❒ গণতন্ত্র, অধিকার ও অন্তর্ভুক্তির প্রশ্ন
ড. জামিল মাসরুর
❒ প্রতীকী ছবি: এ আই সৃষ্ট
রাজনীতি হলো এমন একটি ক্ষেত্র, যেখানে সমাজের সকল স্তরের মানুষের কণ্ঠস্বর প্রতিফলিত হওয়া উচিত। একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থার মূল ভিত্তিই হলো সম-অংশগ্রহণ এবং সকলের প্রতিনিধিত্বের সুযোগ নিশ্চিত করা। বাংলাদেশে, যেখানে সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগোষ্ঠী ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক মূল্যবোধের প্রতি শ্রদ্ধাশীল, সেখানে বোরকা পরিধানকারী নারীরা একটি গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক অংশের প্রতিনিধিত্ব করেন। দুঃখজনক হলেও সত্য, প্রায়শই এই পোশাকের কারণে তাদেরকে রাজনীতিতে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে পরোক্ষ বা প্রত্যক্ষ বাধার সম্মুখীন হতে হয়। এই বাধা কেবল ব্যক্তিগত অবিচার নয়, বরং এটি একটি সমাজের মৌলিক গণতান্ত্রিক অধিকার এবং ন্যায়বিচারের ধারণাকে চ্যালেঞ্জ করে।
বাধা দেওয়া অন্যায় কেন-
এটি একদিকে যেমন বোরকা পরিহিত নারীদের ব্যক্তিগত স্বাধীনতা ও সাংবিধানিক অধিকারের পরিপন্থী, তেমনি অন্যদিকে এটি গণতন্ত্রের মূলনীতি, অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রতিনিধিত্ব এবং সামাজিক প্রগতির ধারণার জন্যও ক্ষতিকর। রাজনীতিতে ব্যক্তির পোশাক নয়, বরং তার যোগ্যতা, দক্ষতা, এবং জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতাই মুখ্য হওয়া উচিত। একটি আধুনিক, প্রগতিশীল সমাজ হিসেবে আমাদের অবশ্যই এই বিভেদকে প্রত্যাখ্যান করতে হবে এবং সকলের জন্য উন্মুক্ত রাজনৈতিক ক্ষেত্র নিশ্চিত করতে হবে।
বাংলাদেশের সংবিধান নাগরিকদের জন্য কিছু অবিচ্ছেদ্য অধিকার নিশ্চিত করেছে, যার মধ্যে ধর্মীয় স্বাধীনতা, চলাফেরার স্বাধীনতা, পেশা নির্বাচনের স্বাধীনতা এবং আইনের দৃষ্টিতে সমতার অধিকার প্রধান।
মৌলিক অধিকার ও সাংবিধানিক ন্যায্যতা
বোরকা পরিহিত নারীদের রাজনীতি থেকে দূরে রাখার প্রবণতা প্রথমেই আঘাত হানে তাদের মৌলিক অধিকারের ওপর। বাংলাদেশের সংবিধান নাগরিকদের জন্য কিছু অবিচ্ছেদ্য অধিকার নিশ্চিত করেছে, যার মধ্যে ধর্মীয় স্বাধীনতা, চলাফেরার স্বাধীনতা, পেশা নির্বাচনের স্বাধীনতা এবং আইনের দৃষ্টিতে সমতার অধিকার প্রধান।
আইনের দৃষ্টিতে সমতা
