❒ দুর্ঘটনায় বর-কনেসহ নিহত ১৪
বাগেরহাট প্রতিনিধি
নিহত ১৪ জনের মধ্যে বর, তার বাবা, ভাই-বোন, ভাবি, ভাগনে-ভাগনিসহ একই পরিবারের ৯ জন। আজ শুক্রবার ভোরে তাদের মরদেহ পৌঁছায় বাগেরহাটের মোংলার শেহালাবুনিয়ায়। আর কনে, তার বোন, দাদি ও নানির মরদেহ নেওয়া হয়েছে খুলনার কয়রা উপজেলায়। ছবি: সংগৃহীত
বাগেরহাটের রামপালে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত বর-কনেসহ ১৪ জনের মরদেহ তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। পরিবারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ময়নাতদন্ত ছাড়াই গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও রামপাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে মরদেহগুলো হস্তান্তর করা হয়।
নিহত ১৪ জনের মধ্যে বর, তার বাবা, ভাই-বোন, ভাবি, ভাগনে-ভাগনিসহ একই পরিবারের ৯ জন। আজ শুক্রবার ভোরে তাদের মরদেহ পৌঁছায় বাগেরহাটের মোংলার শেহালাবুনিয়ায়। আর কনে, তার বোন, দাদি ও নানির মরদেহ নেওয়া হয়েছে খুলনার কয়রা উপজেলায়।
পুলিশ ও পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গত বুধবার রাতে খুলনার কয়রা উপজেলার আমাদী ইউনিয়নের নাকসা গ্রামের বাসিন্দা আবদুস সালাম মোড়লের মেয়ে মার্জিয়া আক্তারের (মিতু) সঙ্গে বিয়ে হয় মোংলা পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আবদুর রাজ্জাকের ছোট ছেলে আহাদুর রহমানের (ছাব্বির)। কনের বাড়িতে বিয়ের পর বৃহস্পতিবার দুপুর সোয়া ১২টার দিকে বরপক্ষ মোংলার উদ্দেশে রওনা হয়। বর-কনেসহ দুই পরিবারের ১৪ জন ছিলেন মাইক্রোবাসে। তাদের বহনকারী মাইক্রোবাসটি মোংলার কাছাকাছি রামপাল উপজেলার বেলাইবিজ এলাকায় বিপরীত দিক দিয়ে আসা নৌবাহিনীর বাসের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এ ঘটনায় মাইক্রোবাসের চালকসহ ১৪ জন নিহত হন। আহত একজনকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
নিহত ব্যক্তিরা হলেন বর আহাদুর রহমান, তার বাবা আবদুর রাজ্জাক, বরের ভাই আবদুল্লাহ সানি, বোন উম্মে সুমাইয়া (ঐশী), তার ছেলে সামিউল ইসলাম ফাহিম, বড় ভাই আশরাফুল আলমের (জনি) স্ত্রী ফারহানা সিদ্দিকা (পুতুল), তাদের ছেলে আলিফ, আরফা ও ইরাম। নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে আরও আছেন কনে মার্জিয়া আক্তার (মিতু), তাঁর ছোট বোন লামিয়া আক্তার, দাদি রাশিদা বেগম ও নানি আনোয়ারা বেগম এবং মাইক্রোবাসের চালক নাঈম। নাঈমের বাড়ি বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার পেড়িখালী ইউনিয়নের সিংগেরবুনিয়া গ্রামে।
বর আহাদুরের মোংলা শহরে মুঠোফোনের দোকান ছিল। কনে মার্জিয়া কয়রার নাকসা আলিম মাদ্রাসার আলিম প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।
নিহত উম্মে সুমাইয়ার শ্বশুর আবদুল আলীম বলেন, ‘রাজ্জাক ভাইয়ের (বরের বাবা) আদি বাড়ি কয়রায়। বিয়ের অনুষ্ঠানে আমিও ছিলাম। তারা বৃহস্পতিবার ১২টার পর রওনা দেন। আমার পুত্রবধূ, একমাত্র নাতিও দুর্ঘটনায় মারা গেছে।’
আজ সকালে মোংলা উপজেলা পরিষদসংলগ্ন শেহলাবুনিয়ায় বরের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, শত শত মানুষের ভিড়। হৃদয়বিদারক এই ঘটনার খবর শুনে আত্মীয়স্বজন, প্রতিবেশী ছাড়াও উপজেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ ছুটে আসছেন। শোকে স্তব্ধ সবাই। আবদুর রাজ্জাকের বাড়ির ভেতরে রাখা হয়েছে পরিবারের নিহত চার নারীর মরদেহ। পাশে উপজেলা পরিষদ চত্বরে বাকি পাঁচজনের মরদেহ।
প্রতিবেশী শরীফ হাবিবুর রহমান বলেন, ‘একসাথে এতগুলো লাশ আগে দেখিনি। এটা সহ্য করার মতো না।’
নিহত আবদুর রাজ্জাকের ছোট ভাই সাজ্জাদ সরদার বলেন, ‘আমাদের বেড়ে ওঠা মোংলাতেই। তবে গ্রামের বাড়ি কয়রায়। রাজ্জাক ভাই তার মেয়েরও বিয়ে দিয়েছেন কয়রায়। এই ছেলেরও সেখানে বিয়ে দিয়েছিলেন। দুর্ঘটনায় পুরো পরিবারটা শেষ হয়ে গেল।’ তিনি আরও বলেন, ‘আশপাশের ৯টি মসজিদ থেকে খাটিয়া আনা হয়েছে। গোসল শেষ করে একে একে নয় স্বজনকে রাখা হয়েছে খাটিয়াতে। দুপুরে জুমার নামাজের পর উপজেলা পরিষদ চত্বরে তাদের জানাজা হবে। পরে পৌর কবরস্থানে দাফন করা হবে।’