নিজস্ব প্রতিবেদক
যশোরে পবিত্র ঈদুল ফিতরের ছুটিতে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় গত ৫ দিনে ৫ জন নিহত হয়েছেন। এ সময় আরও অন্তত ৬০ জন আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।
হাসপাতাল ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১৯ মার্চ হতে ২৪ মার্চ পর্যন্ত ছিল ঈদুল ফিতরের ধর্মীয় উৎসবের বড় ছুটি। এই সময়ে জেলার বিভিন্ন সড়কে চলাচলের সময় পৃথক দুর্ঘটনায় মোট পাঁচজন নিহত হন। এর মধ্যে গত মঙ্গলবার গভীর রাতে যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার গাইদঘাটে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় একই পরিবারের পিতা, পুত্র ও নাতনিসহ ৩ জন নিহত এবং স্ত্রী ও সন্তানসহ আরও ৩ জন গুরুতর আহত হয়েছেন।
মণিরামপুর উপজেলার ফতেয়াবাদ গ্রামের বাসিন্দা ও সোনালী ইটভাটার স্বত্বাধিকারী আলহাজ্ব আব্দুল মজিদ সরদার (৭৫), তাঁর একমাত্র পুত্র স্থানীয় ইন্টারনেট ব্যবসায়ী মাহমুদুল হাসান জনি (৩৫) এবং জনির একমাত্র কন্যাসন্তান মাহাবিন হাসান সেহেরিস (৪)।
নিহত আব্দুল মজিদ সরদারের স্ত্রী মনোয়ারা খাতুন মিনু (৬০), পুত্রবধূ সাবিহা সাবরীন সমী (৩৫) এবং নাতি শামিন আলমাছ (১২)। তাদের শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য বুধবার জরুরি ভিত্তিতে ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়েছে।
নিহতদের আত্মীয় ও রতন জানিয়েছেন, রাত পৌনে ২টার দিকে তারা একটি প্রাইভেটকারে (ঢাকা মেট্রো-গ ১১-২৫৫৮) চুয়াডাঙ্গায় আত্মীয়ের বাড়ি থেকে দাওয়াত খেয়ে মণিরামপুরে ফিরছিলেন। গাড়িটি চালাচ্ছিলেন মাহমুদুল হাসান জনি। পথিমধ্যে যশোর-মাগুরা সড়কের গাইদঘাট এলাকায় পৌঁছালে চালক নিয়ন্ত্রণ হারান এবং গাড়িটি রাস্তার পাশের একটি বটগাছের সঙ্গে সজোরে ধাক্কা লাগলে এই হতাহতের ঘটনা ঘটে।
গত ২২ মার্চ সন্ধ্যায় যশোর-মাগুরা সড়কের বাহাদুরপুরে অজ্ঞাত যানের ধাক্কায় সদর উপজেলার বাহাদুরপুর গ্রামের বাসিন্দা আনোয়ার হোসেন (৭৫) নামে এক বৃদ্ধ ঘটনাস্থলেই নিহত হন। এর আগে একই সড়কে মাগুরার শালিখা উপজেলার হাটবাড়িয়া গ্রামের মিলন হোসেনের স্ত্রী তন্বী খাতুন (২৫) সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান।
যশোর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ঈদের এই ছুটিতে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় আরও অন্তত ৬০ জন আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। তাদের মধ্যে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে অনেকে বাড়ি ফিরে গেছেন এবং বেশ কয়েকজন এখনও চিকিৎসাধীন রয়েছেন।আহতদের অধিকাংশ মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার শিকার।