আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ইউক্রেন যুদ্ধের প্রেক্ষিতে রাশিয়ার ওপর কঠোর অর্থনৈতিক চাপ তৈরি করতে বহুল আলোচিত নিষেধাজ্ঞা সংক্রান্ত নতুন বিল অনুমোদন করেছে মার্কিন আইনপ্রণেতারা। প্রতিনিধি পরিষদে পাসের পর বিলটি এখন চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দপ্তরে পাঠানো হয়েছে।
স্থানীয় সময় বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) রিপাবলিকান নিয়ন্ত্রিত মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে বিলটি ২৬২-১৫৯ ভোটে পাস হয়। ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে হোয়াইট হাউসে প্রবেশের পর রাশিয়ার বিরুদ্ধে মার্কিন আইনপ্রণেতাদের এটিই সবচেয়ে বড় ও কার্যকর আইনি পদক্ষেপ। গত মাসে ৮৬-১১ ভোটে মার্কিন সেনেটেও বিলটি বড় ব্যবধানে অনুমোদন পায়। খবর এনডিটিভির।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আগেই জানিয়েছেন, তিনি বিলে স্বাক্ষর করবেন। এই বিলে রাশিয়ার জ্বালানি ও প্রতিরক্ষা খাত, প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের পাশাপাশি মস্কোর অর্থ উপার্জনের মূল উৎস হিসেবে ব্যবহৃত তেলবাহী ‘শ্যাডো ফ্রিট’ বা অবৈধ ট্যাংকার বহরকে মূল লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।
পাশাপাশি, রাশিয়ার কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ তেল ও গ্যাস ক্রয়কারী প্রধান দেশগুলোর (যেমন চীন ও ভারত) ওপর সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক বা ট্যারিফ আরোপের অভূতপূর্ব ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ট্রাম্পকে, যাতে যুদ্ধ বাস্তবায়নে ক্রেমলিনের আয়ের পথ পুরোপুরি বন্ধ করা যায়।
তবে রাষ্ট্রপতির হাতে বাড়তি শুল্ক আরোপের একক ক্ষমতা অর্পণ নিয়ে ডেমোক্রেটিক শিবিরে মতভেদ তৈরি হয়েছে। হাউস ফরেন অ্যাফেয়ার্স কমিটির শীর্ষ ডেমোক্র্যাট গ্রোগরি মিক্স খসড়াটিকে ‘ত্রুটিপূর্ণ’ আখ্যা দিয়ে বলেন, রাশিয়াকে সরাসরি শাস্তির চেয়ে ট্রাম্পের আমদানিসুবিধা ও রাজস্ব ক্ষমতা বাড়াতেই হোয়াইট হাউসের আইনজীবীরা এটি তৈরি করেছেন।
তবে রিপাবলিকানদের সঙ্গে অনেক ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতাও সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে বিলে সমর্থন দিয়েছেন। এর মূল উদ্যোক্তা ছিলেন রিপাবলিকান সেনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম, যিনি জুলাই মাসে আকস্মিকভাবে মারা যান। দীর্ঘ দেড় বছরের আইনি জটিলতা ও তর্ক-বিতর্ক শেষে চলতি বছরের নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের ঠিক আগেই বিলটি কংগ্রেসের চূড়ান্ত অনুমোদন পেল।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি শুরু থেকেই এই বিলে পাসের জোর তাগিদ দিয়ে আসছিলেন। যাতে চরম অর্থনৈতিক ও সামরিক চাপে ফেলে রাশিয়াকে আলোচনার টেবিলে আনা সম্ভব হয়।