নিজস্ব প্রতিবেদক
যশোর সদর উপজেলার চাঁদপাড়া গ্রামে পৈতৃক ভিটা থেকে একটি পরিবারকে জোরপূর্বক উচ্ছেদের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। জমি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে পরিবারটির সদস্যদের ভয়ভীতি প্রদর্শন, হয়রানি ও মারধর করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা। এ ঘটনায় পরিবারটি চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে।
সোমবার প্রেসক্লাব যশোরে সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন চাঁদপাড়া গ্রামের বাসিন্দা ভুক্তভোগী সুজন হোসেন।
লিখিত অভিযোগে তিনি বলেন, বসতবাড়ির সঙ্গে থাকা প্রায় দুই শতক জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় কয়েকজনের সঙ্গে তাদের বিরোধ চলছে। স্থানীয় বি.এম. এলাম হোসেন রানাসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে ওই জমি দখলের চেষ্টা ও পরিবারের সদস্যদের হয়রানির অভিযোগ করেন তিনি।
সুজন হোসেন জানান, বিরোধ মেটাতে একপর্যায়ে আইনগত ও পারিবারিকভাবে জমি ভাগবাটোয়ারা করে সংশ্লিষ্টদের প্রাপ্য সম্পত্তি বুঝিয়ে দেওয়া হয়। এরপরও বিরোধের অবসান হয়নি। পরবর্তীতে পারিবারিকভাবে বিরোধ মীমাংসা করে বিধবা ও এতিমদের প্রাপ্য জমি বুঝিয়ে দেওয়া হয়। কিন্তু এরপরও জাফর ও সুজনের রাস্তার পাশের বসতবাড়ির জমি দখলের চেষ্টা চালানো হয়। এ নিয়ে স্থানীয় বিএনপি নেতাদের উদ্যোগে শালিস বৈঠকও হয়।
সুজনের আরও অভিযোগ, প্রায় ১০ লাখ টাকা মূল্যের তার জমি জোরপূর্বক মাত্র ১ লাখ ৫০ হাজার টাকায় বিক্রির কাগজে স্বাক্ষর করিয়ে নেওয়া হয়েছে। এতে বি.এম. এলাম হোসেন রানা সরাসরি সহযোগিতা করেছেন বলে তিনি দাবি করেন। পরে জমির তথাকথিত ক্রেতা আবুল কালাম আজাদ জমি দখলে নিয়ে সীমানা প্রাচীর নির্মাণের উদ্যোগ নেন।
পরিস্থিতি বেগতিক দেখে বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়ায়। বিতর্কিত জমি নিয়ে ১৪৪ ধারায় মামলা এবং আদালত থেকে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।
সুজনের অভিযোগ, আদালতের স্থিতাবস্থার আদেশ থাকা সত্ত্বেও বিবাদীপক্ষ জোরপূর্বক সেখানে প্রাচীর নির্মাণের চেষ্টা চালায়। এ সময় বাধা দিলে স্থানীয় কয়েকজন ক্যাডার নিয়ে বিধবা হুমায়া, রকি ও বি.এম. এলাম হোসেন রানা তাদের ভয়ভীতি দেখান এবং মারধর করেন।
এ ঘটনায় সুজন ও তার পরিবারের সদস্যরা বর্তমানে চরম নিরাপত্তাহীনতায় দিনাতিপাত করছেন। সংবাদ সম্মেলনে তারা অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া এবং পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য জাফর আলী, মর্জিনা বেগম, রেজাউল ইসলাম, শিরিনা বেগম ও সেলিম রেজা প্রমুখ।