Ad for sale 990 x 90 Position (1)
Position (1)
রবিবার, ৫ জুলাই ২০২৬
Ad for sale 870 x 100 Position (2)
Position (2)

‘আমার মা আমাকে বলতেন-প্রতিশোধ নয়, দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাও’ : প্রধানমন্ত্রী

ধ্রুব ডেস্ক ধ্রুব ডেস্ক
প্রকাশ : শনিবার, ৪ জুলাই,২০২৬, ০৪:২৩ পিএম
‘আমার মা আমাকে বলতেন-প্রতিশোধ নয়, দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাও’ : প্রধানমন্ত্রী

‘জুলাই জাতীয় সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: সংগৃহীত

স্বজন হারানোর দগদগে ক্ষত, স্মৃতিচারণা আর বেদনার চাদরে ঢাকা এক আবেগঘন পরিবেশে রাজধানীতে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘জুলাই জাতীয় সম্মেলন’। আজ শনিবার (৪ জুলাই) সকাল সোয়া ১০টার দিকে ঢাকার আগারগাঁওয়ের বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহীদদের স্মরণে এবং তাদের আত্মত্যাগকে সম্মান জানাতে এই সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ মূলমন্ত্রকে সামনে রেখে আয়োজিত এই স্মরণ সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

অনুষ্ঠানের শুরুতে শহীদদের স্মরণে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। জাতীয় সংসদের প্রধান হুইপ নুরুল ইসলাম মনির সভাপতিত্বে এই স্মরণ সভায় জুলাই বিপ্লবের শহীদ ও আহতদের পরিবারের সদস্যরা ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রিসভার সদস্য, সংসদ সদস্য, দেশের শীর্ষস্থানীয় রাজনীতিবিদ, বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত ও হাইকমিশনার, সামরিক ও বেসামরিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং পেশাজীবী নেতারা।

প্রতিশোধের রাজনীতি পরিহার ও জাতীয় ঐক্যের ডাক প্রধানমন্ত্রীর স্মরণ সভায় শহীদ ও আহত পরিবারের সদস্যদের আবেগঘন বক্তব্যের পর নিজের পরিবার ও দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট টেনে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বিগত ১৭ বছর তার মায়ের ওপর হওয়া অন্যায়-অত্যাচারের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘আমি যদি মাকে জিজ্ঞেস করতে পারতাম, গেল ১৭ বছর আপনার ওপর যে অন্যায়-অত্যাচার হয়েছে, আমি কি সেই নির্যাতনের প্রতিশোধ নেব? সেই ক্ষমতা আমার আছে। তবে আমার বিশ্বাস, আমার মা আমাকে বলতেন-প্রতিশোধ নয়, দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাও। আমার ছোট ভাইকেও একই প্রশ্ন করলে সে-ও মায়ের মতোই একই উত্তর দিতো।’

প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেন, ৫ আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানের সাফল্যকে কোনো একক ব্যক্তি বা নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের অর্জন হিসেবে দেখা যাবে না। জাতিকে বিভক্ত করে দেশকে কোনোভাবেই সামনের দিকে এগিয়ে নেওয়া যায় না। দেশের স্বার্থে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। এই গণ-অভ্যুত্থানে প্রত্যেকের ত্যাগের মূল্যায়ন করা হবে, তবে তার মানে এই নয় যে কাউকে বঞ্চিত করে তা করা হবে।

তিনি আশ্বস্ত করেন, আন্দোলনের সময় সংঘটিত প্রতিটি হত্যাকাণ্ড ও অন্যায়ের বিচার দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী নিশ্চিত করা হবে। তবে আইনি প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, ‘বিচারের নামে যেন কোনোভাবেই কারও প্রতি অবিচার না হয়, সে বিষয়ে প্রশাসন ও বিচার বিভাগকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে।’ নতুন দেশ গঠনের এই অগ্রযাত্রাকে অন্য কোনো শক্তি যাতে বাধাগ্রস্ত করতে না পারে, সেদিকে সবাইকে সজাগ দৃষ্টি রাখার আহ্বান জানান তিনি।

চেতনা ব্যবসা নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর হুঁশিয়ারি সম্মেলনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জুলাই আন্দোলনের আদর্শ ও লক্ষ্যকে রাজনৈতিক বা ব্যক্তিগত স্বার্থে ব্যবহার না করার আহ্বান জানান। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘কোনো মহান আদর্শ বা চেতনাকে ব্যক্তিগত, রাজনৈতিক কিংবা ব্যবসায়িক স্বার্থে ব্যবহার করা উচিত নয়। জুলাই চেতনা নিয়ে কেউ যেন ব্যবসা না করি। যারা চেতনা ব্যবসা করবে তাদের পরিণতিও দেশের মানুষ দেখবে।’

বিদেশে বসে পতিত স্বৈরাচারের নানামুখী ষড়যন্ত্রের বিষয়ে সতর্ক করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দেশের স্থিতিশীলতা নষ্টের যেকোনো ষড়যন্ত্র মোকাবিলায় সরকার সতর্ক রয়েছে। তিনি আরও জানান, আওয়ামী লীগকে রাজনৈতিক দল হিসেবে আইনের আওতায় এনে বিচারের মুখোমুখি করা হবে এবং আইন অনুযায়ী বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।

