মনিরামপুর (যশোর) সংবাদদাতা
পানি সরবরাহ ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন প্রকল্পে মণিরামপুর পৌরসভায় নাম মাত্র কাজ করা হলেও জনগণ কোন সুফল পায়নি। এই প্রকল্পের আওতায় যে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড বাস্তবায়নের লক্ষ্য ছিল তার কিছুই অর্জিত হয়নি। এতে কাঙ্ক্ষিত সুফল না পেয়ে এমন অভিযোগ করছেন স্থানীয়রা। অনুসন্ধানে দেখা যায়, প্রকল্পের জন্য একাধিক অবকাঠামো নির্মাণ ও সরঞ্জাম ক্রয় করা হলেও বাস্তবে সেগুলোর কার্যকর ব্যবহার করা হয়নি।
সরকারি ই-জিপি সিস্টেমে প্রকাশিত নোটিশ অনুযায়ী ১০৩৬৮০৪ নম্বর দরপত্রের মাধ্যমে মনিরামপুর পৌরসভা এলাকায় GOB–IDB অর্থায়নে একটি কম্পোস্ট প্ল্যান্টের অবকাঠামো উন্নয়ন কাজ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়। নোটিশে উল্লেখিত কাজের পরিধির মধ্যে ছিল—বর্জ্য প্রক্রিয়াজাতকরণের জন্য প্রয়োজনীয় শেড, হাউজ ও আনুষঙ্গিক অবকাঠামো নির্মাণ কিন্তু সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে মহাদেবপুর গ্রামে নির্মিত কম্পোস্ট প্ল্যান্ট এলাকায় বিপুল পরিমাণ কাঁচা বর্জ্য খোলা অবস্থায় পড়ে আছে। বর্জ্য আলাদা করা, প্রক্রিয়াজাতকরণ কিংবা কম্পোস্ট উৎপাদনের কোনো দৃশ্যমান কার্যক্রম চোখে পড়ে না। প্রকল্প পরিকল্পনায় ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও পরিবেশবান্ধব প্রক্রিয়াজাতকরণ ব্যবস্থাপনার কথা থাকলেও বাস্তবে ড্রেন ব্যবস্থাপনার কোন চিত্র চোখে পড়েনি।
এছাড়া, প্রকল্প নকশায় বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের লক্ষ্যে সোলার সিস্টেম ব্যবহারের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত থাকার কথা থাকলেও মাঠপর্যায়ে তার কোনো উপস্থিতি পাওয়া যায়নি। স্থানীয়দের অভিযোগ, ড্রেন ও সোলার সংক্রান্ত পরবর্তী যে টেন্ডার বা কাজের কথা বলা হয়, তার বাস্তবায়ন হয়নি।

উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল দপ্তরের একাধিক সূত্র জানায়, তাদের পক্ষ থেকে নির্ধারিত কাজ শেষ করে তা পৌর কর্তৃপক্ষকে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে পৌরসভার সংশ্লিষ্ট প্রকৌশল বিভাগ এ বিষয়ে সরাসরি দায়িত্ব নিতে অনাগ্রহ প্রকাশ করছে। ফলে রাষ্ট্রীয় অর্থায়নে পরিচালিত প্রকল্পের দায়ভার কোন দপ্তরের—সে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।
প্রকল্পের অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল—পৌর এলাকার জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং বর্জ্য থেকে অর্থনৈতিকভাবে লাভজনক উপাদান উৎপাদন। কিন্তু প্রকল্প চালু না থাকায় সে লক্ষ্য অর্জিত হয়নি। স্থানীয় নাগরিকদের বড় অংশই জানেন না, এই অবকাঠামো কীভাবে ব্যবহার হওয়ার কথা কিংবা এর মাধ্যমে তাদের এলাকার পরিবেশ কতটা উন্নত হতে পারত ।
প্রকল্প বাস্তবায়নে তদারকি কতটা কার্যকর ছিল, বরাদ্দকৃত অর্থের বিপরীতে কাজের মান ও পরিমাণ যথাযথভাবে যাচাই হয়েছে কিনা, জনগণের জন্য নেওয়া একটি প্রকল্প জনগণের কাজে আসছে না -এমন প্রশ্নের স্পষ্ট উত্তর না মিললেও মনিরামপুর উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগের কর্মকর্তা জয়দেব দত্ত একাধিকবার জানিয়েছেন, “আমরা আমাদের অংশের কাজ শেষ করে পৌর কর্তৃপক্ষকে বুঝিয়ে দিয়েছি।” অন্যদিকে পৌরসভার প্রকৌশলী উত্তম মজুমদার এ বিষয়ে দায় নিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে বলেন, “এই প্রকল্পে আমার কোনো দায়িত্ব নেই।”