ধ্রুব নিউজ
মুক্তিযোদ্ধা রবিউল আলম। ছবি: ধ্রুব ডেস্ক
আজ ২ জুন। মুক্তিযুদ্ধের সময় বৃহত্তর যশোরের মুজিব বাহিনীর উপপ্রধান রবিউল আলমের ৭৬ তম জন্মবার্ষিকী । ১৯৫০ সালের এই দিনে শহরের লোন অফিস পাড়ায় জন্ম গ্রহণ করেন তিনি।
পিতা ইসাহক সরদার আর মাতা মোমেনা খাতুনের সাত সন্তানের মধ্যে সবার বড় রবিউল আলম।
মুক্তিযোদ্ধা রবিউল আলমের প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা সম্পন্ন হয় যশোর সম্মিলনী ইনস্টিটিউশন থেকে। পরবর্তীতে মাইকেল মধুসূদন মহাবিদ্যালয় থেকে আইএসসি, যশোর সিটি কলেজ থেকে বিএ ডিগ্রি এবং শহীদ মশিউর রহমান ল কলেজ থেকে আইন বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রী অর্জন করেন।
রবিউল আলম ছাত্র জীবনে ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হন। ছিলেন ছাত্রলীগের স্কুল কমিটির সাধারণ সম্পাদক। পরবর্তীতে জেলা ছাত্রলীগের সহ-সাধারণ সম্পাদক ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
১৯৬৮ সালে ' স্বাধীন বাংলা বিপ্লবী পরিষদ '( স্বাধীন বাংলা নিউক্লিয়াস) এর সাথে যুক্ত হন এবং ১৯৬৯ সালে গণঅভ্যুত্থানে জেলা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের সদস্য হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন তিনি। ১৯৭০ সালে যশোর জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। ১৯৭২ সালে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল জাসদ প্রতিষ্ঠার পর যশোর জেলা প্রথম কমিটিতে যুগ্ম আহবায়ক নিযুক্ত হন রবিউল আলম। পরবর্তীতে জাসদের সাধারণ সম্পাদক এবং বর্তমানে সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি ১৯৮০ সালে অবিভক্ত জাসদের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য, ১৯৮৩ সালে জাসদ (রব)কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক এবং পরবর্তীতে সহ-সভাপতি ও স্থায়ী কমিটির সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৮৭ সালে জাসদ (ইনু) ও জাসদ (রব) ঐক্যবদ্ধ হলে তিনি সহ-সভাপতি ও স্থায়ী কমিটির সদস্য নির্বাচিত হন।
১৯৯৬ সাল থেকে জাসদ ( ইনু) এর কার্যকরী সভাপতি দায়িত্ব পালন করছেন।
১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে রবিউল আলমের ছিল সক্রিয় অংশগ্রহণ। তিনি সে সময় ভারতের উত্তরপ্রদেশে দেরাদুন জেলার তাল্ডুয়া সামরিক ক্যাম্পে গেরিলা প্রশিক্ষণ গ্রহণ শেষে তৎকালীন বৃহত্তর যশোর জেলার ( যশোর - নড়াইল - ঝিনাইদহ ও মাগুরা) মুজিব বাহিনীর উপপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। যুদ্ধের ময়দানে গাজী নামেই ছিল তার পরিচিতি। রবিউল আলম দুই মেয়াদে মোট পাঁচ বছর কারাবরণ শেষে ১৯৮০ সাথে মুক্তি লাভ করেন।
তিনি ১৯৮৫ সালে যশোর সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।
এদিকে বীর মুক্তিযোদ্ধা রবিউল আলম এর জন্মদিন পালনে আজ বিকেলে প্রেসক্লাব যশোরের গোলাম মাজেদ অডিটোরিয়ামে আলোচনা সভা ও শুভেচ্ছা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।
বীর মুক্তিযোদ্ধা জন্মবার্ষিকী উদযাপন পর্ষদের এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার জন্য সকলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন সংগঠনের আহবায়ক হারুন অর রশিদ, যুগ্ম আহবায়ক সাজ্জাদ গনি খাঁন রিমন, সাজেদ রহমান, প্রনব দাস ও সদস্য সচিব আনোয়ারুল করিম সোহেলসহ নেতৃবৃন্দ।
ধ্রুব/এস.আই