ধ্রুব ডেস্ক
যশোর জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে বিশেষ কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। ছবি: ধ্রুব নিউজ
যশোরের অভিশাপখ্যাত ভবদহ অঞ্চলের মানুষকে জলাবদ্ধতা থেকে মুক্ত করা বর্তমান সরকারের রাজনৈতিক অঙ্গীকার বলে ঘোষণা দিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। আজ শনিবার দুপুরে যশোর জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে এক বিশেষ কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই আশ্বাস প্রদান করেন। যশোরের ভবদহ এলাকার নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নতি এবং দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের শিবসা ও পশুর নদীর অববাহিকায় পলি ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা প্রণয়ন করার জন্য ‘সম্ভাব্যতা সমীক্ষা’ শীর্ষক এই মতবিনিময় কর্মশালার আয়োজন করে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (বাপাউবো) এবং ইনস্টিটিউট অব ওয়াটার মডেলিং (আইডব্লিউএম)।
প্রধান অতিথির বক্তৃতায় প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, ভবদহের মূল সমস্যা এবং সমাধান টিআরএমের (জোয়ার আধার) মধ্যেই লুকায়িত রয়েছে। কিন্তু অতীতে ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে ভবদহ সমস্যা সমাধানের নামে শুধু অর্থ লুটপাট হয়েছে, কোনো স্থায়ী সমাধান হয়নি। ফলে এই প্রকল্প নিয়ে জনগণের মধ্যে একটি বড় আস্থার সংকট তৈরি হয়েছে। বর্তমান সরকার কাজের মাধ্যমে জনগণের সেই আস্থার সংকট দূর করতে চায়। তিনি উল্লেখ করেন, ২০০১ সালে বিএনপি রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আসার পর টিআরএম প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে ভবদহ পাড়ের মানুষকে জলাবদ্ধতার হাত থেকে রক্ষা করেছিল এবং ভুক্তভোগীরা ২০১৩ সাল পর্যন্ত তার সুফল পেয়েছিলেন। প্রতিমন্ত্রী নিজে ভবদহ সমস্যা প্রত্যক্ষ করেছেন জানিয়ে বলেন, এর স্থায়ী সমাধানের বিষয়ে তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাথে কথা বলেছেন। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষকে সঠিকভাবে ক্ষতিপূরণ দিয়ে আস্থায় নিলে দ্রুততম সময়ে এই সংকটের সমাধান সম্ভব। এজন্য তিনি প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তরা যাতে ক্ষতিপূরণ পান, সেজন্য নির্মোহভাবে ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা তৈরির নির্দেশ দেন।
কর্মশালায় জানানো হয়, ভবদহ ও বিল ডাকাতিয়া এলাকার নদীতে অতিরিক্ত পলি জমা হওয়া এবং পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতার কারণে কয়েক যুগ ধরে এই অঞ্চলে ভয়াবহ জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে। অতীতে টিআরএম কার্যক্রমের মাধ্যমে সুফল পাওয়া গেলেও বিভিন্ন জটিলতায় তা বন্ধ হয়ে যায়, যাতে জলাবদ্ধতা আরও তীব্র আকার ধারণ করে। ২০২১ সালে ভবদহ রেগুলেটরের ওপর ২০টি নিষ্কাশন পাম্প স্থাপন করা হলেও ২০২৪ সালের অতিবর্ষণজনিত কারণে তার কোনো সুফল পাওয়া যায়নি।
যশোরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসানের সভাপতিত্বে কর্মশালায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন যশোর-৪ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক গোলাম রসুল, যশোর-৫ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট গাজী এনামুল হক, যশোর-৬ আসনের সংসদ সদস্য মোক্তার আলী, পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব খন্দকার আজিম আহমেদ এবং বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের অতিরিক্ত মহাপরিচালক রুহুল আমিন।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ও প্রকল্প পরিচালক নাজরিন আক্তার খান। পরামর্শক প্রতিষ্ঠান আইডব্লিউএমের সিনিয়র স্পেশালিস্ট শেখ নাহিদুজ্জামান সমীক্ষা প্রকল্পের বিস্তারিত উপস্থাপনা করেন। উন্মুক্ত আলোচনা পর্বে অংশীজনদের পক্ষে বক্তব্য রাখেন ভবদহ কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ আব্দুল মতলেব সরদার, বাম নেতা ইকবাল কবির জাহিদ, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আমান উল্লাহসহ ভবদহ এলাকার ভুক্তভোগী ও ক্ষতিগ্রস্ত সাধারণ মানুষ।