বাংলাদেশের সংবিধানের ২৭ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, "সকল নাগরিক আইনের দৃষ্টিতে সমান এবং আইনের সমান আশ্রয় লাভের অধিকারী।" পোশাকের কারণে কাউকে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড, সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া বা নির্বাচন থেকে দূরে রাখা এই অনুচ্ছেদের সরাসরি লঙ্ঘন। বোরকা পরিধান একজন নারীর ব্যক্তিগত বা ধর্মীয় পছন্দের প্রতিফলন হতে পারে। এই পছন্দের ভিত্তিতে তাকে রাজনীতিতে অংশগ্রহণের সুযোগ থেকে বঞ্চিত করা স্পষ্টতই বৈষম্যমূলক। রাজনীতিতে তার যোগ্যতা বা দক্ষতার বিচার না করে কেবল বাহ্যিক পোশাকের ভিত্তিতে তার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা চরম অবিচার।
একজন নারী যদি দেশের প্রচলিত আইন মেনে চলেন, এবং তার রাজনৈতিক উদ্দেশ্য সৎ ও জনকল্যাণমুখী হয়, তবে তিনি কী পোশাক পরিধান করবেন, তা তার রাজনৈতিক অধিকার চর্চার ক্ষেত্রে কোনো বাধা হতে পারে না। ধর্মীয় মূল্যবোধ মেনে চলে রাজনীতি করাও এই অধিকারের অন্তর্ভুক্ত।
রাজনৈতিক অধিকারের নিশ্চয়তা
প্রত্যেক নাগরিকের ভোট দেওয়া এবং নির্বাচিত হওয়ার অধিকার রয়েছে। রাজনীতি করার অধিকার হলো মত প্রকাশের স্বাধীনতা এবং সংগঠনের স্বাধীনতার একটি সম্প্রসারিত রূপ। সংবিধানের ৩৮ ও ৩৯ অনুচ্ছেদ এই অধিকার নিশ্চিত করে। একজন নারী যদি দেশের প্রচলিত আইন মেনে চলেন, এবং তার রাজনৈতিক উদ্দেশ্য সৎ ও জনকল্যাণমুখী হয়, তবে তিনি কী পোশাক পরিধান করবেন, তা তার রাজনৈতিক অধিকার চর্চার ক্ষেত্রে কোনো বাধা হতে পারে না। ধর্মীয় মূল্যবোধ মেনে চলে রাজনীতি করাও এই অধিকারের অন্তর্ভুক্ত।
ধর্মীয় স্বাধীনতা ও ব্যক্তিগত পছন্দ
বোরকা বা হিজাব পরিধান অনেক নারীর কাছে তাদের ধর্মীয় বিশ্বাস বা শালীনতার নীতির একটি অপরিহার্য অংশ। সংবিধানের ৪১ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, প্রত্যেক নাগরিকের ধর্মীয় স্বাধীনতা আছে। এই স্বাধীনতাকে তার রাজনৈতিক অংশগ্রহণের পথে বাধা হিসেবে ব্যবহার করা হলে, তা ধর্মীয় স্বাধীনতার অধিকারকে খর্ব করে। এটি রাজনীতিকে কেবল একটি নির্দিষ্ট জীবনধারার অনুসারীদের জন্য সংরক্ষিত করে ফেলার একটি অপচেষ্টা, যা কখনোই একটি বহুমাত্রিক সমাজের কাম্য নয়।
গণতান্ত্রিক প্রতিনিধিত্ব ও অন্তর্ভুক্তির নীতি
গণতন্ত্র তখনই পূর্ণাঙ্গতা লাভ করে যখন সমাজের প্রতিটি প্রান্তের মানুষ তাদের নির্বাচিত প্রতিনিধির মাধ্যমে নিজেদের সমস্যা, চাহিদা ও আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করতে পারে। বোরকা পরিহিত নারীদের রাজনীতিতে বাধা দেওয়া এই গণতান্ত্রিক প্রতিনিধিত্বের ধারণাকে দুর্বল করে দেয়।
প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কণ্ঠস্বর
