❒ নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের সমাপনী
ধ্রুব ডেস্ক
ছবি: সংগৃহীত
“নিজেকে ছোট ভাববে না, নিজেকে গড়ে তোলো,” শিশু-কিশোরদের প্রতি এমন আহ্বান রেখে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, “তাহলেই সুন্দর বাংলাদেশ গড়ে উঠবে।’’
সোমবার বিকালে নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের সমাপনী অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ আর্মি স্টেডিয়ামে তিনি এ আহ্বান জানান।
দীর্ঘ বিরতির পর শুরু হওয়া এ প্রতিযোগিতার জয়ীদের হাতে এদিন পুরস্কার তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী। এর আগে তিনি বিকাল ৪টায় বালিকাদের ফাইনাল খেলা মাঠের পাশে বসে দেখেন।
এতে রংপুরের কিশোরী ফুটবলাররা রাজশাহীকে ৪-০ গোলে পরাজিত করে শিরোপা লাভ করে। আর এদিন বালকদের ফুটবলে দারুণ লড়াইয়ের পর ময়মনসিংহ অঞ্চলকে ১-০ গোলে হারিয়ে বিজয়ী হয়েছে সিলেট অঞ্চল।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘‘তোমরা যদি আগামী দিনে নিজেদেরকে গড়ে তুলতে পারো সঠিকভাবে- তাহলেই আমরা বাংলাদেশকে ভবিষ্যতে গড়ে তুলতে পারবো। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, এই যে গ্যালারিতে হাজার হাজার ছোট বন্ধুরা তোমরা বসে আছো তোমাদের মধ্যে থেকেই এই দেশের একজন ভালো ডাক্তার বের হবে, তোমাদের ভেতর থেকে এই দেশের একজন ভালো আর্কিটেক্ট বের হবে, তোমাদের ভেতর থেকে এই দেশের একজন ভালো ইঞ্জিনিয়ার বের হবে, তোমাদের ভেতর থেকে এই দেশে একজন ভালো ক্রিকেটার বের হবে, ভালো সুইমার বের হবে, ভালো টেনিস খেলোয়াড় বের হবে।”
সংবাদমাধ্যমের প্রতি শিশু-কিশোরদের এ খেলার সংবাদকে প্রধান শিরোনাম হিসেবে প্রকাশের অনুরোধ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আজকে যে প্রতিযোগিতাটা আপনারা দেখে গেলেন এই প্রতিযোগিতা হচ্ছে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ।”
শিশু-কিশোরদের সমস্যার সমাধান এবং বিদ্যালয়ের সমস্যার সমাধানে সরকারের কাজ করার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “তোমাদের এই সরকার কাজ করছে। তোমাদের স্কুলগুলো যাতে ধীরে ধীরে আমরা গড়ে তুলতে পারি। কিন্তু আজকে এই নতুন করে স্পোর্টস ইভেন্টে তোমাদের কাছ থেকে আমি একটি কথা নিতে চাই। আমরা এই যে দেশকে সঠিকভাবে গড়ে তোলার কাজ করছি। এই কাজটি আমরা তখনই করতে পারবো। যখন এই যে তোমরা যারা গ্যালারিতে বসে আছো, আমার হাতের বাম পাশে তোমরা যারা খেলোয়াড়রা বসে আছো যারা পুরস্কার পেয়েছো তোমরা যদি নিজেদেরকে গড়ে তুলতে পারো তাহলে আমরা বাংলাদেশকে গড়ে তুলতে পারব।
“বাংলাদেশকে গড়ে তুলতে কে কে কাজ করবে?”- এমন প্রশ্ন রেখে গ্যালারিতে বসে থাকা কিশোর-কিশোরীদের জবাব জানতে চান প্রধানমন্ত্রী। বলেন, ‘‘আমার সাথে আছো তোমরা? কারা বাংলাদেশকে গড়ে তুলতে চাও? হাত তোলো।”
এসময় পুরো গ্যালারির হাজারো কিশোর-কিশোরী একসঙ্গে হাত উঁচু করলে প্রধানমন্ত্রী তাদেরকে ধন্যবাদ দেন।
শিক্ষার্থীদের মন দিয়ে পড়াশোনার করার আহ্বান জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, ‘‘ছোট ছোট বন্ধুরা আছো তোমাদের সকলের কাছে আমি একটি সহযোগিতা চাই। একটি সাহায্য চাই। সেটি কি সাহায্য? এই দেশটা আমাদের সকলের দেশ, এই দেশের আলো, এই দেশের বাতাস, এই দেশের পরিবেশ আমরা সকলে মিলে যদি ঠিক রাখি তাহলে আমরা একটি সুন্দর পরিবেশে থাকতে পারবো। তুমি সুন্দর পরিবেশে বড় হতে পারবে, তুমি সুন্দর পড়ালেখা করতে পারবে।“
পরিবেশ ঠিক রাখতে তিনি আশপাশে বর্জ্য ফেলা বন্ধ এবং অন্যরাও যাতে পরিবেশ নষ্ট না করে সেজন্য শিক্ষার্থীদের সচেতন থাকার পরামর্শ দেন।
তিনি বলেন, ‘‘আরেকটি কাজ তোমাদেরকে করতে হবে, কেউ যদি পুকুর ও নদী-নালায় ময়লা ফেলে যদি তুমি পারো বন্ধুদেরকে সাথে নিয়ে সেই ময়লাটিকে পরিষ্কার করবে যাতে আমাদের পরিবেশটি, নদীর পানি পুকুরের পানি যাতে পরিষ্কার থাকে, যাতে সেখানে মানুষ সুন্দরভাবে হাঁটাচলা করতে পারে বা মানুষ সেখানে বসতে পারে পুকুরের পাড়ে।”
তিনি তাদের প্রতিবছর বাড়ি কিংবা স্কুলের আশপাশে একটি করে গাছ লাগানোর আহ্বান জানান।
প্রধানমন্ত্রী পশু-পাখির প্রতি সদয় হওয়ার অনুরোধ করে বলেন, ‘‘আরেকটি কাজ তোমাদেরকে করতে হবে আমাদের কিছু কিছু মানুষ আছে যারা প্রকৃতির প্রতি বিভিন্ন পশুপাখির প্রতি অত্যন্ত নির্দয় হয়। আজকে আমার সকল ছোট বন্ধুদেরকে আমি অনুরোধ করব, আসো আমাদের আশেপাশে যত কুকুর, বিড়াল, হাঁস, মুরগি,গরু, ছাগল যত রকম পশুপাখি আছে আমরা চেষ্টা করব এইগুলো আমাদের দেশের সম্পদ, এদের যত্ন নেবার আমরা চেষ্টা করব।“
এ সময়ে কিশোর-কিশোরীরা সমস্বরে হ্যাঁ বলে জবাব দেয়।
নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া বিজয়ীদের অভিন্দন জানান প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে অংশগ্রহণকারী ক্ষুদে খেলোয়াড়দের অভিভাবকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি।
গত ২ মে সিলেট জেলা স্টেডিয়ামে নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আঞ্চলিক পর্যায়ে সারাদেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের প্রায় ১ লাখ ৭০ হাজার ক্ষুদে ক্রীড়াবিদ আটটি ডিসিপ্লিনে প্রতিযোগীতায় অংশ নেয়। জাতীয় পর্বের খেলাগুলো হয়েছে রাজধানীর বিভিন্ন ভেন্যুতে।