নিজস্ব প্রতিবেদক
ছবি: ধ্রুব নিউজ
ফুলবাড়ী দিবস উপলক্ষে যশোর সরকারি মাইকেল মধুসূদন (এমএম) কলেজ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে বীর শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেছে বাংলাদেশের বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগ, যশোর জেলা শাখা। বুধবার (২৬ আগস্ট) সকালে পুষ্পস্তবক অর্পণের পর শহীদদের স্মরণে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।
পরবর্তীতে আয়োজিত এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশে নেতৃবৃন্দ বলেন, ফুলবাড়ীর ত্যাগ ও রক্তস্নাত ইতিহাস শুধু নির্দিষ্ট কোনো অঞ্চলের নয়, বরং তা পুরো দেশের জাতীয় সম্পদ রক্ষার আন্দোলন ও অধিকার আদায়ের প্রতীক।
সমাবেশে বক্তব্য দিতে গিয়ে বাংলাদেশের বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগের কেন্দ্রীয় নেতা ও যশোর জেলা সম্পাদক কমরেড তসলিম উর রহমান কয়লা উত্তোলন নীতির তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, বিএনপি সরকারের আমলে প্রথম ১৩৫ বর্গ কিলোমিটার এলাকায় উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লা উত্তোলনের উদ্যোগ নেওয়া হয় এবং পরবর্তীতে এশিয়া এনার্জির সাথে চুক্তি স্বাক্ষর করা হয়, যা আওয়ামী লীগ সরকারও বজায় রাখে। উন্মুক্ত পদ্ধতিতে এই কয়লা উত্তোলনের প্রতিবাদে ২০০৬ সালের ২৬ আগস্ট ফুলবাড়ীর সাধারণ জনগণ এশিয়া এনার্জির কার্যালয় ঘেরাও কর্মসূচি ঘোষণা করেছিল।
তৎকালীন ট্র্যাজেডির ইতিহাস তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, সেই শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে অতর্কিত হামলা ও গুলিবর্ষণ করা হলে আল-আমিন, সালেকিন ও তরিকুল নির্মমভাবে শহীদ হন। ওই ঘটনায় শত শত মানুষ আহত ও পঙ্গুত্ব বরণ করেন। আল-আমিন, সালেকিন ও তরিকুলদের রক্তের বিনিময়েই ফুলবাড়ীর ঐতিহাসিক প্রতিরোধ ও বিজয় অর্জিত হয়েছিল।
বর্তমান সরকারের বিভিন্ন নীতি ও পরিকল্পনার কঠোর সমালোচনা করে কমরেড তসলিম উর রহমান হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, অতীত থেকে শিক্ষা না নিয়ে নতুন করে যদি আবার উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লা উত্তোলনের চক্রান্ত করা হয়, তবে সাধারণ জনগণ তা বরদাশত করবে না। জাতীয় সম্পদ বিদেশীদের হাতে তুলে দেওয়া এবং শহীদদের সাথে বেইমানির অপরাধে দেশের মানুষ ঐক্যবদ্ধভাবে যেকোনো চক্রান্ত রুখে দেবে।
শ্রদ্ধা নিবেদন ও উক্ত প্রতিবাদী সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশের বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক কমরেড ইকবাল কবির জাহিদ, জেলা কমিটির নেতা পলাশ বিশ্বাস, শহর শাখার নেতা হাবিবুর রহমান মোহন, এনামুল কবির মুক্তি, বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রী যশোর জেলার ছায়হাম বিশ্বাস অর্ক, সাবেক ছাত্রনেতা শিমুল বিশ্বাস ও প্রদীপ বিশ্বাসসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
কর্মসূচি থেকে জাতীয় সম্পদ রক্ষা ও বহুজাতিক কোম্পানির চক্রান্ত প্রতিহত করতে দেশের সর্বস্তরের জনগণকে জোরদার আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানানো হয়।