স্টাফ রিপোর্টার
ছবি: সংগৃহীত
যশোরের নদী, খাল, পুকুর ও উন্মুক্ত জলাশয় অবৈধ দখলমুক্ত করা এবং দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা নিরসনে কার্যকর ও টেকসই পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। তিনি জানিয়েছেন, ২০৩০ সালের মধ্যে যশোরের সব উপজেলার প্রয়োজনীয় খাল পুনঃখননের পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। পাশাপাশি পরিবেশদূষণ কমাতে প্রচলিত সিসা-অ্যাসিড ব্যাটারির পরিবর্তে ইজিবাইকে লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারি ব্যবহারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
শুক্রবার (৯ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ১১টায় যশোরের ক্রাইস্ট চার্চ ট্রেড স্কুলের (সিসিটিএস) সম্মেলনকক্ষে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) যশোর জেলা শাখার দ্বিবার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, নদী, খাসজমি ও পুকুর দখলকারীদের মধ্যে প্রভাবশালীরাও রয়েছে। তবে পরিবেশ রক্ষায় সাধারণ মানুষের স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে কাজ করতে হবে। দখল হয়ে যাওয়া উন্মুক্ত জলাশয় উদ্ধার করে জনগণের ব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
খাল পুনঃখননের অগ্রগতি তুলে ধরে অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, কেশবপুরে খাল পুনঃখননের কাজ শুরু হয়েছে এবং হৈবতপুরে তা শেষ হয়েছে। পর্যায়ক্রমে যশোরের সব উপজেলার প্রয়োজনীয় খাল পুনঃখনন করা হবে।
যশোর সদর, অভয়নগর, কেশবপুর ও মনিরামপুরসহ বিভিন্ন এলাকার দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অতীতে নেওয়া উদ্যোগের ধারাবাহিকতা না থাকায় এ সংকট তীব্র হয়েছে। এ সমস্যা সমাধানে পানিসম্পদ, কৃষি ও আইন মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে নিয়ে স্থানীয় অংশীজনদের মতামতের ভিত্তিতে দ্রুত টেকসই সমাধান খোঁজা হবে।
ঐতিহাসিক যশোর-বেনাপোল সড়কের উন্নয়ন প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সড়কের উন্নয়ন করতে গিয়ে ঐতিহ্যবাহী প্রাচীন গাছগুলো রক্ষার বিষয়টি গুরুত্ব দেওয়া হবে।
পরিবেশদূষণ কমানো, বিদ্যুতের সাশ্রয়ী ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং ইজিবাইকচালকদের আয় বাড়ানোর বিষয়ে তিনি বলেন, প্রচলিত সিসা-অ্যাসিড ব্যাটারির পরিবর্তে লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারি ব্যবহার করা গেলে একদিকে বিদ্যুতের ব্যবহার সাশ্রয়ী হবে, অন্যদিকে পরিবেশদূষণ কমবে। এ প্রযুক্তি ব্যবহারে একবার চার্জে ইজিবাইক ৮০ থেকে ১০০ কিলোমিটার পর্যন্ত চলতে পারে। এতে চালকদের দৈনিক আয় প্রায় ২০০ টাকা বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
তিনি জানান, ঢাকা ইলেকট্রিক সাপ্লাই কোম্পানি (ডেসকো) রাজধানীর উত্তরখানে ইজিবাইকে লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারি ব্যবহারের একটি পরীক্ষামূলক প্রকল্প চালু করেছে। প্রকল্পটির অভিজ্ঞতা ও কার্যকারিতা মূল্যায়নের ভিত্তিতে পর্যায়ক্রমে দেশজুড়ে এ প্রযুক্তি সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।
তবে এ প্রযুক্তির সুবিধা বাস্তবে কতটা কার্যকর হবে, তা ব্যাটারির দাম, স্থায়িত্ব, চার্জের খরচ, রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় ও যানবাহনের দৈনিক ব্যবহারের ওপর নির্ভর করবে। প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, ব্যবহৃত সিসা-অ্যাসিড ব্যাটারির অনিরাপদ ব্যবস্থাপনা থেকে পরিবেশদূষণের ঝুঁকি তৈরি হয়। এ ক্ষেত্রে বিকল্প ব্যাটারি প্রযুক্তির ব্যবহার দূষণ কমাতে ভূমিকা রাখতে পারে।
দেশীয় কয়লার ব্যবহার প্রসঙ্গেও বক্তব্য দেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, আমদানিকৃত কয়লার পরিবর্তে দেশের ভূগর্ভে থাকা কয়লা ব্যবহারের সম্ভাবনা নিয়ে সরকার কাজ করছে। তবে এ ক্ষেত্রে উত্তোলন ব্যয়, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা, জ্বালানি নিরাপত্তা ও পরিবেশগত প্রভাব বিবেচনায় নিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং পরিবেশ সুরক্ষার মধ্যে সমন্বয় করতে হবে।
বাপার সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনটির সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির আহ্বায়ক খন্দকার আজিজুল হক মনি। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন যশোর জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু, যশোর জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন খোকন এবং বাপার কেন্দ্রীয় সভাপতি অধ্যাপক ড. নূর মোহাম্মদ তালুকদার। এ ছাড়া বাপার কেন্দ্রীয় কমিটির নগর পরিকল্পনাবিদ ইকবাল আহমেদসহ স্থানীয় পরিবেশকর্মীরা বক্তব্য দেন।