বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারি ২০২৬
Ad for sale 100 x 870 Position (1)
Position (1)

ভৈরব নদের পাড়ে ৭৪টি অবৈধ কয়লা চুল্লি উচ্ছেদ

ধ্রুব রিপোর্ট ধ্রুব রিপোর্ট
প্রকাশ : সোমবার, ১২ জানুয়ারি,২০২৬, ০৫:৫৮ পিএম
আপডেট : মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারি,২০২৬, ০১:৩১ এ এম
ভৈরব নদের পাড়ে ৭৪টি অবৈধ কয়লা চুল্লি উচ্ছেদ

❒ যশোরের অভয়নগরে পরিবেশ বিনাশী অবৈধ কয়লা তৈরির চুল্লির বিরুদ্ধে বড় ধরনের উচ্ছেদ অভিযান চালায় জেলা প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তর ছবি: ধ্রুব নিউজ

যশোরের অভয়নগরে পরিবেশ বিনাশী অবৈধ কয়লা তৈরির চুল্লির বিরুদ্ধে বড় ধরনের উচ্ছেদ অভিযান চালিয়েছে জেলা প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তর। সোমবার দিনব্যাপী চলা এই অভিযানে উপজেলার সিদ্ধিপাশা ইউনিয়নের ভৈরব নদের তীরবর্তী এলাকায় গড়ে ওঠা ৭৪টি চুল্লি ভেঙে গুড়িয়ে দেওয়া হয়। এর মাধ্যমে দীর্ঘদিনের জনদুর্ভোগ লাঘবে প্রশাসনের কঠোর অবস্থানের প্রতিফলন দেখল স্থানীয়রা।

খুলনা পরিবেশ অধিদপ্তরের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মমতাজ বেগমের নেতৃত্বে আজ সোমবার সকাল থেকে শুরু হয়ে বিকেল পর্যন্ত এ অভিযান চলে। অভিযানে আভিযানিক দলকে সহায়তা করে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন ও ফায়ার সার্ভিসের একটি  দল।

পরিবেশ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, সিদ্ধিপাশা ইউনিয়নের ভৈরব নদের পাড় ঘেঁষে প্রায় ২০০টিরও বেশি অবৈধ চুল্লি গড়ে উঠেছে। এর মধ্যে প্রাথমিক পর্যায়ে নদের পাড় সংলগ্ন ৭৪টি বড় আকৃতির চুল্লি স্কেভেটর দিয়ে গুড়িয়ে দেওয়া হয়। প্রশাসনের উপস্থিতি টের পেয়ে অনেক চুল্লি মালিক ও শ্রমিকরা পালিয়ে যায়।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, স্থানীয় প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট বছরের পর বছর ধরে এই ব্যবসা চালিয়ে আসছে। এসব চুল্লিতে ব্যবহারের জন্য প্রতিদিন ট্রাক ভরে আসছে বিভিন্ন বনজ ও ফলদ গাছ। আম, জাম, মেহগনিসহ মূল্যবান গাছ কেটে সাবাড় করা হচ্ছে। এছাড়াও এলাকার শিশু ও বৃদ্ধরা প্রতিনিয়ত শ্বাসকষ্ট, অ্যাজমা এবং চর্মরোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। নদের তীরের ফসলি জমির উর্বরতা হ্রাস পাচ্ছে। গাছের মুকুল ও ফল অকালেই ঝরে যাচ্ছে, যা স্থানীয় ফল চাষিদের চরম আর্থিক ক্ষতির মুখে ফেলছে। ধোঁয়ার কারণে নদের পাড়ের পাখি ও উপকারী পতঙ্গ এলাকা ছেড়ে চলে যাচ্ছে, যা প্রাকৃতিক ভারসাম্য নষ্ট করছে।

স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুস সালাম ও এলাকাবাসীরা জানান, চুল্লি মালিকদের দাপটে তারা এলাকায় টেকাই দায় হয়ে পড়েছিল। রাস্তার পাশে খোলা জায়গায় কাঠ পোড়ানোর ফলে সৃষ্ট কালো ধোঁয়ায় অন্ধকার হয়ে থাকত চারপাশ। এর আগে কয়েক দফা বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করেও কোনো কাজ হয়নি। সোমবারের এই উচ্ছেদ অভিযানে সন্তোষ প্রকাশ করলেও বাকি চুল্লিগুলো দ্রুত অপসারণের দাবি জানিয়েছেন তারা।

চুল্লি মালিকদের একটি সূত্রের দাবি, অভয়নগরের এই কয়লা উন্নত মানের হওয়ায় এর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। উৎপাদিত কয়লা ঢাকা ও চট্টগ্রামের বড় বড় অভিজাত হোটেল, রড উৎপাদনকারী কারখানা, মশার কয়েল ও ধূপকাঠি তৈরির কারখানায় সরবরাহ করা হয়। বছরে এই এলাকা থেকে প্রায় ১৫০ কোটি টাকার কয়লা কেনাবেচা হয় বলে ব্যবসায়ীরা জানান। তবে এই বিশাল বাণিজ্যের প্রায় পুরোটাই পরিবেশ ছাড়পত্র বা বৈধ অনুমোদন ছাড়াই চলছিল।

অভিযান শেষে পরিবেশ অধিদপ্তরের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মমতাজ বেগম সাংবাদিকদের বলেন, ‘পরিবেশ ধ্বংস করে এবং জনস্বাস্থ্যকে ঝুঁকিতে ফেলে কোনো অবৈধ ব্যবসা পরিচালনা করতে দেওয়া হবে না। সিদ্ধিপাশা এলাকায় আরও অনেক চুল্লি রয়েছে। পর্যায়ক্রমে সবগুলোই উচ্ছেদ করা হবে। আমাদের এই জিরো টলারেন্স নীতি এবং উচ্ছেদ অভিযান অব্যাহত থাকবে।’

ধ্রুব নিউজের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

💬 Comments

Login | Register
Ad for sale 225 x 270 Position (2)
Position (2)