বোরকা পরিহিত নারীরা বাংলাদেশের সমাজে একটি বৃহৎ অংশের প্রতিনিধিত্ব করেন, যাদের জীবনযাত্রা, সমস্যা এবং দৃষ্টিভঙ্গি কিছুটা ভিন্ন হতে পারে। বিশেষত দেশের গ্রামীণ ও অপেক্ষাকৃত রক্ষণশীল অঞ্চলের নারীরা প্রায়শই ধর্মীয় পোশাক পরিধান করে থাকেন। যদি এই নারীরা রাজনীতিতে না আসতে পারেন, তবে এই বৃহৎ অংশটির সমস্যাগুলো (যেমন—ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন, পারিবারিক সহিংসতা বা গ্রামীণ অর্থনীতির চ্যালেঞ্জ) হয়তো জাতীয় নীতিমালায় সঠিকভাবে প্রতিফলিত হবে না। তাদের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত হলে, নীতি প্রণয়ন আরও বেশি অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং জনমুখী হবে।
বোরকা পরা নারীদের রাজনীতিতে বাধা দেওয়া নারীদের ক্ষমতায়নের ধারণার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। এটি এমন একটি ভুল বার্তা দেয় যে, রাজনৈতিক মুক্তি পেতে হলে বা ক্ষমতায় আসতে হলে নারীকে তার ধর্মীয় বা সাংস্কৃতিক পরিচয় বিসর্জন দিতে হবে।
বৈচিত্র্যের শক্তি
রাজনীতিতে বৈচিত্র্য থাকলে সিদ্ধান্ত গ্রহণের মান উন্নত হয়। বিভিন্ন পটভূমির, মতাদর্শের এবং জীবনযাত্রার মানুষ যখন একত্রিত হন, তখন তারা একটি সমস্যার বহুবিধ সমাধান নিয়ে আসতে পারেন। পোশাকের কারণে একজনকে বাদ দিলে, কেবল সেই নারীকে নয়, বরং তার সঙ্গে যুক্ত মেধা, অভিজ্ঞতা ও ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গিকেও বঞ্চিত করা হয়। একটি বোরকা পরিহিত নারী হয়তো শিক্ষা, অর্থনীতি বা স্বাস্থ্য খাতে অত্যন্ত দক্ষ এবং তার নেতৃত্ব দেশের জন্য কল্যাণকর হতে পারে। তার পোশাকের জন্য তার দক্ষতাকে উপেক্ষা করা দেশের মানবসম্পদের অপচয়।
নারীর ক্ষমতায়নের ভুল বার্তা
বোরকা পরা নারীদের রাজনীতিতে বাধা দেওয়া নারীদের ক্ষমতায়নের ধারণার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। এটি এমন একটি ভুল বার্তা দেয় যে, রাজনৈতিক মুক্তি পেতে হলে বা ক্ষমতায় আসতে হলে নারীকে তার ধর্মীয় বা সাংস্কৃতিক পরিচয় বিসর্জন দিতে হবে। সত্যিকারের ক্ষমতায়ন তখনই হয়, যখন একজন নারী তার নিজস্ব পরিচয়ে, পছন্দ ও বিশ্বাস বজায় রেখে সমাজের সকল স্তরে কাজ করার সুযোগ পান।
যোগ্যতা, দক্ষতা এবং বাহ্যিক পোশাকের বিভেদ
রাজনীতিতে একজন প্রার্থীর সাফল্যের মাপকাঠি হওয়া উচিত তার চারিত্রিক গুণাবলি, শিক্ষাগত যোগ্যতা, জনসেবার প্রতি অঙ্গীকার, নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষমতা এবং নীতি প্রণয়নে তার দূরদর্শিতা। এই গুণাবলি কখনোই তার পরিহিত পোশাকের ওপর নির্ভরশীল নয়।
বোরকা পরিহিত নারীদের রাজনৈতিক অংশগ্রহণ সীমিত করার চেষ্টা একটি সমাজের ঐক্য ও প্রগতিকে বাধাগ্রস্ত করে। এটি সামাজিক বিভেদ তৈরি করে এবং চরমপন্থাকে উৎসাহিত করার ঝুঁকি রাখে।
মেধার অপচয়
