Ad for sale 990 x 90 Position (1)
Position (1)
শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Ad for sale 870 x 100 Position (2)
Position (2)

বেনাপোলে স্ট্রোকে ভারতীয় নাগরিকের মৃত্যু, দূতাবাসের ছাড়পত্রে ৩ দিন পর মরদেহ হস্তান্তর

বেনাপোল প্রতিনিধি বেনাপোল প্রতিনিধি
প্রকাশ : শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর,২০২৬, ০৭:২১ পিএম
বেনাপোলে স্ট্রোকে ভারতীয় নাগরিকের মৃত্যু, দূতাবাসের ছাড়পত্রে ৩ দিন পর মরদেহ হস্তান্তর

ছবি: ধ্রুব নিউজ

যশোরের বেনাপোল আন্তর্জাতিক চেকপোস্টে স্ট্রোক করে মারা যাওয়া ভারতীয় পাসপোর্টযাত্রী গৌতম মিস্ত্রির (৫৫) মরদেহ তিন দিন পর ভারতীয় দূতাবাসের ছাড়পত্র পেয়ে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরের দিকে বেনাপোল চেকপোস্ট ও ভারতের পেট্রাপোল ইমিগ্রেশন হয়ে মরদেহটি তাঁর জন্মভূমিতে নেওয়া হয়। মৃত গৌতম মিস্ত্রি ভারতের কলকাতার ৭৮/১, কালিয়নগর, সূর্য সেন পল্লীর বাসিন্দা ও রমনী মিস্ত্রির ছেলে। তাঁর পাসপোর্ট নম্বর এন-৩৩৬১৬১১।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত ২২ আগস্ট স্ত্রী জাহানারা মিস্ত্রিকে নিয়ে ভিসা সূত্রে বাংলাদেশে আসেন গৌতম মিস্ত্রি। বরিশালে আত্মীয়ের বাড়িতে বেড়ানো শেষে গত বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) বেনাপোলে পৌঁছান তাঁরা। গাড়ি থেকে নামার পরপরই গৌতম মিস্ত্রি অসুস্থ হয়ে পড়লে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

বাংলাদেশ সীমান্তে মৃত্যুর ঘটনা ঘটায় প্রয়োজনীয় আইনি ও প্রশাসনিক আনুষ্ঠানিকতা শেষ না হওয়া পর্যন্ত মরদেহ দেশে ফেরাতে পারেননি তাঁর স্ত্রী। পরবর্তীতে হাসপাতাল থেকে মৃত্যুসনদ, স্থানীয় থানার সাধারণ ডায়েরির (জিডি) কপি এবং ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনের ছাড়পত্র সংগ্রহের পর শুক্রবার তাঁর মরদেহ ভারতে পাঠানো সম্ভব হয়।

স্বামীর সঙ্গে ঘটে যাওয়া মর্মান্তিক ঘটনায় প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে গৌতম মিস্ত্রির স্ত্রী জাহানারা মিস্ত্রি বলেন, ‘দুই সপ্তাহ আগে স্বামীকে নিয়ে বাংলাদেশে নিজের বাবার বাড়ি ও আত্মীয়দের সঙ্গে দেখা করতে এসেছিলাম। বুধবার বেনাপোলে গাড়ি থেকে নামতেই তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসকরা জানান তিনি আর নেই।’

তিনি আরও বলেন, ‘কাগজপত্রের জটিলতায় তিন দিন ধরে মরদেহ আটকে ছিল। অবশেষে ডেথ সার্টিফিকেট, থানার জিডি ও ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনের ছাড়পত্র সংগ্রহ করে আজ দেশে ফিরছি।’

দুর্দিনের মানবিক সহায়তার কথা স্মরণ করে জাহানারা মিস্ত্রি জানান, ‘ঘটনার সময় আমার কাছে পর্যাপ্ত টাকা-পয়সা ছিল না। তবে এ দেশের সাধারণ মানুষ এবং বেনাপোল ইমিগ্রেশনের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুর রহমান স্যারসহ স্থানীয়রা অর্থ সংগ্রহ করে পাশে দাঁড়িয়েছেন। সেই সহায়তায় ঢাকা যাতায়াত ও আনুষঙ্গিক খরচ পরিচালনা করেছি। বিপদের সময় নিজের স্বজনদের পাশে না পেলেও বাংলাদেশের মানুষের এই অভূতপূর্ব মানবিকতা আমি চিরকাল কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ রাখব।’

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বেনাপোল চেকপোস্ট ইমিগ্রেশনের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুর রহমান জানান, গত বুধবার স্ট্রোকজনিত কারণে ওই ভারতীয় নাগরিক মারা যান। প্রাথমিকভাবে মৃত্যুসনদ ও জিডির কপি থাকলেও কূটনৈতিক ছাড়পত্র না থাকায় তাৎক্ষণিকভাবে মরদেহ হস্তান্তর সম্ভব হয়নি। পরবর্তীতে ভারতীয় দূতাবাসের ক্লিয়ারেন্স হাতে পাওয়ার পর শুক্রবার সব আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে ইমিগ্রেশন থেকে প্রয়োজনীয় ছাড়পত্র দেওয়া হয় এবং তাঁর স্ত্রী জাহানারা মিস্ত্রির কাছে মরদেহ বুঝিয়ে দিয়ে ভারতে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়।

ধ্রুব নিউজের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

💬 Comments

Login | Register
Ad for sale 270 x 225 Position (3)
Position (3)
Ad for sale 990 x 90 Position (4)
Position (4)