নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজ হাতে বালি ছিটিয়ে কাদা সরালেন তরুন সমাজসেবক শামীম ছবি: ধ্রুব নিউজ
রাস্তাজুড়ে হাঁটু কাদা। একটু বৃষ্টি হলেই হাঁটার কোনো উপায় থাকে না। দীর্ঘদিন ধরে এই ভোগান্তি মাথা পেতে নিয়েই দিন পার করছিলেন মনিরামপুর উপজেলার ভোজগাতি ইউনিয়নের গতাই গ্রাম ও ২ নম্বর ওয়ার্ডের ছোট দোনার এলাকার বাসিন্দারা। তবে সেই কাদার দিনে স্বস্তি এনে দিয়েছেন স্থানীয় তরুণ এইচ এম শামীম হোসেন।
গ্রামের একমাত্র জনগুরুত্বপূর্ণ রাস্তাটি দীর্ঘদিন ধরে খানাখন্দে ভরা ও কাদা-পানিতে সয়লাব হয়ে একদম চলাচলের অনুপযোগী ছিল। প্রতিদিন বয়োবৃদ্ধ এবং স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীদের চলাচলে পোহাতে হচ্ছিল চরম দুর্ভোগ। এলাকাবাসীর এই আকুলতা ও দুর্দশার কথা জানতে পেরে আর ঘরে বসে থাকেননি শামীম ।
শুধু দূর থেকে অর্থ সাহায্য পাঠিয়েই দায়িত্ব শেষ করেননি এই তরুণ নেতা; গ্রামের মানুষের পাশে দাঁড়াতে নিজে চলে এসেছেন পথে। পরিস্থিতি অনুধাবন করে তাৎক্ষণিকভাবে নিজস্ব অর্থায়নে বালু ও ইট দিয়ে মেরামতের পূর্ণাঙ্গ ব্যবস্থা নেন। কাজের তদারকির পাশাপাশি নিজের হাতে রাস্তায় বালি ছড়িয়ে চলাচলের সুব্যবস্থা করে দেন তিনি।
রাস্তাটির চিত্র দ্রুত বদলে যাওয়ায় স্বস্তি ফিরে এসেছে স্থানীয়দের মাঝে। এলাকাবাসী অত্যন্ত সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, "এই কাদার কারণে দীর্ঘদিন ধরে আমাদের যাতায়াতে অনেক কষ্ট পাচ্ছিলেন বৃদ্ধ ও শিক্ষার্থীরা। শামীম হোসেনের এই সময়োপযোগী শ্রমে আজ আমাদের চলাচলের বড় একটি কষ্ট দূর হলো। আমরা তাঁর উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করি।"
এ বিষয়ে চেয়ারম্যান এইচ এম শামীম হোসেন বলেন, "কারো যেকোনো ছোট উপকার করতে পারাটাই আমাকে দারুণ আনন্দ ও মানসিক তৃপ্তি দেয়। কাদার জন্য সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ দেখে স্থির থাকতে পারিনি। অবহেলিত মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে নিজ হাতে কাজ করাটা কোনো ছোট বিষয় নয়, বরং এটা আমার দায়িত্ব। আমি আমৃত্যু এই ধরণের জনকল্যাণমুখী ও সেবামূলক কাজের সাথে নিজেকে যুক্ত রাখতে চাই, ইনশাআল্লাহ।"