শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারি ২০২৬
Ad for sale 100 x 870 Position (1)
Position (1)

জামায়াত আমিরের সঙ্গে ইইউপ্রতিনিধিদলের সাক্ষাৎ

❒ আসন্ন নির্বাচনে সর্বোচ্চসংখ্যক পর্যবেক্ষক পাঠাবে

ধ্রুব ডেস্ক ধ্রুব ডেস্ক
প্রকাশ : বুধবার, ৭ জানুয়ারি,২০২৬, ০৪:০৪ পিএম
জামায়াত আমিরের সঙ্গে ইইউপ্রতিনিধিদলের সাক্ষাৎ

❒ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) উচ্চপর্যায়ের একটি প্রতিনিধিদল ছবি: ধ্রুব নিউজ

জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) উচ্চপর্যায়ের একটি প্রতিনিধিদল। বুধবার সকালে জামায়াত আমিরের বসুন্ধরা কার্যালয়ে এই সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। ইইউর ডেপুটি চিফ, ইউরোপীয় এক্সটার্নাল অ্যাকশন সার্ভিসের এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় বিভাগের পরিচালক পাওলা পাম্পালোনির নেতৃত্বে প্রতিনিধিদলে ঢাকায় নিযুক্ত ইইউ রাষ্ট্রদূত এবং আরেক কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।

সাক্ষাৎ শেষে প্রেস ব্রিফিংয়ে জামায়াতের নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বলেন, আলোচনার মূল বিষয় ছিল আগামী জাতীয় নির্বাচন। এই নির্বাচনে তাদের পর্যবেক্ষক পাঠানো এবং রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশ ও ইইউর মধ্যে চুক্তির বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। আমরা বলেছি, বাংলাদেশে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অত্যন্ত জরুরি। বিগত ৫৫ বছরে দেশের সৃষ্ট সংকটের অন্যতম প্রধান কারণ ছিল সুষ্ঠু ও সঠিক নির্বাচনের অভাব। দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন খুব জরুরি। আগামী নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ না হলে সংকট আরো বাড়বে।

তিনি বলেন, গত কয়েক সপ্তাহে সরকার ও আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকাণ্ডে দেখা যাচ্ছে, প্রশাসন যেভাবে একটি দলের প্রতি আনুগত্য ও ঝুঁকে পড়েছে, তাতে আগামী নির্বাচন পাতানো হওয়া নিয়ে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। আমরা মনে করি, অতীতের মো পাতানো নির্বাচন বাংলাদেশকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যাবে। আমরা সরকার, নির্বাচন কমিশন এবং অন্যান্য কর্তৃপক্ষের প্রতি আহবান জানাই, তারা যেন এখনই নিরপেক্ষ হয়ে বাংলাদেশকে রক্ষার জন্য ভূমিকা পালন করে।

ডা. তাহের বলেন, ‘ইউরোপীয় ইউনিয়ন প্রতিনিধিদল বলেছে, তারা এই নির্বাচনে সর্বোচ্চসংখ্যক পর্যবেক্ষক পাঠাবে। কারণ এর আগের নির্বাচনগুলো সেভাবে অংশগ্রহণমূলক ছিল না। তারা রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে কথা বলেছে। আমরা বলেছি, আমরা যদি ক্ষমতায় যাই, তাহলে আন্তর্জাতিক মহলের সঙ্গে পরামর্শ করে রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তা ও তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার নিশ্চিতে ভূমিকা পালন করব ইনশাআল্লাহ। আগামী নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হওয়ার ব্যাপারে তারা আশাবাদী এবং আমাদের পক্ষ থেকেও বলা হয়েছে যে, নির্বাচন সুষ্ঠু করতে জামায়াতের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সবকিছু করা হবে।’

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, নির্বাচন সুষ্ঠু করতে রাজনৈতিক দলগুলোর সমঝোতা দরকার। তা না হলে শুধু নির্বাচন কমিশন আর সরকার দিয়ে নির্বাচন সুষ্ঠু হবে না। সে ক্ষেত্রে আমরা সবার সঙ্গে মতবিনিময়ের পক্ষে।

তিনি বলেন, ‘তারেক জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাতের সময় জামায়াত আমির বলেছেন, আগামীতে যারাই ক্ষমতায় আসুক, বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে সবার মধ্যে একটি কমন বোঝাপড়া থাকা উচিত। এক্ষেত্রে আমরা বলেছি, আমরা যদি সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাই, তাহলে শক্তিশালী একটি বিরোধীদলও থাকবে। আর আমাদের সঙ্গে জোটে যারা নির্বাচন করছে, তারা সবাই সরকারে থাকবে। তাই সেটাও কোনো দলীয় সরকার হবে না।’

আরেক প্রশ্নের জবাবে একটি দলের প্রধানের নিরাপত্তা নিয়ে সমালোচনা করে ডা. তাহের বলেন, ‘নির্বাচনের লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করতে হলে আমাকে দুজন পুলিশ দিলে আরেকজনকেও দিতে হবে। আমাকে তিন দিনে ভোটার বানালে আরেকজনকে চার দিন সুযোগ দেওয়া উচিত। কিন্তু তা হচ্ছে না। এটা সবাই দেখছে। আমরা আশা করি, সরকার ও নির্বাচন কমিশন সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে।’

সাক্ষাৎকালে জামায়াত আমিরের সঙ্গে আরো উপস্থিত ছিলেন নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান এহসানুল মাহবুব জুবায়ের এবং আমিরের পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মাহমুদুল হাসান।

ধ্রুব নিউজের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

💬 Comments

Login | Register
Ad for sale 225 x 270 Position (2)
Position (2)