বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ডেস্ক
আমিনবাজার বর্জ্য ভাগাড় ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো দেশীয় বর্জ্যভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্প থেকে পরিবেশবান্ধব ‘কার্বন ক্রেডিট’ অর্জনের আন্তর্জাতিক সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। রাজধানী ঢাকার আমিনবাজারে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি) পরিচালিত বর্জ্য বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি পরিবেশ সুরক্ষার পাশাপাশি দেশের অর্থনীতিতে এক নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিচ্ছে।
পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর কোনো গ্রিনহাউস গ্যাসের নিঃসরণ কমানো বা বায়ুমণ্ডলে তা মিশতে বাধা দেওয়ার স্বীকৃতিস্বরূপ ‘কার্বন ক্রেডিট’ প্রদান করা হয়। সার্বজনীন নিয়ম অনুযায়ী, প্রতি ১ টন কার্বন ডাই-অক্সাইড বা সমমানের ক্ষতিকর গ্যাস বাতাসে প্রবেশ করা রোধ করতে পারলে ১টি কার্বন ক্রেডিট অর্জিত হয়।
আমিনবাজারের এই গ্রিন এনার্জি প্রকল্পে দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ তৈরির কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছে। প্রকল্পটি থেকে ৪২.৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যে চীনভিত্তিক একটি প্রখ্যাত প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক চুক্তিও ইতোমধ্যে বাস্তবায়িত হয়েছে।
সাধারণত বর্জ্য স্তূপীকৃত হয়ে পচনের ফলে বিপুল পরিমাণ বিষাক্ত মিথেন গ্যাস নির্গত হয়, যা বায়ুমণ্ডলের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। আমিনবাজার বিদ্যুৎ কেন্দ্রে এই বর্জ্যকে পুড়িয়ে বা পুনর্ব্যবহারযোগ্য করে মিথেন গ্যাস ধ্বংস ও তা থেকে শক্তি উৎপাদন করা হচ্ছে। পরিবেশগত প্রভাবে সুনির্দিষ্ট ও বৈজ্ঞানিক পরিমাপ নিশ্চিতের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বাজার থেকে কার্বন ক্রেডিট সুবিধা নেওয়ার উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি হয়েছে। পরবর্তীতে এই অর্জিত কার্বন ক্রেডিট বিশ্ববাজারে পরিবেশবান্ধব বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে বিক্রি করে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা আয় করা সম্ভব হবে, যা দেশের সবুজ অর্থনীতিকে আরও ত্বরান্বিত করবে। উল্লেখ্য, বিশ্বব্যাংক-এর সাম্প্রতিক বাংলাদেশ গ্রীণ গ্রোথ এনালিসিস অনুযায়ী, বাংলাদেশ ২০০৬ সাল থেকে IDCOL-এর মাধ্যমে প্রায় ২.৫৩ মিলিয়ন কার্বন ক্রেডিট বিক্রি করেছে, যার মূল্য আনুমানিক ১৭ মিলিয়ন ইউএস ডলার বা প্রায় ২০৯ কোটি বাংলাদেশি টাকা।