অভয়নগর (যশোর) প্রতিনিধি
সংসদ সদস্য মো. গোলাম রসুল নওয়াপাড়া কাঠপট্টিতে অগ্নিকাণ্ডে ভস্মীভূত হওয়া প্রতিটি প্রতিষ্ঠান সরেজমিনে ঘুরে দেখেন ছবি: ধ্রুব নিউজ
যশোরের অভয়নগর উপজেলার নওয়াপাড়া কাঠপট্টিতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী ও শ্রমিকদের পাশে দাঁড়িয়েছেন যশোর-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও যশোর জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর মো. গোলাম রসুল। শুক্রবার (১৪ মার্চ) বিকালে তিনি অগ্নিকাণ্ডস্থল পরিদর্শন করেন এবং ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে পুনর্বাসনের আশ্বাস প্রদান করেন।
শুক্রবার বিকাল ৩ টায় সংসদ সদস্য মো. গোলাম রসুল নওয়াপাড়া কাঠপট্টিতে পৌঁছান। তিনি অগ্নিকাণ্ডে ভস্মীভূত হওয়া প্রতিটি প্রতিষ্ঠান সরেজমিনে ঘুরে দেখেন। এসময় তিনি ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী ও কুঠি শিল্পের শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের দুর্দশার কথা অত্যন্ত মনোযোগ সহকারে শোনেন। ভয়াবহ এই দুর্ঘটনায় শোক প্রকাশ করে তিনি ব্যবসায়ীদের ধৈর্য ধরার আহ্বান জানান।
পরিদর্শনকালে এমপি গোলাম রসুল বলেন, "অগ্নিকাণ্ডে যে অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে, তা কাটিয়ে ওঠা সাধারণ ব্যবসায়ীদের পক্ষে অত্যন্ত কঠিন। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী ও শ্রমজীবী মানুষের পুনর্বাসনের জন্য এবং তাদের ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।" তিনি আরও জানান যে, সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য সম্ভাব্য সব ধরনের সরকারি সহায়তা ও অনুদান নিশ্চিত করতে তিনি সচেষ্ট থাকবেন।
গত বৃহস্পতিবার (১৩ মার্চ) রাত আনুমানিক ১টা ৩৫ মিনিটের দিকে নওয়াপাড়া কাঠপট্টিতে এই ভয়াবহ আগুনের সূত্রপাত হয়। কাঠের মজুত থাকায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে নওয়াপাড়া ও খুলনার ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। ব্যবসায়ীদের দেওয়া তথ্যমতে, এতে ১৩টি বড় কুঠি শিল্প (আসবাবপত্র তৈরির কারখানা) এবং ৩টি চা ও মুদি দোকান সম্পূর্ণ পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। কারখানায় থাকা মূল্যবান ডিজাইন মেশিন, মোটর এবং বিপুল পরিমাণ প্রস্তুতকৃত আসবাবপত্র ভস্মীভূত হয়েছে। ব্যবসায়ীদের দাবি অনুযায়ী, এই অগ্নিকাণ্ডে আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ ১ কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে।
পরিদর্শনকালে সংসদ সদস্যের সঙ্গে আরও উপস্থিত ছিলেন অভয়নগর উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর সরদার শরিফ হোসেন, সেক্রেটারি মহিউল, সহকারী সেক্রেটারি গোলাম মোস্তফা, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের উপজেলা সভাপতি নুরুল ইসলাম বাবুল এবং উপজেলা যুব বিভাগের সভাপতি মাসুম বিল্লাহসহ উপজেলা ও পৌর জামায়াতের শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
এর আগে অগ্নিকাণ্ডের রাতেই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শেখ সালাউদ্দিন দীপু ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে সরকারি পর্যায়ে ক্ষয়ক্ষতির তালিকা করার আশ্বাস প্রদান করেন। স্থানীয়দের ধারণা, বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকেই এই বিধ্বংসী আগুনের সূত্রপাত হয়েছে।