Ad for sale 990 x 90 Position (1)
Position (1)
শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Ad for sale 870 x 100 Position (2)
Position (2)

র‍্যাব বিলুপ্ত, এসআরবি বিল সংসদে পাস

ধ্রুব ডেস্ক ধ্রুব ডেস্ক
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর,২০২৬, ১০:৫৮ পিএম
র‍্যাব বিলুপ্ত, এসআরবি বিল সংসদে পাস

ছবি: সংগৃহীত

বিরোধী দলের বিরোধিতার মধ্যে র‍্যাব বিলুপ্ত করে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন-এসআরবি বিল বৃহস্পতিবার সংসদে পাস হয়েছে। পুলিশ বাহিনীর আওতাধীন বিশেষায়িত ইউনিট হিসেবে কাজ করবে এসআরবি।

বিকেল সাড়ে ৩টায় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে সংসদের বৈঠক শুরু হলে বিলটি পাসের প্রস্তাব করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ।

বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যরা এর বিরোধিতা করেন। তারা বলেন, র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন-র‍্যাবের মতোই আরেকটি বাহিনী গঠন করা হচ্ছে। সেই একই বাহিনীর (র‍্যাব) জনবল একই জায়গায় হস্তান্তর হচ্ছে। শুধু একটি নাম বদলে আরেকটি এসেছে। 

বিলে বলা হয়েছে– র‍্যাবের জনবল, আদেশ, ক্ষমতা, কর্তৃত্ব, বিদ্যমান সুবিধা, তহবিল, নগদ ও ব্যাংকে রাখা অর্থ, দায়, চুক্তি, স্থাবর বা অস্থাবর সম্পত্তি, রেজিস্টার, রেকর্ডপত্রসহ সব দলিল এসআরবির কাছে স্থানান্তর হবে।

পাশাপাশি নতুন আইনে বিধিমালা না হওয়া পর্যন্ত বিদ্যমান ২০০৫ সালের বিধিমালায় র‍্যাব সংক্রান্ত বিভাগীয় শৃঙ্খলামূলক ব্যবস্থা বা আদালতের কার্যধারা বহাল থাকবে। এসআরবি-কে ফৌজদারি অপরাধ তদন্ত, তল্লাশি, গ্রেপ্তার ও জব্দের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি নিজস্ব হাজতখানা, মালখানা ও জিজ্ঞাসাবাদ কক্ষ রাখার বিধানও রাখা হয়েছে।

গত ৩ সেপ্টেম্বর এসআরবি বিল-২০২৬ সংসদে উত্থাপন করার দিনও আপত্তি জানিয়ে বিরোধী দল বলেছিল, এখন নতুন মোড়কে র‍্যাব পুনর্গঠন করা হচ্ছে। সংসদীয় কমিটিতে পরীক্ষার সময়েও বিলটি নিয়ে আটটি বিষয়ে নোট অব ডিসেন্ট দেন বিরোধী দলের সদস্যরা।
২০০৩ সালে ‘আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন অর্ডিন্যান্স’ সংশোধন করে র‍্যাব গঠনের আইনি ভিত্তি দেওয়া হয়েছিল। ‘বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড’সহ এক যুগেরও বেশি সময় ধরে নানা কর্মকাণ্ডে বাহিনীটি সমালোচিত হয়। এখন র‍্যাব বিলুপ্ত করতে ওই আইন থেকে সংশ্লিষ্ট অংশগুলো বাদ দিয়ে পৃথক এসআরবি আইন করা হচ্ছে। একই সঙ্গে ‘আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন অর্ডিন্যান্স’ রহিত করে নতুন এপিবিএন আইন করতে আরেকটি বিল সংসদে পাস হয়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদের প্রস্তাবে বিলটি সংসদের বিবেচনার জন্য উত্থাপিত হলে এতে জনমত যাচাই ও বাছাই কমিটিতে প্রেরণের প্রস্তাব দেন বিরোধীদলীয় নেতা জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান, জামায়াতের সদস্য রুহুল আমিন, রাশেদুল ইসলাম, নুরুল ইসলাম, নাজিবুর রহমান এবং স্বতন্ত্র সদস্য শেখ মুজিবুর রহমান ইকবাল।

