নিজস্ব প্রতিবেদক
মানচিত্রে লিবিয়া ও ইটালি ছবি: সংগৃহীত
যশোর সদরের কাজীপুর গ্রামের যুবক আকাশকে ইতালি পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে লিবিয়ায় পাচারের অভিযোগে আদালতে দায়ের করা মামলাটি অবশেষে থানায় নিয়মিত মামলা হিসেবে নথিভুক্ত হয়েছে। গত ২১ জানুয়ারি ভুক্তভোগীর মাতা রিনা পারভীন বাদী হয়ে এই মামলাটি করেছিলেন।
অভিযুক্ত আসামিরা হলেন, কুমিল্লা চৌদ্দগ্রাম থানার বারাইশ গ্রামের কাজী সফিকুর রহমান (পিতা: কাজী সিদ্দিকুর রহমান), মাদারীপুর সদরের ত্রিভাগদী গ্রামের কনিকা আক্তার (স্বামী: শাহজাহান হালদার), শরীয়তপুর পালং থানার নিয়ামতপুর গ্রামের হেমায়েত খান (পিতা: মৃত আব্দুল মান্নান খান), নোয়াখালী সদরের গোসবাগ গ্রামের সুলতান|
মামলার অভিযোগ থেকে জানা গেছে, রিনা পারভীনের মেয়ে ফারজিয়া ইসলামের মাধ্যমে অভিযুক্ত কনিকা আক্তারের সাথে পরিবারের পরিচয় হয়। সেই সূত্র ধরে অন্য আসামিরা আকাশকে ইতালিতে ভালো বেতনে চাকরির প্রস্তাব দেন। তাদের প্রস্তাবে রাজি হয়ে আকাশের পরিবার গত ১০ জানুয়ারি আসামি সফিকুর রহমানকে ৪ লাখ টাকা এবং পরদিন আরও ৩ লাখ টাকা প্রদান করেন।
পরবর্তীতে ৮ নভেম্বর আসামিরা আকাশকে বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের মাধ্যমে প্রথমে বাহরাইন ও পরে জেদ্দায় নিয়ে যান। সেখান থেকে তাকে সৌদি আরবের একটি অপরিচিত স্থানে আটকে রাখা হয়। ১৪ নভেম্বর আসামিরা তাকে পুনরায় মিশরে এবং সেখান থেকে লিবিয়ায় পাচার করে দেন। লিবিয়ায় আসামিদের সহযোগীরা আকাশকে গ্রহণ করে একটি অজ্ঞাত স্থানে আটকে রেখে পরিবারের সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়।
এরপর আসামিরা আকাশকে ইতালি পাঠানোর নাম করে আরও ১০ লাখ টাকা দাবি করেন। নিরুপায় হয়ে আকাশের পরিবার বিভিন্ন স্থান থেকে ধার-দেনা করে আসামি সুলতানের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ওই টাকা জমা দেন। কিন্তু টাকা পাওয়ার পরও আসামিরা আকাশের সাথে তার পরিবারের যোগাযোগ করতে দিচ্ছে না।
আকাশের সন্ধান ও যোগাযোগের চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে রিনা পারভীন প্রথমে কোতোয়ালি থানায় অভিযোগ দিলেও কর্তৃপক্ষ তা গ্রহণ না করায় তিনি আদালতের দ্বারস্থ হন। আদালতের নির্দেশে অভিযোগটি এখন কোতোয়ালি থানায় নিয়মিত মামলা হিসেবে রুজু হয়েছে।