ক্রীড়া ডেস্ক
ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো ছবি: রয়টার্স
বিশ্বকাপের স্বত্ব বেসরকারীকরণ ও ব্যক্তিগত বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রির বিতর্কে ফের উত্তপ্ত বিশ্ব ফুটবল। ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর এই বিতর্কিত পরিকল্পনার বিরুদ্ধে শুরু থেকেই সরব ছিল উয়েফা, কনকাকাফসহ এশীয় ফুটবল সংস্থাগুলো। জল ঘোলা হওয়ার পর পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত মনে হলেও, আদতে সহজে পার পাচ্ছেন না ফিফা প্রধান। ইনফান্তিনোকে আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে এবার আঁটঘাঁট বেঁধে নামছে ইউরোপীয় ফুটবলের অভিভাবক সংস্থা উয়েফা।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম 'স্কাই নিউজ'-এর এক বিশেষ প্রতিবেদনে জানা গেছে, ইনফান্তিনোসহ ফিফার একাধিক কর্মকর্তা ও পরামর্শকের বিরুদ্ধে সুইজারল্যান্ডে ফৌজদারি মামলা ঠুকে দেওয়ার যাবতীয় আইনি প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে উয়েফা। ফিফার সদর দপ্তর সুইজারল্যান্ডেই অবস্থিত হওয়ায় দেশটির প্রচলিত আইনি কাঠামো ব্যবহার করে প্রশাসনিক অব্যবস্থাপনার অভিযোগ আনা হচ্ছে।
সংগৃহীত আইনি নথির বরাত দিয়ে স্কাই নিউজ জানায়, সুইস ফৌজদারি দণ্ডবিধির ১৫৮ অনুচ্ছেদের আওতায় 'অসাধু ও ফৌজদারি অব্যবস্থাপনার' (ক্রিমিনাল মিসম্যানেজমেন্ট) অভিযোগে অভিযুক্ত করা হচ্ছে জিয়ান্নি ইনফান্তিনোকে। উয়েফার দাবি, ফুটবল বিশ্বকাপের মতো মর্যাদাপূর্ণ টুর্নামেন্টের স্বত্ব হস্তান্তরের পুরো প্রক্রিয়াটিতে চরম গোপনীয়তা রক্ষা করা হয়েছে। এই প্রস্তাবিত চুক্তিটির মূল্যায়ন, বাণিজ্যিক বিপণন ও অর্থায়নের গোপন ছক ফিফার প্রশাসনিক ভিত্তি, ভাবমূর্তি এবং দীর্ঘদিনের বাণিজ্যিক সম্পর্ককে চূড়ান্ত ঝুঁকিতে ফেলেছে।
আইনি কৌশলকে আরও মজবুত করতে ইতোমধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র ও সুইজারল্যান্ডের সংশ্লিষ্ট আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে আইনি সমন পাঠিয়েছে উয়েফা। নিউ ইয়র্কের সাউদার্ন ডিস্ট্রিক্ট আদালতে বিশ্বখ্যাত বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান জেপি মরগান, থ্রাইভ ক্যাপিটাল এবং এর প্রধান নির্বাহী জশুয়া কুশনারের (মার্কিন সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনারের ভাই) বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক আবেদন জমা দেওয়া হয়েছে। এই প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমেই বিশ্বকাপের শেয়ার কেনাবেচার সম্ভাব্য পরিকল্পনা এগোচ্ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।
বিশ্বকাপ ফুটবলকে বেসরকারীকরণের পরিকল্পনার জেরে দীর্ঘদিন ধরে ফিফা ও উয়েফার মধ্যে মনস্তাত্ত্বিক টানাপোড়েন চলছিল। উয়েফার এই কঠোর ও অভাবনীয় আইনি পদক্ষেপের ফলে দুই ক্ষমতাধর ফুটবল সংস্থার দ্বন্দ্ব এখন সরাসরি আদালত পর্যন্ত গড়াচ্ছে, যা বিশ্ব ফুটবলের ভবিষ্যৎ রাজনীতিতে বড় ধরনের তোলপাড় সৃষ্টি করতে পারে।