❒ হোটেলে আগুন
❒ অন্যজনের শেষকৃত্য ভারতেই করতে চায় পরিবার
ধ্রুব ডেস্ক
ছবি: সংগৃহীত
কলকাতার নিউমার্কেট এলাকার মির্জা গালিব স্ট্রিটের একটি আবাসিক হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে নিহত সাত বাংলাদেশির মধ্যে পাঁচজনের মরদেহ বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে দেশে ফেরত পাঠানো হবে। একজনের মরদেহ সাতক্ষীরার ভোমরা সীমান্ত দিয়ে ফেরত পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। অপর নিহত রেবতী সরকারের মরদেহ কলকাতাতেই সৎকার করতে চায় তার পরিবার।
বেনাপোল দিয়ে যাদের মরদেহ দেশে পাঠানো হবে- তারা হলেন কুষ্টিয়ার বাসিন্দা ও আজকের পত্রিকার কুষ্টিয়া প্রতিনিধি দেবাশীষ দত্ত, তার স্ত্রী আফসানা শারমীন, তাদের তিন বছর বয়সী সন্তান শর্ণশীষ দত্ত, দেবাশীষের শ্বশুর মো. আকরাম আলী এবং ঢাকার সাভারের বাসিন্দা আহামেদ বাবু।
অন্যদিকে সাতক্ষীরার বাসিন্দা এস এম আলিমুজ্জামানের মরদেহ ভোমরা সীমান্ত দিয়ে দেশে পাঠানো হবে।
সাতক্ষীরার কালীগঞ্জের বাসিন্দা রেবতী সরকারের মরদেহ কলকাতায় সৎকারের বিষয়ে তার পরিবারের পক্ষ থেকে আগ্রহ জানানো হয়েছে। এ বিষয়ে কলকাতায় বাংলাদেশের ডেপুটি হাইকমিশনার মো. খালেদ শুক্রবার সংবাদ সম্মেলনে বলেন, রেবতী সরকারের ছেলে তার মায়ের মরদেহ কলকাতাতেই সৎকারের আগ্রহের কথা জানিয়েছেন। তবে এ জন্য পশ্চিমবঙ্গ সরকারের স্থানীয় কর্তৃপক্ষের অনুমতি প্রয়োজন। বিষয়টি ঢাকার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে জানানো হবে এবং সে অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রেবতী সরকারের ছেলে অনিক সরকার বলেন, প্রয়োজনীয় নথিপত্র ও আনুষ্ঠানিকতা শেষ হলে নিউমার্কেট থানার পুলিশ তার মায়ের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করবে। এরপর কলকাতাতেই তার সৎকার করার ইচ্ছা পরিবারের।
এদিকে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় পশ্চিমবঙ্গ সরকার স্পেশাল ইনভেস্টিগেশন টিম (সিট) গঠন করেছে। তদন্তকারীরা ইতোমধ্যে নিহতদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেছেন। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়া এবং বাংলাদেশ উপহাইকমিশনের চিঠি দেওয়ার পরও নিউমার্কেট থানা থেকে জেনারেল ডায়েরির (জিডি) কপি না পাওয়ায় মরদেহ দেশে ফেরানোর প্রক্রিয়ায় জটিলতা তৈরি হয়েছে। এতে নিহতদের স্বজনদের ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে।
ডেপুটি হাইকমিশনার মো. খালেদ বলেন, জিডির কপি না পাওয়ায় মরদেহ দেশে পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু করতে কিছুটা দেরি হচ্ছে। তবে শুক্রবার বিকেলের মধ্যে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের কাজ শেষ করার চেষ্টা করা হচ্ছে। সবকিছু ঠিক থাকলে শনিবারের মধ্যে মরদেহগুলো বাংলাদেশে পাঠানো হবে।
অন্যদিকে অগ্নিকাণ্ডের পর নিউমার্কেট এলাকার আরও ১৭টি আবাসিক হোটেলের বিরুদ্ধে শোকজ নোটিশ জারি করেছে পশ্চিমবঙ্গের দমকল বিভাগ। ব্যবসা পরিচালনার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় অনুমতি না থাকার অভিযোগে এসব নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
এর আগে একই এলাকায় ৯টি আবাসিক হোটেল ও চারটি রেস্তোরাঁর বিরুদ্ধে শোকজ নোটিশ জারি করা হয়েছিল। নতুন ১৭টি হোটেলসহ এ পর্যন্ত মোট ২৬টি হোটেল ও চারটি রেস্তোরাঁর বিরুদ্ধে নোটিশ জারি করল দমকল বিভাগ।