অবস্থায় দাঁড় করিয়ে রাখা ছিল একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা। খবর পেয়ে লালমাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমানের নেতৃত্বে পুলিশের একটি টিম দ্রুত আলামত জব্দ করে ও লাশ উদ্ধার করে। রহস্যের জট বাঁধছে সেখানেই—লাশের এত কাছে পরিত্যক্ত সিএনজিটি কার? এটি কি কেবলই দুর্ঘটনা, নাকি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড শেষে লাশ গুমের অপচেষ্টা?
৪ দিনের নিখোঁজ ও রহস্যময় মোবাইল কল:
তদন্তে নেমে পুলিশ ও পরিবার সূত্রে বেরিয়ে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। প্রায় চার দিন আগে বান্ধবীর বাড়ি যাওয়ার কথা বলে বাসা থেকে বের হয় তাজমিন। সেখান থেকে সে ওই বান্ধবীর সঙ্গে কক্সবাজার ভ্রমণে যায়। বুধবার রাতে তাদের কুমিল্লায় পৌঁছানোর কথা ছিল। মেয়ে বাড়ি না ফেরায় রাতভর একাধিকবার তাজমিনের মোবাইলে কল দেন বাবা আবদুল আলীম। কিন্তু ওপাশ থেকে কোনো সাড়া মেলেনি।
উদ্বিগ্ন বাবা যখন রাতভর মেয়ের সন্ধানে হন্যে হয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন, ঠিক তখনই ভোরের আলো ফুটতেই লালমাই থানা থেকে আসে সেই অশুভ খবর। থানায় গিয়ে লালমাইয়ের ধানক্ষেত থেকে উদ্ধার হওয়া ক্ষতবিক্ষত মরদেহটি নিজের মেয়ে তাজমিনের বলেই শনাক্ত করেন বাবা।
তদন্তে গোয়েন্দারা, ছাতিয়ানতলায় শোকের মাতম:
মৃত্যুর সঠিক কারণ নিয়ে এখনও তীব্র ধোঁয়াশা বজায় রয়েছে। ঘটনাটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড, নাকি নেপথ্যে অন্য কোনো অপরাধচক্র জড়িয়ে আছে—তা খতিয়ে দেখতে পুলিশের একাধিক বিশেষ টিম ও গোয়েন্দা সংস্থা মাঠে নেমেছে। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
এদিকে তাজমিনের এই নৃশংস ও অকাল মৃত্যুর খবর গ্রামে পৌঁছাতেই যশোরের ছাতিয়ানতলায় কান্নার রোল পড়েছে। স্থানীয়দের মাঝে ছড়িয়ে পড়েছে ক্ষোভ ও আতঙ্ক। পারিবারিক সূত্রে জানানো হয়েছে, ময়নাতদন্ত শেষ করে শুক্রবার লাশ গ্রামে পৌঁছালে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে।