অবিরাম আনন্দধারা
তহীদ মনি
মেঘদেরও কিছু গোপন কথা থাকে।
জগৎ সংসার তন্ন তন্ন করে খুঁজে আনা
জলীয় বাষ্পের মধ্যেও তারা জমিয়ে রাখে উষ্ণতা।
আকাশের তারাগুলো গুনেছে কে কবে?
অশ্রুকণায় লুকানো জয়ের মুকুট
দেখতে পায় কে কবে?
শুধু বিভৎস ভর্ৎসনাই শেষ নয় কখনো
পাল্টে যায় সব হিসেব দেখেও কেনো দেখো না।
তোমার আমার মাঝে যে সীমান্ত খেলা করে প্রতিদিন,
বরফ শীতল কারাগার
তার সাক্ষী থাকে দিনরাত।
অন্ধকারের ভেতর যে লুকায়িত আলো
কয়জনই বা তা খুঁজে পায়?
আমার আমিত্বে যারা বিভোর
যারা পায়ের কাছে পদানত করে
আর ঈর্ষা অহংকারের দুর্গ গড়ে
তারা কোনদিনই খুঁজে পায় না
আসমানের খবর।
হায় বেহুশ সমঝদার!
নীরবতাকে অস্বীকার করে
ভ্রুকুটির মন্ত্র পড় দিন রাত!!
সাগরতলের আলোয় উদ্ভাসিত যে জীবন
পায় কতটা তার সন্ধান?
আসমানের সুবাসে উদ্ভাসিত যারা
তাদেরকে কেন দেখাও অহংকারের ডালা?
হাওয়ায় দিন বদলের আওয়াজ
মুনীর আল মুসান্না
যাব বলেই এত দূর সরে ছিলাম,
ফিরে না–আসার প্রতিজ্ঞা বুকে নিয়ে।
হাওয়ার মতই মন বদলায়—
দিকচিহ্নহীন ভ্রমণে হঠাৎই
অদেখা আলো ঢুকে পড়ে
চৌচির উপত্যকার ভোরের জমিনে।
চরের মাঠ পেরিয়ে,
ফসলের সবুজে ছাপা হয় পুরো সমতল।
মাঝনদীর ভয়, সেই ডুবে–যাওয়া দিন
ধীরে ধীরে সরে যায় পেছনের ধুলোয়।
জলের কোল ঘেঁষে এখন
সব ডিঙি নৌকা ফিরছে ঘরের দিকে—
যেন প্রত্যাশারই চেনা গানের সুর
জেগে ওঠে আবারো
ভাঙা রাস্তায়, সন্ধ্যার জনপদে।
এ বঙ্গ–উপকূল জুড়ে,
এ আমার প্রিয় জন্মের বাংলাদেশে
নোঙরের সারি—
এতোদিন উড়িয়ে রাখা থমথমে অপেক্ষা,
আজ উড়ে আসা সারসের ডানায় ভেসে আসে
নতুন দিনের নিশ্চিন্ত বার্তা।
বন্ধু, বিশ্বাস রেখো—
যা হারিয়েছিলাম, সে-সবই
আরো গভীরভাবে ফিরে আসার
শুধু সময় খুঁজছে।
পরিবর্তনের এ আওয়াজ
শুধু স্বপ্ন নয়—
এ হলো ভোরের আগে সমুদ্রের
সেই প্রথম উষ্ণ ঢেউ,
যা বলে যায়—
এই ক্ষ্যাপা হাওয়ায়
দিন বদলাবেই এবার।
রাতের কালি
তাসনিয়া
আমার কাগজ — এমনকি কলমও জানে,
রাতের আকাশ কী গোপন কথা টানে।
ঝিকিমিকি তারা লাগিয়ে দেয় জিপার,
হালকা আলোয় জ্বলে নরম দীপ্তি তার।
আমি লিখি রহস্যময় চাঁদকে চিঠি,
আঁধারটা যেন গভীর হয়ে ওঠে নিঃশব্দে।
বিষণ্ণ উদার আকাশ ঘোষণা করে —
সে এক মুক্তচিন্তার যাত্রী, মেঘের নিচে।
তাই আমি লিখে যাই তারাভরা প্রকাশ,
শুধু যেন মনে হয় — আকাশটা আমারই এক আকাশ।।