যদি ধরে নেওয়া হয় যে, একজন বোরকা পরিহিত নারী রাজনীতিতে অযোগ্য, তবে সেটি তার মেধা, শিক্ষা ও কর্মদক্ষতার প্রতি চরম অসম্মান। উদাহরণস্বরূপ, বহু উচ্চশিক্ষিত, ডাক্তার, প্রকৌশলী, শিক্ষক বা আইনজীবী আছেন যারা বোরকা পরিধান করেন। তাদের পেশাগত দক্ষতা তাদের পোশাক দ্বারা নির্ধারিত হয়নি। ঠিক তেমনি, রাজনৈতিক ক্ষেত্রেও তাদের পোশাক তাদের রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক সক্ষমতার নির্ধারক হতে পারে না। পোশাক একটি আবরণ মাত্র; ভেতরের মানুষটি, তার চিন্তাভাবনা এবং কর্মক্ষমতাই আসল।
উপরি কাঠামোর বিচার
রাজনীতিকে যদি কেবল বাহ্যিক চেহারা বা পোশাকের ভিত্তিতে বিচার করা হয়, তবে এটি একটি অগভীর ও অন্তঃসারশূন্য রাজনীতিকে উৎসাহিত করে। সত্যিকারের পরিবর্তন আসে নীতি ও আদর্শের মাধ্যমে, যা ব্যক্তির পোশাকের গভীরে নিহিত থাকে। যারা পোশাককে প্রধান মানদণ্ড হিসেবে ব্যবহার করে, তারা প্রকৃতপক্ষে রাজনীতিতে বিদ্যমান প্রকৃত সমস্যা—যেমন দুর্নীতি, অপশাসন বা অদক্ষতা—থেকে মনোযোগ সরিয়ে দিতে চায়।
লিঙ্গভিত্তিক দ্বৈত মানদণ্ড
এই বাধার প্রবণতা প্রায়শই লিঙ্গভিত্তিক দ্বৈত মানদণ্ড প্রতিফলিত করে। পুরুষ রাজনীতিকরা যখন তাদের নিজস্ব ধর্মীয় বা ঐতিহ্যবাহী পোশাক পরিধান করেন (যেমন টুপি, পাঞ্জাবি), তখন তা নিয়ে কোনো প্রশ্ন তোলা হয় না। কিন্তু একজন নারীর ক্ষেত্রে তার পোশাককে তার যোগ্যতা বা দেশপ্রেমের মাপকাঠি হিসেবে দাঁড় করানো হয়। এই বৈষম্যমূলক আচরণ সুস্পষ্টভাবে অন্যায্য এবং পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতার বহিঃপ্রকাশ।
আধুনিকতা মানেই পশ্চিমা পোশাক বা মূল্যবোধকে গ্রহণ করা। কিন্তু প্রকৃত প্রগতি হলো সমাজের বৈচিত্র্যকে সম্মান করা এবং সকলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা।
প্রগতির ভুল ধারণা
অনেকে মনে করেন, আধুনিকতা মানেই পশ্চিমা পোশাক বা মূল্যবোধকে গ্রহণ করা। কিন্তু প্রকৃত প্রগতি হলো সমাজের বৈচিত্র্যকে সম্মান করা এবং সকলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা। একজন নারী বোরকা পরিধান করেও আধুনিক চিন্তাভাবনা, অর্থনৈতিক দক্ষতা এবং প্রগতিশীল রাজনৈতিক আদর্শ পোষণ করতে পারেন। তার পোশাক তার চিন্তার গতির নির্ধারক নয়। তার প্রবেশাধিকার সীমিত করলে সমাজ প্রগতির একটি সংকীর্ণ সংজ্ঞায় আবদ্ধ হয়ে পড়ে।
বোরকা পরিহিত নারীদের রাজনীতিতে অংশগ্রহণের বিপক্ষে যে যুক্তিগুলো সাধারণত দেওয়া হয়, সেগুলোর মধ্যে প্রধান হলো 'নিরাপত্তা' এবং 'পরিচয়' নিয়ে প্রশ্ন। আসুন এ বিষয়টা একটু পর্যালোচনা করি।
বোরকা পরিহিত নারীদের রাজনীতি করতে বাধা দেওয়া কেবল অন্যায় নয়, এটি একটি দুর্বল, অগণতান্ত্রিক এবং বিভেদকামী সমাজের লক্ষণ। রাজনীতিতে তাদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা একটি সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা এবং একটি ন্যায়ভিত্তিক সমাজের অপরিহার্য শর্ত।
