বেনাপোল প্রতিনিধি
ফেরত আসা ৫ নারী ছবি: ধ্রুব নিউজ
উন্নত জীবনের আশায় দালালের প্রলোভনে পড়ে অবৈধভাবে ভারতে গিয়ে কারাভোগ করা পাঁচ বাংলাদেশি নারী বিশেষ ট্রাভেল পারমিটের মাধ্যমে দেশে ফিরেছেন। দীর্ঘ আড়াই বছর ভারতের কারাগারে থাকার পর মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সন্ধ্যায় বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে তাদের দেশে প্রত্যাবাসন করা হয়।
ভারতের হরিদাসপুর চেকপোস্টে বিএসএফ ও ভারতীয় ইমিগ্রেশন পুলিশ সদস্যেরা বেনাপোল চেকপোস্ট ইমিগ্রেশন পুলিশ ও বিজিবির (বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ) কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের হস্তান্তর করেন।
দেশে ফেরা পাঁচ নারী হলেন—বাগেরহাট জেলার শিমু আক্তার ও শারমিন খাতুন, টাঙ্গাইল জেলার পাপিয়া বাদশা, যশোর জেলার লাভলী খাতুন এবং নড়াইল জেলার রোজিনা খাতুন।
বন্দর সূত্র জানায়, ভারতের মুম্বাইয়ে অবস্থিত বাংলাদেশ উপ-হাইকমিশন এবং ভারতের ফরেনার্স রিজিওনাল রেজিস্ট্রেশন অফিস (এফআরআরও) থেকে ইস্যুকৃত ট্রাভেল পারমিট ও 'লিভ ইন্ডিয়া' নোটিশের ভিত্তিতে তাদের প্রত্যাবাসনের ব্যবস্থা করা হয়। দুই দেশের আইনি প্রক্রিয়া ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উপস্থিতিতে হরিদাসপুর সীমান্তে এ হস্তান্তর কার্যক্রম সম্পন্ন হয়।
বেনাপোল চেকপোস্ট ইমিগ্রেশন পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুর রহমান জানান, ভালো কাজের প্রলোভনে পড়ে দালাল চক্রের মাধ্যমে পাসপোর্ট-ভিসা ছাড়াই তারা অবৈধ পথে ভারতে গিয়েছিলেন। সেখানে দেশটির পুলিশের হাতে আটক হয়ে প্রায় আড়াই বছর তাদের কারাভোগ করতে হয়। পরবর্তীতে দুই দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কূটনৈতিক হস্তক্ষেপে তাদের দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে।
তিনি আরও জানান, দেশে ফেরার পর আইনি আনুষ্ঠানিকতা শেষে স্বজনদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে তাদের মানবাধিকার সংস্থা ‘জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ার’-এর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
যশোর জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ারের এরিয়া কো-অর্ডিনেটর মুহিত চৌধুরী বলেন, "ফেরত আসা নারীদের আপাতত আমাদের শেল্টারহোমে রাখা হবে। পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে দ্রুতই তাঁদের স্বজনদের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হবে।"