Ad for sale 990 x 90 Position (1)
Position (1)
সোমবার, ২৩ মার্চ ২০২৬
Ad for sale 870 x 100 Position (2)
Position (2)

কুমিল্লায় রেলক্রসিংয়ে নিহতদের ৯জন বৃহত্তর যশোরের

ধ্রুব ডেস্ক ধ্রুব ডেস্ক
প্রকাশ : রবিবার, ২২ মার্চ,২০২৬, ০৩:১৪ পিএম
আপডেট : রবিবার, ২২ মার্চ,২০২৬, ০৪:০৮ পিএম
কুমিল্লায় রেলক্রসিংয়ে নিহতদের ৯জন বৃহত্তর যশোরের

ছবি: সংগৃহীত

কুমিল্লায় অরক্ষিত রেলক্রসিংয়ে উঠে যাওয়া বাসে চলন্ত ট্রেনের ধাক্কায় নিহত ১২ জনের পরিচয় মিলেছে। কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের হিমঘর সূত্রে তাদের পরিচয় জানা যায়।  নিহতদের ৭ জন পুরুষ, ২ জন নারী ও তিন শিশু রয়েছেন। রোববার (২২ মার্চ) ময়নামতি হাইওয়ে পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল মোমিন নিহতদের নাম-পরিচয়ের তথ্য নিশ্চিত করেছেন

যশোর- যশোরের চৌগাছার ফকির চাঁদ বিশ্বাসের ছেলে মো. সিরাজুল ইসলাম (৬২) ও একই এলাকার সিরাজুল ইসলামের স্ত্রী কোহিনুর বেগম (৫৫)।

ঝিনাইদহ- মহেশপুরের পিন্টুর স্ত্রী লাইজু আক্তার (২৬) এবং তার দুই শিশুসন্তান খাদিজা আক্তার (৬) ও মরিয়ম আক্তার (৪)। এছাড়া সদর উপজেলার মো. মোকতার বিশ্বাসের ছেলে মো. জোয়াদ বিশ্বাস (২০)।

মাগুরার মোহাম্মদপুরের ওহাব শেখের ছেলে ফসিয়ার রহমান (২৬), চুয়াডাঙ্গার জীবননগরের বিল্লাল হোসেনের ছেলে সোহেল রানা (৪৬)।

নোয়াখালী- সোনাইমুড়ীর সালামত উল্লাহর ছেলে মো. বাবুল চৌধুরী (৫৩), সুধারাম থানার মো. সেলিমের ছেলে নজরুল ইসলাম রায়হান (৩৩)।

এছাড়া চাঁদপুরের কচুয়ার মোমিনুল হকের ছেলে তাজুল ইসলাম (৬৮), লক্ষ্মীপুর সদরের মো. সিরাজুল দৌলার মেয়ে সায়েদা (৯)।

শনিবার রাত পৌনে তিনটার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার পদুয়ার বাজার রেলক্রসিংয়ে এ দুর্ঘটনায় অন্তত ১২ জন বাসযাত্রী নিহত হয়েছেন। এতে আরও ১০ থেকে ১৫ জন যাত্রী আহত হয়। দুর্ঘটনার পর রোববার সকাল ৮টার দিকে আখাউড়া থেকে উদ্ধারকারী ট্রেন ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কাজ শুরু করে। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে দুর্ঘটনাকবলিত ট্রেনটি কুমিল্লা রেলওয়ে স্টেশনে সরিয়ে নিতে দেখা যায়। ১১টার পর রেল যোগাযোগ স্বাভাবিক হয়। আটকে পড়া মহানগর প্রভাতি ও কর্ণফুলী ঘটনাস্থল অতিক্রম করে গন্তব্যে গেছে। 

রোববার সকাল থেকে সেখানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের উপস্থিতি বাড়তে থাকে। সকাল ৯টায় সেখানে গিয়ে দেখা যায়, রেলক্রসিংয়ের দুই পাশের প্রতিবন্ধক (বেরিয়ার) অক্ষত আছে। বাসের ভাঙা গ্লাস ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে আছে। ঘটনাস্থলের ১০ থেকে ১২ গজ দূরে রেললাইনে বাসের দুটি চাকা পড়ে থাকতে দেখা যায়। ঘটনাস্থলের পাশে রেলের কর্মীদের থাকার একটি কক্ষও (ই-৪৭) তালাবদ্ধ দেখা গেছে। 

এদিকে দুর্ঘটনার পর পালিয়েছে ওই রেলক্রসিংয়ের গেটম্যান। এ ঘটনায় রেলের দুই গেটম্যানকে সাময়িক বরখাস্ত (সাসপেন্ড) করেছে রেল কর্তৃপক্ষ। তারা হলেন, মেহেদি হাসান ও হেলাল উদ্দিন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রেলওয়ের চট্টগ্রাম বিভাগের বিভাগীয় ব্যবস্থাপক মোস্তাফিজুর রহমান। তিনি বলেন, ‘রেলওয়ের পক্ষ থেকে বিভাগীয় ও জোনাল দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত শুরু হয়েছে। যাদের অবহেলায় এ দুর্ঘটনা তাদের বিরুদ্ধে রিপোর্ট পাওয়ার পর বিভাগীয় ব্যবস্থাও নেওয়া হবে।’ 

