ধ্রুব ডেস্ক
ছবি: সংগৃহীত
ঢালাইয়ে লোহার পরিবের্তে বাঁশ ব্যবহার করে ব্রিজের নাম দেয়া হয়েছে আয়রন(লেহা) ব্রিজ। এখন নামেই সার্থক। বরিশালের আগৈলঝাড়ার ব্রিজ। ব্রিজ নির্মাণে রডের পরিবর্তে বাঁশের কঞ্চি দেওয়ার ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ইউনিয়নজুড়ে সমালোচনার সৃষ্টি হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, উপজেলার রত্নপুর ইউনিয়নের দুশমী-করিমবাজার খালের ওপর বারপাইকা গ্রামের রুহুল হোসেনের বাড়ির সামনে ইউনিয়ন পরিষদের অর্থায়নে প্রায় ৪৫ ফুট দৈর্ঘ্য ও সাড়ে পাঁচ ফুট প্রস্থের একটি আয়রন ব্রিজ নির্মাণ করা হয়েছে। ওই ব্রিজের ঢালাইয়ে নিয়ম অনুযায়ী রড ব্যবহার না করে বাঁশের কঞ্চি ব্যবহার করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয়রা ঢালাইয়ের সময় বাধা দিলে ঠিকাদার পাঁচ পিস রড আনেন এবং ঢালাইয়ে সিমেন্ট কম হওয়ায় স্থানীয়দের দিয়ে পাঁচ ব্যাগ সিমেন্ট কিনে এনে ব্রিজের উত্তর পাড়ে বাঁশের কঞ্চি দিয়ে মঙ্গলবার ঢালাই সম্পন্ন করেন।
এই পথে যাতায়াতকারী মো. হিমু মোল্লা ও ইদ্রিস মোল্লা বলেন, ‘ব্রিজটি ৫৫ ফুট দৈর্ঘ্য হওয়ার কথা থাকলেও ইউপি সদস্য সোহেল মোল্লা ঢালাই দিয়েছেন ৪৫ ফুট।’
ব্রিজটি ঢালাইয়ের জন্য সম্প্রতি উপজেলার রত্নপুর ইউনিয়ন পরিষদ ১ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয় ১ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য সোহেল মোল্লাকে। এ ছাড়া ব্রিজের সুফলভোগীদের কাছ থেকে ইউপি সদস্য সোহেল মোল্লা ব্রিজ দেওয়ার কথা বলে বিভিন্ন সময় ৮৫ হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন বলেও স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন।
তবে ইউপি সদস্য সোহেল মোল্লা টাকা নেওয়ার কথা অস্বীকার করে বলেন, ‘বাঁশ ব্যবহার করা হয়েছে ৪৫ ফুট ব্রিজের বাইরে। তা ছাড়া এটা আমরা করিনি, করেছে স্থানীয়রা।’
এ ব্যাপারে রত্নপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তফা সরদার বলেন, ওই স্থানে ব্রিজ নির্মাণের জন্য প্রথম পর্যায়ে দেড় লাখ টাকা দেওয়া হয়েছিল। সম্প্রতি ঢালাইয়ের জন্য এক লাখ টাকা দেওয়া হয়।
এ ব্যাপারে উপজেলা প্রকৌশলী রবীন্দ্র চক্রবর্তী জানান, ‘ব্রিজ ঢালাই দেওয়ার কথা আমাদের বিভাগকে কেউ জানায়নি। কেউ এলজিইডি বিভাগকে না জানিয়ে ব্রিজের ঢালাই দিতে পারে না।’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লিখন বণিক বলেন, ‘আমি ব্রিজের ঢালাইয়ের বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখেছি। সরেজমিন ব্রিজটি দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।’
সূত্র : আজকের পত্রিকা