ঝিকরগাছা (যশোর) প্রতিনিধি
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের পাশে দাঁড়াতে থানার ওসি ও কৃষি অফিসারকে সাথে নিয়ে সরাসরি ফসলের মাঠে হাজির হলেন ঝিকরগাছা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোছা. রনী খাতুন ছবি: ধ্রুব নিউজ
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের পাশে দাঁড়াতে থানার ওসি ও কৃষি অফিসারকে সাথে নিয়ে সরাসরি ফসলের মাঠে হাজির হলেন ঝিকরগাছা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোছা. রনী খাতুন। এক ভূমিহীন বর্গাচাষীর আড়াই বিঘা জমির শসা গাছ রাতের আঁধারে কেটে দেওয়ার খবর পেয়েই তিনি দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান এবং ব্যক্তিগতভাবে খোঁজখবর নেন। প্রশাসনের এই শীর্ষ কর্মকর্তার এমন তৎপরতা এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
ঘটনাটি ঘটেছে যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার পানিসারা ইউনিয়নের বর্নি (সরদার পাড়া) গ্রামে। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাতে কোনো এক সময় অজ্ঞাতনামা দুর্বৃত্তরা ভূমিহীন কৃষক মোহর আলীর আড়াই বিঘা জমির শসা গাছ কেটে নষ্ট করে দেয়। কৃষক মোহর আলী অন্যের জমি লিজ নিয়ে এবং ধার-দেনা করে এই চাষাবাদ করেছিলেন। মাত্র দশ দিন পরই ফসল বাজারে তোলার কথা ছিল, কিন্তু ভোরে মাঠে গিয়ে সব গাছ কাটা অবস্থায় দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন এই অসহায় কৃষক। এতে তার প্রায় ২ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।
ঘটনাটি ছোট হলেও একজন প্রান্তিক কৃষকের পাশে দাঁড়াতে সকালেই ঘটনাস্থলে পৌঁছান উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোছা. রনী খাতুন। তার সঙ্গে ছিলেন ঝিকরগাছা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শাহজালাল আলম ও উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মো. নুরুল ইসলাম।
মাঠে দাঁড়িয়ে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের হাহাকার শুনে ইউএনও আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন। তিনি তাৎক্ষণিকভাবে ব্যক্তিগত ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে ওই কৃষককে নগদ ১০ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন। একইসঙ্গে তিনি পুলিশ প্রশাসনকে নির্দেশ দেন দ্রুততম সময়ের মধ্যে দোষীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোছা. রনী খাতুন বলেন, একজন কৃষকের স্বপ্ন এভাবে ধ্বংস করা জঘন্য অপরাধ। আমরা মোহর আলীর পাশে আছি। তাকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে এবং অপরাধীদের কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না।
উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মো. নুরুল ইসলাম জানান, মোহর আলী একজন ভূমিহীন বর্গাচাষী। তার জীবিকা নির্বাহের একমাত্র অবলম্বন ছিল এই ফসল। প্রশাসনের পক্ষ থেকে অপরাধীদের শনাক্ত করার পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত কৃষককে সরকারি অন্যান্য প্রণোদনার আওতায় আনার প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে।
একজন ইউএনও নিজে মাঠে গিয়ে কৃষকের পাশে দাঁড়ানোর এই ঘটনাকে সাধুবাদ জানিয়েছেন স্থানীয় এলাকাবাসী। তাদের মতে, প্রশাসনের এমন নজরদারি থাকলে ভবিষ্যতে এ ধরনের অপরাধ করতে কেউ সাহস পাবে না।