Ad for sale 990 x 90 Position (1)
Position (1)
রবিবার, ১ মার্চ ২০২৬
Ad for sale 870 x 100 Position (2)
Position (2)

‘নিলা’র ফাঁদ! যশোরের ৯ ব্যবসায়ীর ১০ কোটি টাকা গায়েব

নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি,২০২৬, ১২:২০ পিএম
‘নিলা’র ফাঁদ! যশোরের ৯ ব্যবসায়ীর ১০ কোটি টাকা গায়েব

সংবাদ সম্মেলন করেছেন যশোরের ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীরা ছবি: ধ্রুব নিউজ

ইন্দোনেশিয়া থেকে কয়লা আমদানির জন্য এলসি (লেটার অব ক্রেডিট) খুলে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ১০ কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে ফারজানা ইয়াসমিন নিলা নামে এক নারীর বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করেছেন যশোরের ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীরা। আজ শনিবার সকাল ১১টায় প্রেসক্লাব যশোরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তারা এই অর্থ জালিয়াতির বিস্তারিত তুলে ধরেন এবং দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করেন।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন মেসার্স এ টু জেড ট্রেডিং-এর স্বত্বাধিকারী মোহাম্মদ আনিসুর রহমান খান। তিনি অভিযোগ করেন, সাবেক এক ব্যাংক কর্মকর্তার স্ত্রী এই নিলা নিজেকে প্রভাবশালী রাজনৈতিক মহলের ঘনিষ্ঠ দাবি করে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ করেছেন। অভিযুক্ত নিলা বর্তমানে যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে আটক রয়েছেন।

লিখিত বক্তব্যে জানানো হয়, ২০২৪ সালের ৫ই আগস্ট পরবর্তী ব্যবসায়িক অচলাবস্থার সুযোগ নিয়ে নিলা ব্যবসায়ীদের ব্রড কান্ট্রি এলসি ওপেন করে দেওয়ার প্রস্তাব দেন। তার আশ্বাসে যশোরের ৯ জন ব্যবসায়ী একজোট হয়ে এলসি করার সিদ্ধান্ত নেন। ৩০ শতাংশ মার্জিনের শর্তে ভুক্তভোগী আনিসুর রহমান ৯ ব্যবসায়ীর পক্ষে অভিযুক্ত নিলার অ্যাকাউন্টে মোট ১০ কোটি ৯ লাখ ১২ হাজার ৫০০ টাকা প্রদান করেন। কিন্তু টাকা নেওয়ার পর থেকেই তিনি সময়ক্ষেপণ শুরু করেন।

পরবর্তীতে ইন্দোনেশিয়ায় জাহাজ প্রস্তুত হওয়ার পর এলসি কপির জন্য চাপ দিলে নিলা একটি ভুয়া এলসি কপি ধরিয়ে দেন। টাকা ফেরত চাইলে তিনি ৫০ লাখ টাকার একটি জাল বিএফটিএন এবং একটি ভুয়া এফডিআর কপি প্রদান করে পুনরায় প্রতারণা করেন।

আনিসুর রহমান জানান, ফারজানা ইয়াসমিন নিলা বিগত সরকারের প্রভাবশালী নেতা তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম এবং সালমান এফ রহমানের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচয় দিতেন। এমনকি বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নাম ভাঙিয়েও তিনি প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করেন। তার বিরুদ্ধে অবৈধ ভিওআইপি ব্যবসা, মানব পাচার এবং নথি জালিয়াতির একাধিক সিন্ডিকেট চালানোর অভিযোগ রয়েছে। এর আগেও নিলার নামে ৪-৫টি প্রতারণার মামলা ছিল এবং তিনি সাজাপ্রাপ্ত আসামি হওয়া সত্ত্বেও রহস্যজনকভাবে ধরাছোঁয়ার বাইরে ছিলেন।

প্রতারিত হওয়ার পর ভুক্তভোগীরা গুলশান থানায় মামলা করলে নিলা গ্রেপ্তার হন, তবে পরে জামিন পান। জামিনের শর্ত ভঙ্গ করে তিনি টাকা ফেরত না দিয়ে হাইকোর্ট থেকে ‘স্টে অর্ডার’ নিয়ে আসেন। পরবর্তীতে নতুন মামলা দায়ের হলে পুলিশ তাকে ঢাকা থেকে পুনরায় গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।

সংবাদ সম্মেলনে ব্যবসায়ী নুর আলম বাবু, মাহমুদ হাসান লিপু, মোহাম্মদ কামরুজ্জামান, জিয়া বিশ্বাস ও মোহাম্মদ নুরুজ্জামান উপস্থিত ছিলেন। তারা জানান, ব্যাংক লোন নিয়ে এলসির টাকা দিয়ে এখন তারা পথে বসার উপক্রম হয়েছেন। প্রশাসনের কাছে তাদের আকুল আবেদন, এই প্রতারক চক্রের কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা হোক এবং তাদের পাওনা টাকা উদ্ধারে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত ফারজানা ইয়াসমিন নিলার মেয়ে নন্দিতা মেহজাবিন কথা দাবি করেন, ওই ব্যবসায়ীরা অনৈতিক পন্থায় তাদের বিরুদ্ধে প্রচার চালাচ্ছেন। বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন থাকায় তিনি বিস্তারিত মন্তব্য করতে রাজি হননি।

 

ধ্রুব নিউজের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

💬 Comments

Login | Register
Ad for sale 270 x 225 Position (3)
Position (3)
Ad for sale 990 x 90 Position (4)
Position (4)