ধ্রুব ডেস্ক
আজ মঙ্গলবার নির্বাচন কমিশন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের (সিইসি) সম্মেলন কক্ষে সিইসি ও নির্বাচন কমিশনারদের সঙ্গে বৈঠক করেন জামায়াত নেতৃবৃন্দ। ছবি: সংগৃহীত
স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সার্বক্ষণিক কর্মরত শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের নির্বাচনে অংশ নেওয়ার অযোগ্য ঘোষণার প্রস্তাবে আপত্তি জানিয়েছে জামায়াতে ইসলামী। দলটির দাবি, এমন প্রস্তাব অসাংবিধানিক ও বৈষম্যমূলক। স্থানীয় সরকার নির্বাচনে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের পদধারী এবং বিভিন্ন স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানে নিয়োজিত প্রশাসকদেরও নির্বাচনে অংশগ্রহণের অযোগ্য ঘোষণার দাবি জানিয়েছে দলটি। একই সঙ্গে স্থানীয় সরকারে নিরপেক্ষ নির্বাচনের ইসির অতিরিক্ত সচিব সামসুল আলমের নিয়োগ বাতিল চেয়েছে জামায়াত।
আজ মঙ্গলবার নির্বাচন কমিশন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের (সিইসি) সম্মেলন কক্ষে সিইসি ও নির্বাচন কমিশনারদের সঙ্গে বৈঠক শেষে এসব কথা বলেন দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।
বৈঠকে সিইসি এএমএম নাসির উদ্দিন ছাড়াও কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ, আনোয়ারুল ইসলাম সরকার ও ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ উপস্থিত ছিলেন। জামায়াতের নেতাদের মধ্যে বৈঠকে ছিলেন দলটির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ইজ্জত উল্লাহ, মোবারক হোসাইন, আবদুর রব, সংসদ সদস্য নাজিবুর রহমান এবং জামায়াত নেতা ইয়াসিন আরাফাত। বেলা ১১টার পরে শুরু হয়ে বৈঠক শেষ হয় সাড়ে ১২ টার পরে।
জামায়াতের পক্ষ থেকে নির্বাচন কমিশনের কাছে ৯ দফা দাবি দেওয়া হয়। যার মধ্যে অধিকাংশই গত ২৯ জুলাই সিইসির সঙ্গে হওয়া সর্বশেষ বৈঠকে দলটির পক্ষ থেকে দেওয়া হয়েছে। মিয়া গোলাম পরওয়ার জানান, তাদের এ বৈঠকটি আগের বৈঠকের ফলোআপ।
দাবি বাস্তবায়ন না হলে জামায়াত স্থানীয় সরকার নির্বাচন বর্জন করবে কিনা —এমন প্রশ্নের জবাবে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, নির্বাচন বর্জনের কোনো কথা বলার মতো সময় এখন আসেনি, সেই পরিস্থিতি এখনো তৈরি হয়নি বলে আমরা মনে করি। এখনো আস্থাশীল। তবে এটুকু বলতে আমাদের দ্বিধা নেই যে ক্ষমতায় যেহেতু দলীয় সরকার তাদের যে একটা চাপ ইসির ওপর আছে, কথা শুনলে আর উত্তর দিলে বোঝা যায় যে, কোথাও একটা অসহায়ত্ব তাদের (ইসি) মধ্যে আছে।
স্থানীয় সরকার নির্বাচনী আইন সংশোধন করে এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সার্বক্ষণিক কর্মরত শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের নির্বাচনে অংশ নেওয়ার অযোগ্য ঘোষণা করার প্রস্তাব সরকারের কাছে দিচ্ছে ইসি। বিষয়টিতে দলটির আপত্তি রয়েছে। গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘সুদীর্ঘকাল থেকে বাংলাদেশে সকল নির্বাচনে তারা অংশ নিতে পারে, রাজনীতি করতে পারে, ভোট দিতে পারে। ইভেন সদ্য সমাপ্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও এমপিওভুক্ত অনেক প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকেরা নির্বাচনে অংশ নিয়েছে। রহস্যজনক কারণে কমিশন নিজেরাই একটা বৈঠক করে সরকারের কাছে সুপারিশ পাঠিয়েছেন এমপিওভুক্ত কোনো শিক্ষক স্থানীয় নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে না।’
ইসির এমন সুপারিশকে অসাংবিধানিক উল্লেখ করে বাতিলের দাবি করেছে জামায়াত। দলটির সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, এমপিওভুক্ত শিক্ষকেরা সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন, কিন্তু ইউনিয়ন পরিষদে সে পারবে না। এটা হতে পারে না। সরাসরি আইনের, সংবিধানের লঙ্ঘন এবং বৈষম্য করা হচ্ছে।এটা আইনি চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হবে।
