ধ্রুব নিউজ
ছবি: সংগৃহীত
গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় মহিলা কারাগার থেকে এক সাজাপ্রাপ্ত নারী কয়েদি পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে সাতজন কারারক্ষীকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে কারা কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে একজন সিনিয়র জেল সুপারকে প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। শনিবার দুপুরে গাজীপুরের জেলা প্রশাসক মো. নূরুল করিম ভূঁইয়া বিষয়টি গণমাধ্যমে নিশ্চিত করেছেন।
সাময়িক বরখাস্ত হওয়া সাতজনের মধ্যে রয়েছেন তিনজন মেট্রন ও চারজন নারী কারারক্ষী। তারা হলেন—মেট্রন লায়লা আঞ্জুমান সুমি, মেরিনা ও রেহেনা এবং নারী কারারক্ষী শায়লা, শারমিন, জেমি ও আসমা আক্তার।
সহকারী কারা মহাপরিদর্শক (উন্নয়ন) মো. জান্নাত-উল-ফরহাদ বলেন, দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হওয়ায় শুক্রবার তাদের সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
কারাগার সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় প্রায় ৪০ জন নারী বন্দিকে দিয়ে কারাগারের ভেতরে ইট বহনের কাজ চলছিল। এ সময় দায়িত্বে থাকা মেট্রনের অসতর্কতার সুযোগ নিয়ে সাজাপ্রাপ্ত কয়েদি মোছা. রিম্পা (২১) কারাগারের অফিস ভবনের পাশের সীমানাপ্রাচীর টপকে পালিয়ে যান। পরে বন্দী গণনার সময় তার অনুপস্থিতি ধরা পড়ে। এরপর সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে তার পালিয়ে যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হয় কারা কর্তৃপক্ষ।
মো. জান্নাত-উল-ফরহাদ বলেন, পলাতক কয়েদিকে গ্রেপ্তারে পুলিশসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা অভিযান চালাচ্ছে। একই সঙ্গে কঠোর নিরাপত্তাবেষ্টিত কারাগার থেকে কীভাবে একজন বন্দি পালাতে সক্ষম হয়েছেন, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
পলাতক রিম্পা মেহেরপুর জেলার গাংনী উপজেলার রায়পুর গ্রামের মো. হাসান হাবিবের মেয়ে। তিনি ঢাকার ধানমন্ডি থানার ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তিন মাসের সাজাপ্রাপ্ত বন্দি হিসেবে কাশিমপুর পার্ট-৩ (মহিলা) কারাগারে বন্দি ছিলেন।
ঘটনার পর কারাগারের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও দায়িত্ব পালনে সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহিতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর এ ঘটনায় আরও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলে কারা সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।