পাস হওয়া এসআরবি বিলে বলা হয়েছে, পুলিশ বাহিনীর আওতাধীন এসআরবি নামে একটি বিশেষায়িত ইউনিট থাকবে। সরকারের প্রয়োজনীয়তার নিরিখে পুলিশ, শৃঙ্খলা বাহিনী ও নির্ধারিত সংখ্যক কর্মকর্তা, আর্মড পারসোনেল বা কর্মচারী পদায়ন বা প্রেষণে নিয়োগের মাধ্যমে এ ইউনিট গঠিত হবে। ইউনিটের কর্মকর্তা বা আর্মড পারসোনেল বা কর্মচারীদের পদবিন্যাস, নিয়োগ পদ্ধতি ও চাকরির শর্তাবলি বিধি দ্বারা নির্ধারিত হবে। ইউনিটের জন্য বিধি দ্বারা নির্ধারিত একটি পতাকা, প্রতীক ও সুনির্দিষ্ট পোশাক থাকবে। এসআরবির মহাপরিচালক হবেন পুলিশে কর্মরত একজন অন্যূন অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক।

আইনের খসড়ায় নাগরিকদের অভিযোগ এবং ইউনিটের সদস্যদের অভ্যন্তরীণ সংক্ষোভ নিষ্পত্তির জন্য একটি অভিযোগ প্রতিকার কমিটি গঠনের বিধান রাখা হয়েছে। ইউনিটের একজন অতিরিক্ত মহাপরিচালক হবেন এই কমিটির সভাপতি।

বিলের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে নুরুল ইসলাম বলেন, র‍্যাব নিয়ে আতঙ্ক আছে, তারা মানবাধিকার লঙ্ঘন করেছে। গোটা দেশের মধ্যে গুম করার ক্ষেত্রে একটা নতুন মাত্রা যোগ করছে। এই ধরনের একটা বিল তড়িঘড়ি করে মাত্র চার কর্মদিবসের মধ্যে পাস করার জন্য নিয়ে আসা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।

নুরুল ইসলাম বলেন, এসআরবি কোথায় একজন ব্যক্তিকে আটক রাখবে সেই ব্যাপারেও সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা নেই। এসআরবির যতগুলো স্থাপনা ও কার্যালয় থাকবে সেগুলোর গেজেট হওয়া দরকার।

২০১৪ সালের নারায়ণগঞ্জের আলোচিত সাত খুনের ঘটনা তুলে ধরে জামায়াতের আরেক সংসদ সদস্য নাজিবুর রহমান বলেন, ওই ঘটনার পরে র‍্যাবকে কিলিং স্কোয়াড হিসেবে আখ্যায়িত করেছিলেন খালেদা জিয়া। ২০১৯ সালে তিনি র‍্যাবকে ক্যান্সার আখ্যায়িত করেছিলেন। ২০২৪ সালে বিএনপি র‍্যাব বিলুপ্তির আনুষ্ঠানিক সুপারিশ করেছিল।

বিরোধী দলের এই সংসদ সদস্য আরও বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর পাশাপাশি জাতিসংঘ হিউম্যান রাইটস, হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ও গুম কমিশনও র‍্যাব বিলুপ্তির সুপারিশ করেছিল। অথচ এখন শুধু সাইনবোর্ডটাই পরিবর্তন হচ্ছে, নতুন বোতলে পুরোনো মদ। র‍্যাব নাম ছাড়া আর কোনো কিছু পরিবর্তন হচ্ছে না। এতে গুমের অপরাধসহ অনেক অপরাধের মামলা এবং তদন্ত ত্রুটির মুখে পড়বে।

বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান বলেন, এই বাহিনীটার বিলুপ্তি ছিল সবার দাবি। খালেদা জিয়াও বারবার এ বিষয়ে কথা বলেছেন। দেশি-বিদেশি মানবাধিকার সংস্থাগুলো কথা বলেছে। এটা বিলুপ্ত করে আরেকটা বাহিনী গঠনের দাবি কারও ছিল না। শুধুই বিলুপ্তির দাবি ছিল। কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে, বাহিনীকে হুবহু আগের জায়গায় রেখে একটা প্রস্তাব নিয়ে আসা হয়েছে।

