আন্তর্জাতিক ডেস্ক
স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজের স্ত্রী বেগোনা গোমেজ ছবি: গেটি ইমেজেস
স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজের স্ত্রী বেগোনা গোমেজকে দুর্নীতির মামলায় বিচারের মুখোমুখি হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন স্পেনের একটি আদালত। একই সঙ্গে বিচারক হুয়ান কার্লোস পেইনাদো তার পাসপোর্ট জব্দ, দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা এবং প্রতি মাসে দু'বার আদালতে হাজিরা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
অভিযোগ রয়েছে, বেগোনা গোমেজ মাদ্রিদের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে নিজের পেশাগত সুবিধা ও পদোন্নতির জন্য প্রধানমন্ত্রীর স্ত্রী হিসেবে নিজের প্রভাব খাটিয়েছেন। এর আগে তার বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাৎ ও প্রভাব খাটানোর অভিযোগ এনেছিল অতি-ডানপন্থী দুর্নীতিবিরোধী সংগঠন 'মানোস লিম্পিয়াস'। তবে প্রধানমন্ত্রী সানচেজ এবং তার স্ত্রী দুজনেই এসব অভিযোগ অস্বীকার করে মামলাটিকে 'রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত' বলে দাবি করেছেন।
বর্তমানে প্রায় আট বছর ধরে ক্ষমতায় থাকা প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজের সরকার একের পর এক দুর্নীতি তদন্তের কারণে তীব্র চাপে রয়েছে। তার মন্ত্রিসভার সাবেক ডানহাত হিসেবে পরিচিত হোসে লুইস আ বালোস মহামারীকালে ফেস মাস্ক কেনায় ঘুষ নেওয়ার অভিযোগে এবং সাবেক সোশ্যালিস্ট প্রধানমন্ত্রী হোসে লুইস রদ্রিগেজ জাপাতেরো একটি ঋণ কেলেঙ্কারিতে তদন্তের মুখে পড়েছেন। এছাড়া, সানচেজের ভাইয়ের বিরুদ্ধেও নিয়োগে প্রভাব খাটানোর একটি মামলা চলছে।
সম্প্রতি সানচেজের ক্ষমতাসীন 'স্প্যানিশ সোশ্যালিস্ট ওয়ার্কার্স পার্টি' (PSOE)-র মাদ্রিদ সদর দপ্তরেও তহবিল তছরুপের অভিযোগে তল্লাশি চালিয়েছে পুলিশ। বিচারিক তদন্তে বাধা দিতে দলীয় তহবিল ব্যবহার করা হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এসব অভিযোগের জেরে প্রধান বিরোধী দল 'পিপলস পার্টি'র নেতা আলবার্তো নুনেজ ফেইহো প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করেছেন। আগামী বছরের আগস্টে স্পেনের সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও, চলমান বিতর্কের কারণে সানচেজের বামপন্থী জোট সরকার মেয়াদ পূর্ণ করার আগেই ভেঙে পড়তে পারে বলে ধারণা করছেন বিশ্লেষকরা।
সূত্র: সিএনএন