ধ্রুব রিপোর্ট
ছবি: জুলকারনাইন সায়েরের ভেরিফায়েড ফেসবুক ওয়াল
প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) সাবেক মহাপরিচালক (২০১১-২০১৩) লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মামুন খালেদকে গ্রেফতার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। আলোচিত অনুসন্ধানী সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়েরের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজের তথ্য এবং সংশ্লিষ্ট সূত্রে এই গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। বর্তমান সরকারের পক্ষ থেকে এই পদক্ষেপকে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
দীর্ঘ অনুসন্ধানের পর গ্রেফতার
দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) প্রায় দেড় বছর আগে মামুন খালেদের বিরুদ্ধে অবৈধ উপায়ে শেয়ার ব্যবসা, ক্ষমতার অপব্যবহার, বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ এবং জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে অনুসন্ধান শুরু করে। দীর্ঘ তদন্তে তার বিরুদ্ধে প্রাথমিক তথ্যপ্রমাণ মেলায় ২০২৫ সালের মে মাসে তার দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। এরপর গোয়েন্দা নজরদারিতে থাকার পর অবশেষে তাকে আইনের আওতায় আনা হয়েছে।
বিডিআর হত্যাকাণ্ড ও নিরাপত্তা সংস্থার অপব্যবহার প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০০৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি পিলখানায় বিডিআরের নারকীয় হত্যাকাণ্ডের সময় থেকেই মামুন খালেদের ভূমিকা ছিল প্রশ্নবিদ্ধ। পরবর্তী সময়ে তিনি দেশের নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করে একটি ‘খুনে বাহিনীতে’ রূপান্তর করতে অত্যন্ত সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার সাথে বিশেষ সম্পর্ক
গ্রেফতারকৃত এই সাবেক সেনা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আরও একটি গুরুতর অভিযোগ হলো ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থার সাথে তার বিশেষ ও গভীর ঘনিষ্ঠতা। ক্ষমতার অপব্যবহার করে তিনি দেশের সার্বভৌমত্বের চেয়ে বিদেশি স্বার্থ রক্ষায় কাজ করেছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। তার এই ধরনের সংযোগ দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে বিবেচিত হতো।
বিচারের পথে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ
সাবেক এই প্রভাবশালী সেনা কর্মকর্তার গ্রেফতারকে বর্তমান সরকারের একটি সাহসী ও সময়োপযোগী পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। ক্ষমতার অপব্যবহার এবং রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ পদে থেকে দুর্নীতির মাধ্যমে সম্পদ অর্জনের বিচার নিশ্চিত করতে এই গ্রেফতার বড় ভূমিকা রাখবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বর্তমানে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডে নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।