ধ্রুব ডেস্ক
ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম ছবি: সংগৃহীত
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সহসভাপতি (ভিপি) এবং বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক সাদিক কায়েমসহ ৯ নেতা শিবির থেকে বিদায় নিয়েছেন। ছাত্রত্ব শেষ হওয়ায় স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় তারা বিদায় নেন। ছাত্র শিবিরের সংবিধান অনুযায়ী ছাত্রত্ব না থাকলে শিবিরে থাকার কোন সুযোগ নেই। ছাত্রত্ব শেষ হওয়া নেতারা হলেন— কেন্দ্রীয় আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ও ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম, মিডিয়া সম্পাদক মু’তাসিম বিল্লাহ শাহেদী, এইচআরডি (মানবসম্পদ উন্নয়ন) সম্পাদক শরীফ মাহমুদ, ছাত্র অধিকার সম্পাদক মুহিবুর রহমান মুহিব, প্লানিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট সম্পাদক রিয়াজুল ইসলাম, ব্যবসায় শিক্ষা সম্পাদক নুরুল হুদা, পাঠাগার সম্পাদক আরাফাত হোসেন মিলন, বিতর্ক সম্পাদক হাবিবুর রহমান আরমান ও দাওয়াহ সম্পাদক শাহীন আহমেদ।
আজ সোমবার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ সিবগা। এ বিষয়ে সাদিক কায়েম গণমাধ্যমে জানান, ছাত্রশিবিরে বছরে দুইবার সাংগঠনিক পুনর্গঠন (সেটআপ) হয়। ২০২৬ সালের ষাণ্মাসিক সেটআপে তার বিদায় হয়েছে।
বিদায় নিয়ে ফেসবুকে আবেগঘন পোস্ট দিয়েছেন সাদিক কায়েম। তিনি লিখেছেন, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির, আমার আবেগ আর ভালোবাসার প্রিয় সংগঠন! দেখতে দেখতে দীর্ঘ এক সোনালী অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটল। সংগঠনের স্বাভাবিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ইসলামী ছাত্রশিবির থেকে আজ আমার আনুষ্ঠানিক ছুটি হয়েছে।
স্মৃতিচারণ করে সাদিক কায়েম লিখেছেন, সবকিছুর জন্য আল্লাহর কাছে অগণিত শুকরিয়া আদায় করছি। জীবনের সবচেয়ে সুন্দর ও প্রোডাক্টিভ সময়গুলো কেটেছে এ কাফেলার সঙ্গে।
এ প্রিয় কাফেলা আমাকে দেশ ও জাতিকে নিয়ে ভাবতে শিখিয়েছে, জড়তা ভেঙে কথা বলতে শিখিয়েছে, নেতৃত্বের গুণাবলিকে পরম মমতায় বিকশিত করেছে। ইসলামী ছাত্রশিবিরই আত্মিক ও আধ্যাত্মিক বিকাশে পরিপূর্ণ পথনির্দেশনা দিয়েছে।
তিনি আরও লিখেছেন, পেছনে ফিরে তাকালে স্মৃতির পাতায় ভেসে ওঠে অসংখ্য প্রিয় মুখ আর সংগ্রামী চিত্র। পুরোটা সময় জুড়ে নিবেদিতপ্রাণ দায়িত্বশীল ও জনশক্তিদের যে সোহবত ও সান্নিধ্য পেয়েছি, তা আমার জীবনের অন্যতম শ্রেষ্ঠ অর্জন। জীবনের প্রতিটি বাঁকে আপনাদের কাছ থেকে শিখেছি, অনুপ্রাণিত হয়েছি।
সবশেষ ছাত্রশিবিরের সাফল্য কামনা করে ডাকসু ভিপি লিখেছেন, দোয়া করি, আল্লাহ তায়ালা ইসলামী ছাত্রশিবিরের এ সংগ্রাম ও আন্দোলনের কর্মীদের পবিত্র সম্পর্কগুলোকে কবুল করুন। সামনের দিনগুলোতে এ অঞ্চলের মজলুম মানুষের মুক্তি সংগ্রামের অতন্দ্র প্রহরী হিসেবে পথ চলার তাওফিক দিন এবং এ আন্দোলনকে বিজয়ী করার মতো যোগ্য নেতৃত্ব দান করুন। আমিন।
বর্তমানে সাদিক কায়েম ডাকসুর ভিপি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার আন্দোলনে মাঠপর্যায়ে সমন্বয় ও বিভিন্ন সাংগঠনিক দায়িত্ব পালন করায় তিনি আলোচনায় আসেন।
এর আগে গত ১ মে রাজধানীর কাকরাইলে ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশ (আইডিইবি)-এর কাউন্সিল হলে আয়োজিত এক সম্মেলনে সাদিক কায়েমকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর মেয়র প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা দেওয়া হয়।
ওই ঘোষণার পর ছাত্রশিবির জানায়, সংগঠনের পদে থেকে কোনো রাজনৈতিক দলের পক্ষে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ নেই। এরই ধারাবাহিকতায় সাম্প্রতিক সাংগঠনিক পুনর্গঠনে সাদিক কায়েম ছাত্রশিবির থেকে বিদায় নেন। ধারণা করা হচ্ছে, তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দিয়ে সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।
সাদিক কায়েম খাগড়াছড়ির বায়তুশ শরফ জব্বারিয়া আদর্শ মাদ্রাসা থেকে দাখিল এবং বায়তুশ শরফ আদর্শ কামিল মাদ্রাসা থেকে আলিম সম্পন্ন করেন। পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন।
সাদিক কায়েম ২০১৩ সালে ছাত্রশিবিরের রাজনীতিতে যুক্ত হন। ২০২৪ সালের ২১ সেপ্টেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি হিসেবে প্রথম প্রকাশ্যে আসেন। ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে কেন্দ্রীয় আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক এবং এর আগে ২০২৫-২৬ মেয়াদে কেন্দ্রীয় প্রকাশনা সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।