সম্প্রতি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রীকে তুলে নেওয়ার জন্য র‍্যাব এসেছিল উল্লেখ করে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, এই ঘটনা বার্তা দিচ্ছে এই বাহিনীর সঙ্গে সম্পৃক্ত সদস্যরা কোন ধরনের হয়। তারা আগে যেমন ছিল, এখনও তেমনই আছে। সেই একই বাহিনীর লোকেরা একই জায়গায় হস্তান্তর হচ্ছে। শুধু একটি নাম বদলে আরেকটি এসেছে। বিরোধীদলীয় নেতা  বলেন, কোনো অবস্থাতেই এটা পাস করা উচিত না।

এসব অভিযোগের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, বিএনপির প্রতিশ্রুতি ছিল র‍্যাব বিলুপ্ত করা, সেটা করা হচ্ছে। বিলটি নিয়ে সংসদীয় কমিটিতে আলোচনা হয়েছে। এর আগে মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে দীর্ঘদিন ছিল। বিভিন্ন মত এসেছে। অভিযোগ প্রতিকার কমিটি হচ্ছে, ইউনিটের সদস্যদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় অভিযোগ নিষ্পত্তির জন্য।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, র‍্যাব বিলুপ্তি করে একটা নতুন ব্যাটালিয়ন তৈরি করা হচ্ছে। সেই ব্যাটালিয়নের নাম হবে এসআরবি। র‍্যাবের সঙ্গে এর কোনো সংস্পর্শ নেই।

র‍্যাবের পরিবর্তে এসআরবি গঠনের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর বলেন, ‘হয়তো র‍্যাবের পরিবর্তে এসআরবি নামে যে সংগঠন আসছে, সেটা প্রয়োজন। কারণ এখনও বোমা হামলা হচ্ছে। আপনারা দেখছেন, আমাদের পার্শ্ববর্তী যে কোনো একটি দেশ বিভিন্নভাবে বিভিন্ন রকম প্রক্রিয়া চালিয়ে যাচ্ছে এবং অতীতেও করেছিল। এ কারণে র‍্যাবের মতো একটা সংগঠন প্রয়োজন।’

বিরোধী দলকে আশ্বস্ত করে বাবর বলেন, ‘এসআরবি দেশের জনগণের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের স্বার্থে অত্যন্ত প্রয়োজন। অনেক কিছু আছে, যেটা রাষ্ট্রের নিরাপত্তার গভীরতার স্বার্থে আমি হয়তো বলতে পারছি না। কিন্তু এটা অত্যন্ত প্রয়োজন।’

এপিবিএন পাবে তদন্তের ক্ষমতা
এসআরবি বিল পাসের পর আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নস অর্ডিন্যান্স রহিত করে নতুন আইন করতে ‘আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) বিল-২০২৬’ সংসদে তোলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। বিলটির ওপর দেওয়া বাছাই কমিটিতে প্রেরণ ও জনমত যাচাইয়ের প্রস্তাবগুলো নিষ্পত্তি শেষে কণ্ঠভোটে এটি পাস হয়।

বিলে বলা হয়েছে, পুলিশ বাহিনীর অধীনে এপিবিএন গঠিত ও পরিচালিত হবে। এই ইউনিটে স্পেশাল সিকিউরিটি অ্যান্ড প্রটেকশন ব্যাটালিয়ন, পার্বত্য ব্যাটালিয়ন, বিমানবন্দর ব্যাটালিয়ন ও অন্য কোনো ব্যাটালিয়ন অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

প্রস্তাবিত আইনে এপিবিএনকে ফৌজদারি অপরাধ তদন্তের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। ফৌজদারি কার্যবিধি ও বিদ্যমান অন্যান্য আইন প্রতিপালন সাপেক্ষে কোনো স্থানে প্রবেশ, তল্লাশি, জব্দকরণ ও গ্রেপ্তারের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।

বিলে বলা হয়েছে, এই ইউনিটের কোনো সদস্য যথাযথ কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমতি ছাড়া প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কোনো ইলেকট্রনিক মিডিয়া ও সংবাদপত্রে কোনো প্রকার তথ্য বা অন্য প্রকার দলিল প্রকাশ করতে পারবেন না বা প্রকাশে সহযোগিতা করতে পারবেন না বা প্রকাশ করার কারণ হবেন না।

 

ধ্রুব নিউজের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

💬 Comments

Login | Register
Ad for sale 270 x 225 Position (3)
Position (3)
Ad for sale 990 x 90 Position (4)
Position (4)