তহীদ মনি
একটি কবিতার দীর্ঘশ্বাস
ইস্টিশনে এখন অন্ধকার,
এক্কাদোক্কার আসর নেই, নেই সজীব কোলাহল।
গল্লাছুট- বুড়িচ্চি খেলার দল হারিয়েছে তাদের স্বাধীনতা
নুনদাড়ি খেলতেও আসছেনা কেউ কাজ ফেলে
ইস্টিশনে এখন সুনসান নীরবতা।
মানুষগুলো সব বোবা,
হারিকেনের আলো, মাটির প্রদীপ ছেড়ে আসতে আসতে
নিওন আলোয় রঙ হারিয়েছে, বর্ণবাদের সমানতন্ত্র
সেলাই করা মুখে, গাঢ় ঠোঁট পলিশ! আহ্! সুখাচ্ছাদন!
ইস্টিশনে বেওয়ারিশ সময়ের লাশ!
মূল্যহীন উৎসবে মাতোয়ারা উদ্ভ্রান্তরা, অপরিনামদর্শী,
মদের চেয়ে পাত্র বেশি দরকারি, আর মানুষের চেয়ে লাশ...
বিচিত্রতা
মৃত্যুর কোনো অভিধান থাকেনা।
সীমানা প্রাচীর ভেঙ্গে আলোক উৎসব খেলা করে,
দ্রোহের আগুনে
নতমুখি আকাশের ছায়া থাকে না তার আয়নায়।
অনন্ত যাত্রার বাহন নেই কোনো।
ঘাসফড়িং, প্রজাপতি কত সহজে স্পন্দন তোলে স্বপ্নীল শৈশবে!
আমি রোদ্দুর মাখা ভোরের গল্প শুনি একাকী প্রান্তরে দাঁড়িয়ে,
বিভক্ত উচ্চারণে বোধের পাখিরা ওড়া উড়ি করে কৌণিক সহযাত্রায়।
হে, অনন্ত সম্ভাবনার শক্তিধর ভবিষ্যৎ।
রোপিত ফসলের মাস্তুলে,
তুমি উদাসীন কম্পন রেখো না।
রেখো না শূন্যস্থান,
অযুত নিযুত চিন্তাজালে
আমাদের হেঁসেলেও জ্বলতো
প্রদীপ বাতি—অজস্র অন্ধকার তাড়িয়ে
আমরাও দেখেছি
শস্যদানা আর ফুলের মত
ফুটে থাকা ভাতের থালা,
বেসাতি আনা ধামা খুলে
উদ্ভাসিত সওদাপাতি,
জ্বলজ্বল চোখে এনেছে সম্ভ্রান্ত আকাঙ্ক্ষার জোয়ার।
আলোর জন্য প্রার্থনা
আকাশের আলোয় অলি- গলি বেয়ে
সাপের চলাচল অলক্ষে গোপনে খুব
চোখ বুজতেই ধেয়ে আসে বন্য শ্বাপদ
বাসা বাঁধে আমাদের অস্তিত্বের গহীনে ,
হাঁক থেমে যায় পাহারাদারের _
নিঃসংকোচে কে যেন শুষে নেয় সুখটুকু
হাড় - কঙ্কাল পড়ে থাকে , জমা হয়
আচ্ছন্ন দিনের সময়ের কামরায় ......।
কুয়াশা ঘেরা রাত্রির চাদর
অনায়াসে জড়িয়ে যায় জীবনের প্রচ্ছদে।
ফসল তোলার দিন
ক্রমশ কর্ষিত জমিন নতুন
ফসলের হাতছানি দেয়,
আমার আমিত্বকে ধ্বংস করে
সম্ভাবনাময় ভবিষ্যৎ গড়ে তোলে।
রক্ত বীজে পুঁতে রাখা এই যে দ্রোহ
আজন্মকাল মেঘ বিহীন আকাশেও
বৃষ্টির ছোঁয়া আনে।
হায় রাখাল বালক!
আর কত মিথ্যে নেকড়ের ভয় দেখাবে?
অযথা মৃত্যুকে উপেক্ষা করেই
জীবন সূর্যের অমৃত পান করতে শিখেছি।
এখন আমার দিন-রাত্রি, সকাল-সন্ধ্যা সবই জ্যোৎস্না স্নাত,
প্রগাঢ় আবির রাঙ্গা শুভ্র সকাল।
আমাকে ভয় দেখিয়ে কোন লাভ নেই
সামনে বিজয়ের পতাকা আর
পিছনে অজস্র হায়েনা!
আমি বিজয়কেই বেছে নেব।
পেছনে ফেরার কোন তাগিদ আমার নেই।
হয় অন্ধকারের জীব!
বিষাক্ত জীহ্বায় যতই ফনা তোলো
বৃথা আস্ফালনে নিজকেই নিজে করবে ক্ষতবিক্ষত
নিজের বিষের ছোবলে নীল হয়ে যাবে নিজেই।