স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের পদধারীদের নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণার দাবি আবারও করেছে জামায়াত। মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ কোনো দল তার কোনো পদ-পদবি হোল্ড করছেন —এমন কোনো ব্যক্তির এই নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ থাকা উচিত না।তাদেরও স্থানীয় নির্বাচনে অযোগ্য করতে বলেছি।
নির্বাচনে কমিশনের অতিরিক্ত সচিব সামসুল আলমের বিষয়ে পুনরায় আপত্তি জানিয়েছে জামায়াত। সামসুল আলম সর্বশেষ ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিএনপির নির্বাচন বিষয়ক উপ-কমিটির সদস্য ছিলেন বলে উল্লেখ করেছে জামায়াত। মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে রাজনৈতিক নিয়োগ সম্পূর্ণ সংবিধানবিরোধী, আইনের লঙ্ঘন।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, অতিরিক্ত সচিবের বিষয়ে কনসার্নটা আমরা উনাদেরকে জানিয়েছি।ফলে আমরা হতাশ না, আমরা মনে করি আমাদের এই দাবি মানা হবে। মানতে হবে। তা না হলে এই নির্বাচন নিরপেক্ষ হবে না, এই নির্বাচন দলীয় হিসেবেই কিন্তু একটা বায়াসনেসের মধ্যে পড়ে যাবে।উনি দায়িত্বে বহাল থাকলে জামায়াত স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নেবে কিনা —এমন প্রশ্নের জবাবে গোলাম পরওয়ার বলেন, সেই সময় আসুক, এখনো তফসিল ঘোষণা হয়নি।
স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রশাসকদের নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণার দাবি করেছে জামায়াত। মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, যারা প্রশাসক হিসেবে নিযুক্ত হয়েছেন তাদের নির্বাচনে অযোগ্য করতে হবে। এবং এখানে দুটো কথা ভুল ব্যাখ্যার কোনো সুযোগ নেই। একটা হচ্ছে যে তফসিল ঘোষণা হলে তারা ওই পদ থেকে পদত্যাগ করে ইলেকশন করবেন অনেকে এটা বলেন। আমরা তাও চাই না। তফসিল ঘোষণা হলে পদত্যাগ করলেও যিনি ওখানে নিযুক্ত হয়েছেন তিনি সব সময়ের জন্যই অন্তত এই ইলেকশনে অযোগ্য থাকবেন। এই দাবি আমরা উনাকে করেছি।
ইসি জামায়াতের কিছু প্রস্তাবের বিষয়ে ইতিবাচক ছিল বলেও উল্লেখ করেন সেক্রেটারি জেনারেল। তিনি বলেন, কিছু কিছু বিষয়ে উনারা বলেন যে এটা সরকারের করণীয়, আমরা পরামর্শ দিতে পারি, আমরা সিদ্ধান্ত নিতে পারি না—এসব অসহায়ত্বের কথা উনারা বলেছেন।
স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীর বিষয়ে প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অরাজনৈতিক গুরুত্বপূর্ণ প্রভাবশালী ব্যক্তিরা নির্বাচনে অংশ নিয়ে থাকে। কিন্তু সব দলের পক্ষ থেকে সব জায়গাতেই কিন্তু নির্বাচনে অংশ নেওয়ার পরিকল্পনা থাকে, আমাদেরও আছে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়ে স্থানীয় শাখাগুলোকে প্রস্তুতি নিতে প্রার্থী মনোনয়ন করতে বলেছি।কিন্তু দলগত নির্বাচন নয়, ফলে দলীয় কোনো ডিক্লারেশন আমাদের হবে না।ইনডিভিজুয়্যালি তারা ইলেকশন করবে কোনো প্রতীক নাই কোনো দলের বর্ণনা এখানে নাই।
১১ দলীয় জোটগতভাবে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নেবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘১১ দলীয় ঐক্যটি শুধু জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে গঠিত হয়েছে। স্থানীয় সরকারের কোনো পর্যায়ের নির্বাচনে জোটগতভাবে অংশ নেওয়ার বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। আমরা পরিষ্কারভাবে বলেছি, প্রত্যেক দল নিজ নিজ দলের প্রার্থী হিসেবে স্থানীয় নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে। এ ক্ষেত্রে কোনো বাধা নেই।’