জুলাই যোদ্ধাদের বঞ্চনার ক্ষোভ ও আর্তি সম্মেলনে অংশ নিয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে নিহত প্রথম শহীদ আবু সাঈদের ভাই আবু হোসেন বলেন, ‘আমার ছোট ভাইকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। তার আত্মত্যাগ সবাইকে অনুপ্রাণিত করেছিল রাজপথে নামার জন্য। জুলাইয়ে অংশগ্রহণ করা অনেকেই একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলেন। তাদের সমস্যাগুলো দ্রুত সমাধান করার আর্জি জানাচ্ছি।’ একই সঙ্গে ভাইয়ের হত্যা মামলার রায় দ্রুত বাস্তবায়ন ও জুলাই স্মৃতি স্মারক সংরক্ষণ করার দাবি জানান তিনি।

নিহত ১৫ বছর বয়সি আলভীর বাবা আবুল হাসান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘সন্তানের বিচারের জন্য আমরা আন্দোলন করেছি। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার বিচারের নামে একধরনের প্রতারণা করেছে। এখন আমরা বর্তমান সরকারের কাছে একটি দৃশ্যমান ও সুষ্ঠু বিচারের প্রত্যাশা করছি।’ একই ধরনের আক্ষেপ ও বিচারহীনতার শঙ্কা প্রকাশ করে শহীদ ওয়াসিমের বাবা শফিক আলম বলেন, ‘আদৌ আমরা সন্তানের বিচার পাব কি না, তা জানি না। প্রধানমন্ত্রীর কাছে বলতে চাই, একজন সন্তান হত্যার বিচার হলেও আমরা শান্তি পাব।’

নিহত শহীদ মিরাজের বাবা আব্দুর রব মিয়া দেশের বিভিন্ন স্থানে জুলাই স্মৃতিফলকগুলোর অবহেলার চিত্র তুলে ধরে সেগুলো সুরক্ষার দাবি জানান। তিনি বলেন, ‘জুলাই শহীদদের কবরের নামফলক তৈরির জন্য বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ঘুরে আমাদের হয়রানির শিকার হতে হয়েছে। যাত্রাবাড়ীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে যেখানে জুলাই শহীদদের নাম লেখা থাকে, তার সম্মান যেন বজায় থাকে।’ শুধু জুলাই না, শাপলা চত্বর ও পিলখানা হত্যারও বিচার দাবি করেন তিনি।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে শহীদ আবদুল্লাহ জামিলের মা ফাতেমা তুজ জোহরা বিগত দিনের অবহেলার চিত্র তুলে ধরে বলেন, ‘আমার বড় ছেলে ৫ আগস্ট শহীদ হয়। এরপর আমার ১৩ বছরের ছোট ছেলের ক্যানসার ধরা পড়ে এবং আমার স্বামীও মারা যান। আমরা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কাছে যথাযথ সাহায্য পাই নাই। যাদের ডাকে আমরা সাড়া দিয়েছিলাম, তারা কেউ আমাদের কাছে আসে নাই। তবে ‘আমরা বিএনপি পরিবার’ ও তারেক রহমান সবসময় আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন।’

অনুষ্ঠানে আহত যোদ্ধারাও নিজেদের বঞ্চনার কথা তুলে ধরেন। আহত শাহীন মালু বলেন, ‘অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দুইভাবে আমাদের দেখেছে। তবে দেশ নিরাপদ থাকবে বিএনপির হাতে।’ অন্যদিকে ছাত্রদল কর্মী ও জুলাই যোদ্ধা মিল্লাত হোসেন অভিযোগ করে বলেন, ‘৫ আগস্টের আগে পর্যন্ত আমরা বিএনপি কর্মীরা কেউ পরিপূর্ণ চিকিৎসা পাইনি। আমরা ছাত্রদলের কর্মী হওয়ায় ভিন্ন রাজনৈতিক দলের পরিচয়ের কারণে আমাদের গেজেটে নাম ওঠানো বা মূল্যায়ন করা হয়নি।’

স্বৈরাচার পতন ও আত্মত্যাগ ২০২৪ সালের মাঝামাঝি সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে শুরু হওয়া ছাত্রদের আন্দোলন শেষমেশ সাড়ে ১৫ বছরের স্বৈরাচারী সরকার উৎখাতের আন্দোলনে রূপ নেয়। ৩৬ দিনের সেই ঐতিহাসিক ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মুখে ক্ষমতা ছেড়ে ভারতে পালাতে বাধ্য হন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আন্দোলন দমাতে তৎকালীন সরকারের পক্ষ থেকে গুলি, টিয়ারশেল ও চরম বলপ্রয়োগ করা হলেও ১৬ জুলাই রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদের নির্মম শাহাদাতের পর এই আন্দোলন গণবিস্ফোরণে রূপ নেয়।

সরকারি গেজেট অনুযায়ী জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদের সংখ্যা ৮৩৪ জন হলেও জাতিসংঘের তদন্ত প্রতিবেদনে ১ জুলাই থেকে ১৫ আগস্টের মধ্যে ১ হাজার ৪০০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হতে পারে বলে ধারণা দেওয়া হয়েছে। রক্তাক্ত জুলাই বিপ্লবের সেই শহীদদের স্মরণ, আহতদের পুনর্বাসন এবং বিচার প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করার লক্ষ্যেই এই ‘জুলাই জাতীয় সম্মেলন’ আয়োজন করা হয়।

 

ধ্রুব নিউজের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

💬 Comments

Login | Register
Ad for sale 270 x 225 Position (3)
Position (3)
Ad for sale 990 x 90 Position (4)
Position (4)