Ad for sale 990 x 90 Position (1)
Position (1)
শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০২৬
Ad for sale 870 x 100 Position (2)
Position (2)

বাগেরহাটে ১৪ মৃত্যু: কয়রায় দাফন ৪জনের

ধ্রুব ডেস্ক ধ্রুব ডেস্ক
প্রকাশ : শুক্রবার, ১৩ মার্চ,২০২৬, ০৩:২১ পিএম
বাগেরহাটে ১৪ মৃত্যু: কয়রায় দাফন ৪জনের

কনে মিতু, তার বোন, নানী ও দাদীর জানাজা ছবি: সংগৃহীত

হাতে মেহেদির টকটকে লাল রঙ আর খয়েরি বেনারসি শাড়িতে জীবনের নতুন এক অধ্যায়ের শুরু হয়েছিল খুলনার কয়রা উপজেলার আমাদী ইউনিয়নের নাকসা গ্রামের মার্জিয়া আক্তার মিতুর।

নববধূ সাজে বাবার বাড়ি থেকে স্বামীর বাড়ি যাচ্ছিলেন মিতু। কিন্তু সেই শ্বশুর ঘরে আর পৌঁছানো হয়নি। তার আগেই দুর্ঘটনায় সমস্ত স্বপ্ন ধূলিসাৎ হয় তার।

বৃহস্পতিবার বিকালে বাগেরহাটের রামপালে নৌ-বাহিনীর বাসের সঙ্গে একটি মাইক্রোবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে যে ১৪ জন নিহত হয়েছেন তার মধ্যে মিতু, তার বোন, দাদি ও নানি রয়েছে।

মিতুর মামা আবু তাহের বলেন, জানাজা শেষে শুক্রবার বেলা ১২টার দিকে মিতু, তার ছোট বোন লামিয়া আক্তার ও নানি আনোয়ারা বেগমকে বাড়ির পাশে কবরস্থানে দাফন করা হয়।

আর মিতুর দাদি রাশিদা বেগমকে তার গ্রামের বাড়িতে দাফন করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

এর আগে মিতু ও তার সঙ্গে নিহত বাকিদের মরদেহ দেখতে তাদের নাকসা গ্রামের বাড়িতে শত শত মানুষ জড়ো হয়। একই পরিবারের চারজনের মরদেহ একসঙ্গে দেখে স্বজন ও প্রতিবেশীরা শোকে স্তব্ধ হয়ে পড়েন।

মোংলা উপজেলা পরিষদ সংলগ্ন শেহলা বুনিয়া এলাকার বাসিন্দা ও মোংলা পোর্ট পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আব্দুর রাজ্জাকের ছোট ছেলে আহাদুর রহমান সাব্বিরের সঙ্গে মিতুর বিয়ে হয়।

বৃহস্পতিবার দুপুরে নববধূ মিতু নিয়ে মোংলায় বাড়ি ফিরছিলেন বরের পরিবারের সদস্যরা। তাদের বহনকারী মাইক্রোবাসটি মোংলার কাছাকাছি রামপাল উপজেলার বেলাইব্রিজ এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা নৌ-বাহিনীর একটি স্টাফ বাসের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। ভয়াবহ ওই দুর্ঘটনায় মোংলার এই বর ও কনের আর বাড়ি ফেরা হল না।

বরের পক্ষের নিহতরা হলেন- বর আহাদুর রহমান সাব্বির, তার বাবা আব্দুর রাজ্জাক, ভাই আব্দুল্লাহ সানি, বোন উম্মে সুমাইয়া ঐশী, তার ছেলে সামিউল ইসলাম ফাহিম, বড় ভাই আশরাফুল আলম জনির স্ত্রী ফারহানা সিদ্দিকা পুতুল, তাদের ছেলে আলিফ, আরফা ও ইরাম।

শুক্রবার ভোরে তাদের মরদেহ বাগেরহাটের মোংলার শেহালাবুনিয়ায় পৌঁছায়। আর কনে, তার বোন, দাদি ও নানির লাশ নেওয়া হয় খুলনার কয়রা উপজেলায়।

তারা হলেন- কনে মার্জিয়া আক্তার (মিতু), তার ছোট বোন লামিয়া আক্তার, দাদি রাশিদা বেগম ও নানি আনোয়ারা বেগম।

নিহতদের মধ্যে আরেকজন হলেন মাইক্রোবাস চালক নাইম। তার বাড়ি বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার পেড়িখালি ইউনিয়নের সিংগেরবুনিয়া গ্রামে। এছাড়া আহত অবস্থায় একজন খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

বর সাব্বির মোংলা শহরে মোবাইলের দোকান চালাতেন। আর কনে মিতু কয়রার নাকসা আলিম মাদ্রাসার আলিম প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।

বাগেরহাটের পুলিশ সুপার হাসান চৌধুরী বলেন, দুর্ঘটনায় নিহত বর-কনেসহ ১৪ জনের মরদেহ পরিবারের আবেদনের প্রেক্ষিতে ময়নাতদন্ত ছাড়াই বৃহস্পতিবার রাতে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও রামপাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে হস্তান্তর করা হয়।

খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মরদেহগুলো হস্তান্তরের সময় মর্গের অদূরে একটি খোলা জায়গায় বারবার মূর্ছা যাচ্ছিলেন কনে মিতুর বাবা আবদুস সালাম। এক দিনেই তিনি তার দুই মেয়ে, মা ও শাশুড়িকে হারিয়েছেন। স্বজনরা তাকে ঘিরে ছিলেন।

 

ধ্রুব নিউজের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

💬 Comments

Login | Register
Ad for sale 270 x 225 Position (3)
Position (3)
Ad for sale 990 x 90 Position (4)
Position (4)