নিজস্ব প্রতিবেদক
ছবি: সংগৃহীত
বাড়িতে ফেরার ব্যাকুলতা ছিল, ছিল প্রিয়জনদের কাছে পৌঁছানোর তাড়া। কিন্তু সেই তাড়না যে কবরের নিস্তব্ধতায় রূপ নেবে, তা কে জানত! যশোরের বাঘারপাড়ায় এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় অকালে ঝরে গেল দুটি তরতাজা প্রাণ। আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে ঢাকা-মাগুরা মহাসড়কের ভাটার আমতলা এলাকায় ঘাতক পরিবহনের ধাক্কায় মাটির বিছানায় ঠাঁই হলো সহযাত্রী কবির (৩০) ও কিশোর হানিফের (১৮)। এই ঘটনায় মৃত্যুপথযাত্রী আরও এক যুবক।
নিহতদের মধ্যে যুবক কবির ও কিশোর হানিফ উভয়েই মাগুরার শালিখা উপজেলার শতখালি গ্রামের বাসিন্দা। তাদের অকাল মৃত্যুতে গ্রামটিতে এখন শোকের মাতম চলছে। অন্যদিকে, একই গ্রামের তরুণ আশিক (২৫) গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
পুলিশ ও স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিকেল পৌনে ৬টার দিকে লাটাই গাড়িতে করে( একটি স্থানীয় যানবাহন) কবির, হানিফ ও আশিক খাজুরা থেকে নিজ গ্রাম মাগুরার দিকে যাচ্ছিলেন। ঠিক পথেই ছিলেন তারা, কিন্তু ভাটার আমতলা নামক স্থানে পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি দানবীয় পরিবহন তাদের মুখোমুখি আঘাত করে। মুহূর্তেই রাজপথ ভিজে যায় রক্তে। ঘটনাস্থলেই নিথর হয়ে পড়েন পথচারী কবির।
স্থানীয়রা দ্রুত উদ্ধার করে তরুণ হানিফ ও আশিককে যশোর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। তবে হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক হানিফকে মৃত ঘোষণা করলে স্বজনদের আহাজারিতে ভারি হয়ে ওঠে হাসপাতাল চত্বর। আহত আশিক বর্তমানে হাসপাতালের পুরুষ সার্জারি ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন থাকলেও চিকিৎসকরা জানিয়েছেন তার অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক।
বাঘারপাড়া থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা দুঃখ প্রকাশ করে জানান, দুর্ঘটনার পরপরই ঘাতক পরিবহনটি পালিয়ে গেছে। নিহতদের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে রাখা হয়েছে।
আইনের ভাষায় ব্যবস্থা নেওয়া হয়তো হবে, কিন্তু যে দুটি প্রাণ ঝরে গেল, সেই শূন্যস্থান কি আর কোনো আইনে পূরণ হবে?