তহীদ মনি
দীর্ঘদিনের নিয়ম ও রীতি ভেঙে এবার নতুন আইনে এসএসসি‘র উত্তরপত্র পুনঃনিরীক্ষা নতুন রীতিতে হতে যাচ্ছে। আগে যেখানে নম্বরের যোগফল মেলানো হতো এবং কোনো কারণে নম্বর দেওয়ার পরও সেটি বাদ গেলে সেটি সংযোজন করা হতো, এবার সেখানে কোনো নিরীক্ষক প্রয়োজন পড়লে নতুন করে খাতার পুনঃমূল্যায়ন করতে (আবার খাতা দেখে নম্বর দিতে) পারবেন। এই যুগান্তকারী পরিবর্তনের ফলে অনেক শিক্ষার্থীর ভাগ্য আরও ভালো হতে পারে, মিলতে পারে নতুন ও আশাব্যঞ্জক ফল।
যশোর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর এসএসসি পরীক্ষায় ৬৬ দশমিক ২৭ শতাংশ পাস করে। এ বছর এসএসসি পরীক্ষায় ১ লাখ ৩২ হাজার ৯৪০ জন পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে, যার মধ্যে পাস করেছে ৮৮ হাজার ৯৭ জন। এ বছর যশোর বোর্ডের এসএসসি ফলাফল ঘোষিত হয় ১০ আগস্ট। ৭ দিনের সময় দিয়ে ফলাফল সন্তোষজনক না হলে পুনঃনিরীক্ষার আবেদন করতে বলা হয়। সে হিসেবে ১৭ আগস্টের মধ্যে খাতা পুনঃনিরীক্ষার আবেদনের সময় ছিল। বোর্ডের সে আহ্বানে সাড়া দিয়ে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে মোট ৭৪ হাজার ৭১৭টি আবেদন জমা পড়ে। সবচেয়ে বেশি আবেদন জমা হয় ১৫ হাজার ৩৪৩টি করে ইংরেজি ১ম ও ২য় পত্রের জন্য। সবচেয়ে কম ৪টি আবেদন পড়েছে ক্রিশ্চিয়ান রিলিজিয়ন অ্যান্ড মোরাল এডুকেশনে।
এক মাসের মধ্যে খাতা পুনঃনিরীক্ষা সম্পন্ন করে নতুন ফলাফল দিতে হবে বোর্ডকে। সরকারের শিক্ষা মন্ত্রণালয় পুনঃনিরীক্ষার জন্য নতুন নিয়ম জারি করে। এ নিয়ম এতদিন ছিল না। তবে নতুন নিয়ম মূলত শিক্ষার্থীদের কল্যাণেই বলে দাবি বোর্ড কর্তৃপক্ষের।
নতুন নিয়ম ও বিধি অনুযায়ী, উত্তরপত্রের অভ্যন্তরে কোনো প্রশ্নের জন্য দেওয়া নম্বর কভার পৃষ্ঠায় তুলতে ভুল করলে তা যেমন সঠিকভাবে লিখতে হবে, তেমনি কোনো পরীক্ষক কোনো প্রশ্নের উত্তরের জন্য নম্বর না দিয়ে থাকলে পুনঃমূল্যায়নকারী সেটির নম্বর দিতে পারবেন। এমনকি পুনঃমূল্যায়নকারী পরীক্ষকের কাছে যদি প্রতীয়মান হয় খাতাটির মূল্যায়ন যথাযথ হয়নি, তাহলে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের অনুমতি নিয়ে সেটি সম্পূর্ণভাবে মূল্যায়ন করতে পারবেন। এভাবে শিক্ষার্থীদের মেধার যথাযথ মূল্যায়নের জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও বোর্ড কর্তৃপক্ষ জানায়। এই বিধি অতীতে কখনো প্রয়োগ করা হয়নি বলেও জানানো হয়। এছাড়া আরও কিছু নিয়ম করা হয়েছে বলেও জানানো হয়।
যশোর শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর এস এম হোসেন আলী জানান, ইতোমধ্যে খাতা পুনঃমূল্যায়নের জন্য বোর্ডে ১২টি টেবিল একটি আলাদা কক্ষে প্রস্তুত করা হয়েছে। রোববার থেকে এ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত নির্বাচিত ৩য় পরীক্ষক এ খাতাগুলো মূল্যায়ন করবেন। তাদের আসা-যাওয়া ও খাতা দেখার নিরবচ্ছিন্নতা রক্ষায় প্রয়োজনীয় আপ্যায়নের ব্যবস্থা করা হয়েছে। তাছাড়া বোর্ড চেয়ারম্যান প্রফেসর ফারুক অ্যাজ্যাম মু. আব্দুস ছালাম পুনঃনিরীক্ষা তদারকি ও সমন্বয়ের জন্য ৭ সদস্যবিশিষ্ট একটি তদারকি ও সমন্বয় কমিটি করেছেন। তারাও সেখানে সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করবেন। আর পরীক্ষা নিয়ন্ত্রণ বিভাগ পুরো কাজটি সম্পন্ন করবে।
তদারকি কমিটিতে আহ্বায়ক রয়েছেন পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর এস এম হোসেন আলী। সদস্যরা হলেন— উপপরিচালক (হি ও নি) ফজলুর রহমান, অডিট অফিসার খুরশিদ আলম মল্লিক, উপপরীক্ষা নিয়ন্ত্রক (উমা) মুহা. নিয়ামত ইলাহী, উপকলেজ পরিদর্শক এ এইচ এম মনিরুজ্জামান, উপবিদ্যালয় পরিদর্শক সুজন মিয়া এবং সহকারী প্রোগ্রামার মুরাদ হাসান।
পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক বলেন, সরকারি সিদ্ধান্ত মোতাবেক এ পদ্ধতিতে পুনঃমূল্যায়ন শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন সুযোগ সৃষ্টি করল এবং খাতার যথাযথ মূল্যায়ন হওয়ার পথ আরও প্রশস্ত করবে।