নিরাপত্তার প্রশ্ন
অনেকে দাবি করেন, বোরকার কারণে পরিচয় নিশ্চিত করা কঠিন হতে পারে, যা নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকি তৈরি করে।
নিরাপত্তা বা পরিচয় নিশ্চিত করার জন্য আইনগত প্রক্রিয়া রয়েছে। ভোটদান, সরকারি দপ্তরে প্রবেশ বা আইনি প্রক্রিয়া পরিচালনার সময় প্রয়োজন হলে মুখ উন্মোচন করে পরিচয় নিশ্চিত করার বিধান তৈরি করা সম্ভব। এটি পোশাকে সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা আরোপের চেয়ে অনেক বেশি যুক্তিসঙ্গত ও মানবিক সমাধান। উন্নত গণতান্ত্রিক দেশগুলোতেও ধর্মীয় পোশাকের বিষয়ে এমন সমন্বয় দেখা যায়।
"ধর্মনিরপেক্ষ" রাজনীতির প্রশ্ন
কিছু মহল মনে করে, রাজনীতি সম্পূর্ণ ধর্মনিরপেক্ষ হওয়া উচিত এবং ধর্মীয় পোশাক এর সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
ধর্মনিরপেক্ষতা মানে সব ধর্মকে সমান সম্মান করা এবং রাজনীতিতে ধর্মীয় বৈষম্য না করা। এর অর্থ এই নয় যে, নাগরিকরা তাদের ধর্মীয় বা সাংস্কৃতিক পরিচয় ত্যাগ করবে। বরং এটি নিশ্চিত করে যে, ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে কেউ সুযোগ থেকে বঞ্চিত হবে না। একজন নারী বোরকা পরে রাজনীতি করলে তা তার ব্যক্তিগত বিশ্বাসকে প্রকাশ করে মাত্র, যতক্ষণ না তিনি রাষ্ট্রের ধর্মনিরপেক্ষ কাঠামো বা অন্য নাগরিকদের অধিকারে হস্তক্ষেপ করছেন।
মূলকথা
বোরকা পরিহিত নারীদের রাজনীতি করতে বাধা দেওয়া কেবল অন্যায় নয়, এটি একটি দুর্বল, অগণতান্ত্রিক এবং বিভেদকামী সমাজের লক্ষণ। রাজনীতিতে তাদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা একটি সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা এবং একটি ন্যায়ভিত্তিক সমাজের অপরিহার্য শর্ত। তাদের বাদ দিলে আমরা শুধু কিছু ব্যক্তিকে নয়, বরং দেশের একটি বড় অংশের প্রতিনিধিত্ব, মেধা এবং অভিজ্ঞতাকে বাদ দিচ্ছি।
একটি সত্যিকারের প্রগতিশীল সমাজ পোশাকের পরিবর্তে ব্যক্তির যোগ্যতা, নৈতিকতা এবং জনগণের প্রতি তার অঙ্গীকারকে মূল্যায়ন করে। বাংলাদেশের উচিত সকল নাগরিকের জন্য—পোশাক নির্বিশেষে—একটি নিরাপদ, অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং সমান সুযোগের রাজনৈতিক ক্ষেত্র তৈরি করা। কেবল তখনই গণতন্ত্র তার পূর্ণাঙ্গ অর্থ লাভ করবে এবং সমাজ উন্নতির পথে এগিয়ে যাবে। এটি কেবল বোরকা পরা নারীদের অধিকারের প্রশ্ন নয়, বরং এটি আমাদের জাতীয় ঐক্য, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের প্রতি আমাদের অঙ্গীকারের প্রশ্ন।
লেখক: গবেষক ও প্রাবন্ধিক