বেনাপোল (যশোর) সংবাদদাতা
শার্শা উপজেলা বিএনপি’র সভাপতি ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মো. হাসান জহির আনুষ্ঠানিকভাবে পশুহাটের উদ্বোধন করেন। ছবি: ধ্রুব নিউজ
যশোরের শার্শা উপজেলার নাভারণে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর আবারও চালু হয়েছে ঐতিহ্যবাহী পশুরহাট। স্থানীয় কৃষক-খামারি ও গরু ব্যবসায়ীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই পশুহাটটি পুনরায় চালু হওয়ায় সংশ্লিষ্টদের মাঝে উৎসাহ উদ্দীপনা লক্ষ্য করা গেছে।
নাভারণের পশুহাটটি প্রায় ১০০ বছরেরও বেশি পুরোনো একটি ঐতিহ্যবাহী হাট। ধারণা করা হয়, ব্রিটিশ আমলের শেষদিকে বা প্রায় এক শতাব্দী আগে স্থানীয় কৃষক-খামারিদের গরু-ছাগল ক্রয়-বিক্রয়ের সুবিধার জন্য এই হাটের সূচনা হয়।
এক সময় এটি শার্শা, ঝিকরগাছা, চৌগাছা ও আশপাশের অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ পশু বাণিজ্য কেন্দ্র ছিল এবং দূর-দূরান্ত থেকে ব্যাপারীরা এখানে গরু-ছাগল নিয়ে আসতেন। স্থানীয় সূত্র অনুযায়ী, চাঁদাবাজি, অনিয়ম, নিরাপত্তা সমস্যা ও ব্যবসায়ীদের হয়রানির কারণে কয়েক বছর আগে হাটটি বন্ধ হয়ে যায়।
আজ বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) শার্শা উপজেলা বিএনপি’র সভাপতি ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মো. হাসান জহির আনুষ্ঠানিকভাবে পুনরায় পশুহাটটি উদ্বোধন করেন। উদ্বোধনকালে স্থানীয় মসজিদের ইমাম পবিত্র কুরআন থেকে তেলাওয়াত করেন।
উদ্বোধনী বক্তব্যে মো. হাসান জহির বলেন, “এই গরুর হাটে যেন কেউ কোনো ধরনের হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়ে শতভাগ নিশ্চয়তা দেওয়া হবে ইনশাআল্লাহ।” তিনি জানান, গরু ব্যবসায়ীদের সুবিধার কথা বিবেচনা করে হাটের বিভিন্ন খরচ কমিয়ে আনা হয়েছে। গরুর ব্যাপারীদের জন্য গরু প্রতি খাজনা ৫০০ টাকার পরিবর্তে ৩০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। ক্ষেতওয়ালদের ক্ষেত্রে পার্শ্ববর্তী সাতমাইল গরুর হাটে যেখানে ১ হাজার টাকা পাস ফি নেওয়া হয়, সেখানে নাভারণে তা ৫০০ টাকা করা হয়েছে।
এছাড়া ছাগলের ক্ষেত্রে ক্ষেতওয়ালদের কেনাবেচার জন্য ১৫০ টাকা এবং ব্যাপারীদের জন্য ৫০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে বলে জানান তিনি। তিনি আরও বলেন, “হাটে আগত ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের জন্য সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ ও স্যানিটেশনের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। দূর-দূরন্ত থেকে আসা ব্যবসায়ীদের বিশ্রামের জন্য ভবিষ্যতে এখানে রেস্টরুম নির্মাণ করা হবে।”
এ সময় গরুর হাটের নিরাপত্তা কর্মীরা বিভিন্ন এলাকা থেকে আগত বিক্রেতা ও ক্রেতাদের রজনীগন্ধা ফুল দিয়ে স্বাগত জানান, যা উপস্থিত সকলের মাঝে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি করে।
ধ্রুব/এস.আই