বিএনপির নেতৃত্বাধীন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথমবারের মতো জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলন শুরু হচ্ছে আজ রোববার। চার দিনের এই সম্মেলনে উন্নয়ন ও সংস্কার বিষয়ে ডিসি ও বিভাগীয় কমিশনারদের দেওয়া ৪৯৮টি প্রস্তাব আলোচনায় স্থান পাবে। তাঁরা ১ হাজার ৭২৯টি প্রস্তাব দিয়েছিলেন।
ডিসি সম্মেলনে মাঠ প্রশাসনের কাছে সরকার পরিচালনার দর্শন তুলে ধরবেন শীর্ষ নীতিনির্ধারকেরা। আজ সকাল সাড়ে ১০টায় রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই সম্মেলনের উদ্বোধন করবেন। ডিসি ও বিভাগীয় কমিশনাররা ৩০টি অধিবেশনে ৫৬টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের প্রতিনিধিদের মুখোমুখি হওয়ার পাশাপাশি রাষ্ট্রপতি, জাতীয় সংসদের স্পিকার ও প্রধান বিচারপতির সঙ্গে কার্য অধিবেশনে যুক্ত হবেন।
আজ রাত সাড়ে ৮টায় বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন ডিসিরা। আগামীকাল সোমবার জাতীয় সংসদ চত্বরে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সঙ্গে ডিসিরা সাক্ষাৎ করবেন। মঙ্গলবার বিকেল ৪টা থেকে ৫টা পর্যন্ত সুপ্রিম কোর্ট ভবনে প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে নির্দেশনা নেবেন ডিসিরা।
ডিসি সম্মেলন উপলক্ষে গতকাল শনিবার ছুটির দিনে সচিবালয়ে প্রেস ব্রিফিং করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। প্রেস ব্রিফিংয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. হুমায়ুন কবির সম্মেলনের বিস্তারিত তুলে ধরেন। মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, স্বৈরাচারী শাসনের পর একটি গণতান্ত্রিক অভিযাত্রা শুরু হয়েছে। জনগণের কাছে বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকারের জবাবদিহির একটি বিষয় রয়েছে। নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নের ব্যাপারে রাজনৈতিক নেতৃত্ব দৃঢ়সংকল্প। মাঠ প্রশাসনের সঙ্গে সরকারের কাজের বিষয়ে একটা ইন্টারেকশনই হচ্ছে এবারের সম্মেলনের উদ্দেশ্য। সরকারের সঙ্গে মাঠ প্রশাসনের বোঝাপড়া যেন বাড়ানো যায়, সে জন্য এবার সম্মেলনের সময় আগের চেয়ে এক দিন বাড়ানো হয়েছে।
কৃচ্ছ্রসাধনের অংশ হিসেবে এবারের ডিসি সম্মেলনের ব্যয় বরাদ্দ কমানো হয়েছে জানিয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, গত বছর ১ কোটি ৭৩ লাখ টাকা বরাদ্দ করা হয়েছিল, খরচ হয় ১ কোটি ২ লাখ টাকা। এবার বাজেট ধরা হয়েছে ৭১ লাখ টাকা। যে খরচগুলো না করলেই নয়, সেগুলোই শুধু করা হবে। কারণ রাষ্ট্রের অবস্থা ভালো না।
ডিসিদের দেওয়া প্রস্তাব
প্রেস ব্রিফিংয়ে এবারের সম্মেলন উপলক্ষে ডিসিদের দেওয়া ৫০টি প্রস্তাব তুলে ধরা হয়। এসব প্রস্তাবে জনসেবা বৃদ্ধি, স্বাস্থ্যসেবা বৃদ্ধি, জনদুর্ভোগ কমানো, রাস্তাঘাট ও সেতু নির্মাণ, পর্যটনের বিকাশ, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, জনস্বার্থ সংরক্ষণের বিষয়গুলো অগ্রাধিকার পেয়েছে। সবচেয়ে বেশি ৪৪টি প্রস্তাব স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ নিয়ে বলে জানান মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব হুমায়ুন কবির।
প্রস্তাবের মধ্যে রয়েছে, গাজীপুরে অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপন করে শিল্পকারখানাগুলোকে একটি নির্দিষ্ট অঞ্চলে স্থানান্তর; ইউনিয়ন উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলো পুনর্নির্মাণ/মেরামত, প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ এবং পর্যাপ্ত ওষুধ সরবরাহ নিশ্চিত করা, হাসপাতাল ও ক্লিনিকের চিকিৎসা বর্জ্য ও পয়োবর্জ্যের বিজ্ঞানসম্মত পরিশোধনাগার নির্মাণ; কওমি মাদ্রাসা স্থাপনের জন্য নীতিমালা প্রণয়ন এবং মাদ্রাসাগুলোকে ওই নীতিমালার আওতায় আনা; নোয়াখালীতে আন্তর্জাতিক মানের বিমানবন্দর স্থাপন; কৃষিপ্রধান জেলাগুলোতে স্থানীয় উদ্যোক্তা ও খামারিদের জন্য স্বল্প সুদে বড় ঋণ সুবিধা দেওয়া; মা ইলিশ রক্ষা অভিযানের সময় ভিজিএফ চাল দেওয়ার পাশাপাশি জেলেদের জন্য বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা; হাওর অঞ্চলে স্থায়ী মৎস্য অভয়াশ্রম স্থাপন।
প্রেস ব্রিফিংয়ে আরও জানানো হয়, এবারের সম্মেলনে গুরুত্ব পাবে ভূমি ব্যবস্থাপনা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, স্থানীয় সরকারের কার্যক্রম জোরদার করা, কর্মসৃজন কর্মসূচি, সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী এবং তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তির ব্যবহারসহ অন্যান্য বিষয়।
গত বছরের ডিসি সম্মেলনে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি ৪০০ প্রস্তাব বা সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছিল। এর মধ্যে স্বল্পমেয়াদি ৬১ শতাংশ, মধ্যমেয়াদি ৩৫ শতাংশ এবং দীর্ঘমেয়াদি ১৬ শতাংশ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হয়েছে।