ঘটনাস্থলে তদন্তে আসা পিবিআইয়ের একজন পরিদর্শক বলেন, ‘আহতদের বক্তব্য ও স্থানীয়ভাবে তদন্তে নিশ্চিত হওয়া গেছে ঘটনার সময় গেটম্যান গেট না ফেলায় বাস রাস্তা ফাঁকা পেয়ে রেল লাইনে উঠে যায়। এ সময় ট্রেনটি বাসটিকে অন্তত আধা কিলোমিটার দূরে নিয়ে যায়।’ 

এদিকে উদ্ধার অভিযানে আসা কুমিল্লা রেলওয়ে বিভাগের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন প্রকৌশলী বলেন, ২৪ ঘণ্টা ব্যস্ততম গেটে আমাদের লোকজন থাকে। গত রাতে গেটম্যান ভুলে হয়তো গেট ফেলেনি। 

কুমিল্লা জেলা প্রশাসক মু. রেজা হাসান বলেন, আহতদের মধ্যে ১৮ জন প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে চলে গেছেন। ৫ জন এখনো কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি আছেন। আমরা জেলা প্রশাসন থেকে নিহতদের জনপ্রতি ২৫ হাজার টাকা সহায়তা করবো।

তিনি বলেন, দুর্ঘটনা তদন্তে জেলা প্রশাসন ও রেলওয়ে পৃথক তিনটি তদন্ত কমিটি করেছে। অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. জাফর সাদিক চৌধুরীকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের কমিটি করেছে জেলা প্রশাসন। 

কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের মেডিকেল অফিসার অজয় ভৌমিক বলেন, হতাহতদের হাসপাতালে আনা হয় রাত চারটার দিকে। ১২ জনের মরদেহ হাসপাতালে আছে। নিহতদের মধ্যে সাতজন পুরুষ, দু'জন নারী ও তিনজন শিশু রয়েছে। 

কুমিল্লা ইপিজেড ফাঁড়ির ইনচার্জ মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানান, রাত তিনটার দিকে আমরা দুর্ঘটনা খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে হতাহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠিয়েছি। মৃতের সংখ্যা বাড়তে পারে।

দূর্ঘটনার বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দা শাহেনাজ আক্তার বলেন, ‘রাত পৌনে তিনটায় আওয়াজ শুনে রেললাইনে আসি। তখন রেলের লোকজনই উদ্ধার শুরু করে। আহতদের চিৎকারে এলাকার লোকজন ছুটে আসে। পরে আসে ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ।’ 

আহত যাত্রীরা জানান, ঢাকাগামী ওয়ান আপ ট্রেন কুমিল্লা নগরীর পদুয়ার বাজার রেল ক্রসিং এলাকায় পৌঁছালে চট্টগ্রাম অভিমুখী মামুন স্পেশাল পরিবহনের একটি বাসের সাথে সংঘর্ষ ঘটে। বাসটি চুয়াডাঙ্গা থেকে লক্ষীপুরের দিকে যাচ্ছিল বলে জানা গেছে। 

আহত যাত্রী তফাজ্জল হোসেন বলেন, প্রচন্ড আওয়াজে ঘুম ভেঙে যায়। পরে রক্তাক্ত অবস্থায় পুলিশ হাসপাতালে নিয়ে আসে।

ট্রেনের যাত্রী ও স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, রেলগেটের সিগন্যাল ম্যানের অবহেলার কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে। দুর্ঘটনার পর জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে অনেকবার ফোন দিলেও কেউ কল রিসিভ করেনি।

পুলিশ জানায়, খবর পেয়ে পুলিশের পাশাপাশি ফায়ার সার্ভিস ও রেলওয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। আহতদের কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

ফায়ার সার্ভিসের উপ-সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ ইদ্রিস বলেন, বাস চালকের ভুলের কারণে এ ঘটনা ঘটেছে বলে আমরা প্রাথমিকভাবে ধারণা করছি। ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা ঘটনাস্থল থেকে তিনজনের মৃতদেহ উদ্ধার করে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। তার আগেই পুলিশ ও স্থানীয় লোকজন আরও কয়েকটি লাশ উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়। 

চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে নোয়াখালীর দিকে যাওয়ার পথে মামুন পরিবহনের যাত্রীবাহী একটি বাসের সঙ্গে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকাগামী মেইল ট্রেনের সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনা স্থলেই ১২ জনের মৃত্যু হয়৷ আহত হয় অন্তত ১৫ জন। তাদেরকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ জেলার বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

 

ধ্রুব নিউজের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

💬 Comments

Login | Register
Ad for sale 270 x 225 Position (3)
Position (3)
Ad for sale 990 x 90 Position (4)
Position (4)